আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > হলি আর্টিজান হামলা: বিদেশি বন্ধুদের মন থেকে কি ভয় কেটেছে ?

হলি আর্টিজান হামলা: বিদেশি বন্ধুদের মন থেকে কি ভয় কেটেছে ?

হলি আর্টিজান হামলা: বিদেশি বন্ধুদের মন থেকে কি ভয় কেটেছে ?

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:  

হলি আর্টিজানে নারকীয় হামলায় নিহত হয়েছিলেন জাপান, ইতালি ও ভারতের ১৭ নাগরিক। উন্নয়ন সহযোগী তিন দেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের মাঝেও আতংকের সৃষ্টি হয়। ঘটনার এক বছর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি বদলেছে। ঢাকা এখন অনেক নিরাপদ শহর। তবে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

যেভাবে হলি আর্টিজানে হামলা

gulshan_terrorist_attack2গত বছরের পহেলা জুলাই, রাত পৌনে নয়টা। প্রথমেই হলি আর্টিজানে ঢোকে জঙ্গি নিবরাস ইসলাম ও মীর মোবাশ্বের। এরপরই ঢোকে রোহান ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। সবার কাঁধেই ছিল ব্যাগ। সাথে ছিলো একে-টোয়েন্টি টু রাইফেল, পিস্তল, ৪ শ’ রাউন্ডেরও বেশি গুলি; গ্রেনেড, চাপাতি, চাকু আর তরবারি।

জঙ্গিদের মধ্যে ৩ জনই ঢাকার উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া তাদের।

হলি আর্টিজানে ঢুকে প্রথমেই ১৭ বিদেশি নাগরিককে জিম্মি করে জঙ্গিরা। আর জিম্মি করার আধা ঘন্টার মধ্যেই তাদের গুলি করে। পরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় তাদের।

বিদেশি নাগরিকদের কেউ নিজেদের, কেউবা আবার বাবা-মা’র কর্মসূত্রে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।

আতঙ্কে বিদেশিরা:

পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাংলাদেশে অবস্থানরত উন্য়ন সহযোগী দেশগুলোর নাগরিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আতঙ্কের পরিবেশ নেই দাবি পুলিশেরasaduzzaman-miah-dmp-1

ঘটনার পর ঢাকার নিরাপত্তায় ব্যপক পরিবর্তন আসে। একের পর এক জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আলাদা অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলাম এবং আরেক বিপজ্জনক জঙ্গি নুরুল ইসলাম মারজানসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি। পুলিশ বলছে, আতংক, উদ্বেগ দূর হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার পর কূটনৈতিক এলাকাসহ পুরো ঢাকার নিরাপত্তা সুশৃঙ্খল করা হয়েছে। জঙ্গিদের শক্তি একেবারেই কমে গেছে। তিনি জানান, ঢাকার এক কোটি মানুষের ডাটা এখন পুলিশের কাছে আছে। এখন আর জঙ্গিদেও ঢাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালানোর বাস্তবতা নেই। তাই নিরাপত্তা নিয়েও এখন আর কোনো সংশয় দেখছেন না এই পুলিশ কর্তা।

সংশয় কি কেটেছে?

পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছে এ নিয়ে কারোরই দ্বিমত নেই। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ বলেন সংশয়, উৎকন্ঠা পুরোপুরি কাটেনি। তিনি বলেন, এখনো উন্নয়নসহযোগী দেশগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তার দিকটি সুক্ষভাবেই দেখে। এখনো তাদের মধ্যে কিছুটা ভয় রয়ে গেছে বলেই তারা নিরাপত্তার বিষয়গুলো এতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে