আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > জাতিসংঘের অটিজম বিষয়ক শুভেচ্ছাদূত পুতুল

জাতিসংঘের অটিজম বিষয়ক শুভেচ্ছাদূত পুতুল

19665530_1100730746726343_1506503550363609810_nপ্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলকে অটিজম ডিসঅর্ডার বিষয়ে বিশ্বখ্যাত চ্যাম্পিয়ন ঘোষনা দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এর শুভেচ্ছা দূত হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ডাব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং ডাব্লিউএইচও’র সিদ্ধান্ত ঘোষণাকালে বলেন, ‘অটিজম সনাক্তকরণে সায়মা বিচক্ষনতার ও জ্ঞানের মাধ্যমে যে শ্রম দিচ্ছেন তা প্রশংসনীয়। এছাড়াও তিনি আক্রান্তদের দূর্ভোগ লাঘবে ও জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।’

ড. পুনম খেত্রপাল সিং আরো বলেন, সায়মা ওয়াজেদ হোসেন তার নিজ দেশ বাংলাদেশে স্বাস্থ্য এজেন্ডায় অটিজমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালান এবং অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার ও অন্যান্য মানসিক এবং নিউরোডেভলোপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস এ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আকর্ষণে সহায়তা করেন। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোতে সচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হিসাবে তার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে স্কুল সাইকোলজিস্ট হিসেবে এপ্রিলে ১১টি দেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য অটিজম বিষয়ক চ্যাম্পিয়ন হিসাবে নিয়োগ দেয় ডাব্লিউএইচও। এপ্রিলে ভুটানে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অটিজম বিষয়ক অন্যান্য নিউরো ডিসঅর্ডারের ওপর থিম্পু ঘোষণা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সায়মা। ওই ঘোষণা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে কার্যকর সেবা ও অটিজমসহ অন্যান্য নিউরো ডিসঅর্ডারে আক্রান্তদের সহায়তায় জাতীয় সক্ষমতা জোরদার কার্যক্রম অগ্রাধিকারে রেখে সমাজ ও সরকারের ভূমিকার দাবি করা হয়েছে। পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, শুভেচ্ছা দূত হিসাবে সায়মা থিম্পু ঘোষণার প্রসারেও কাজ করবেন।

saima-0220170706182017

পুতুল নামে পরিচিত সায়মা ওয়াজেদ হোসেন সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এই ফাউন্ডেশন কাজ করে। ২০১১ সালে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করা হলে সেখানে  ভারতের সে সময়ের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীসহ আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ যোগ দেন। তার এ প্রচেষ্টার ফলে নিওরোডেভলোপমেন্টাল ডিজএবলিটি প্রটেকশন ট্রাস্ট এ্যাক্ট ২০১৩ পাস হয়। তার দেয়া প্রস্তাবের আলোকে জাতিসংঘ কয়েকটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।

ডাব্লিউএইচও’র মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বিভিন্ন জাতীয় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক কমিটি ও নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেন। তিনি টরেন্টোর অন্টোরিও ফিজিওলোজিকেল এসোসিয়েশন এবং অটিজম বিষয়ক এবং গ্লোবাল অটিজম বাংলাদেশ বিষয়ক এনডিডি’র একজন আন্তর্জাতিক পরার্মশক। বাংলাদেশ, ভূটান, উত্তর কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও তিমুর হু’র দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্র। এছাড়াও অটিজম নিয়ে তার গবেষণা ও অনবদ্য কাজের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে পেয়েছেন স্বীকৃতি। অটিজম বিষয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদানের জন্য ডাব্লিউএইচও তাকে ২০১৪ সালের জন্য এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডও দিয়েছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হু’র দেয়া পাবলিক হেলথ এ্যাওর্য়াড লাভ করেন।

এন টি

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে