আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় ওদের

দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় ওদের

হলি আর্টিজান হামলা: বিদেশি বন্ধুদের মন থেকে কি ভয় কেটেছে ?

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার এক বছর আজ। সেদিনের ওই নির্মম ঘটনার সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন অনেকে। ঘটনার রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত জিম্মি অবস্থায় ছিলেন অনেকে। চোখের সামনেই দেখেছেন জঙ্গিদের নারকীয় তা-, গুলি, জবাই আর রক্ত। ভয়াবহ সেই স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় তাদের। ঘুমের মধ্যে এখনও দেখতে পান জঙ্গিদের নির্মমতা।

তখন ছিলো রোজার মাস। ইফতার শেষে সন্ধ্যার পর অতিথিরা আসতে শুরু করে রেস্তোরাঁয়। তখন সেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৭০ জন কর্মী। এছাড়া দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ আরও প্রায় ৩৫ জনের উপস্থিতি ছিল সেখানে।

জঙ্গিরা ঢুকেই গুলি করে, গ্রেনেড ছুড়ে আতঙ্কেও পরিবেশ সৃষ্টি করে। কারো ভাবনাতেই ছিলো না ক’টনৈতিক এলাকায় এভাবে হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য স্পষ্ট হয় জঙ্গি হামলা হয়েছে হলিআর্টিজানে।

জঙ্গিরা মুহূর্তের মধ্যেই রেঁস্তোরার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। ভিতর থেকে গুলি ও গ্রেনেড ছুঁড়তে থাকে। তাদের ছোড়া গ্রেনেড গুলিতে আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমদ ও রবিউল ইসলাম।

জঙ্গি নিবরাস, মোবাশ্বের, রোহান, উজ্বল ও পায়েল রেঁস্তোরায় থাকা দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। জিম্মি হয় রেঁস্তোরা কর্মরীরাও। সেদিন চোখের সামনেই তারা দেখেছেন গুলি, জবাই আর রক্ত।

সেদিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় তাদের।

আকাশ খান ও শাহরিয়ার দুজনই সেদিন কাজ করছিলেন হলি আর্টিজানে। আকাশ জানান ওইদিনের ঘটনা বারবারই ঘুমের মধ্যে দেখতে পান তিনি। আর ওই সময়টা ভয়ে কেমন যেন কুকড়ে ওঠেন বলে জানালেন আকাশ।

আকাশ বললেন, ওইদিনের রক্তাক্ত ঘটনা কোনো দিনই ভুলতে পারব না।

শিশির বৈরাগীও কাজ করতেন হলি আর্টিজানে। তিনি জানান, আল্লাহু আকবর বলে গুলি করতে করতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলার পরপরই তারা একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন তারা। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা বাথরুমের দরজায় টোকা দিয়ে তাদেও বলেন, তোরা কি মুসলমান আর বাঙালি। সেসময় তারা হ্যা সূচক উত্তর দিলে বেঁচে যান তারা।

সমীর বাড়ৈও ছিলোন রেঁস্তোরার কর্মী। তিনি জানান, ওইদিন একটি বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা কয়েকজন। ভয় আতঙ্কে গাদাগাদি করে ছিলেন ওই বাথরুমে। মৃত্যু যেন কড়া নাড়ছিলো। তিনি বলেন, দুঃসহ ওই ঘটনা কিছুতেই মন থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না তিনি।

সেদিনের বিভীষিকাময় দৃশ্য যারা দেখেছেন এখনও অজানা এক আতঙ্ক তাদের তাড়া করে। ঘুমের মধ্যে শুনতে পান জঙ্গিদের পায়ের আওয়াজ।

dmp_16628

হলি আর্টিজানে হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে যান ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই হলি আর্টিজানের কাছে যায়। সেসময় ওসি সালাউদ্দিন ও এসি রবিউল আমার সাথে ছিলো। হলি আর্টিজানের বাথরুমে আটকে পড়াদেও কেউ তাকে ফোন করে জানান, পুলিশ সামনের দিক থেকে ফায়ার করতে করতে এগিয়ে গেলে তারা বেরিয়ে যেতে পারবেন। সেসময় ফোর্স নিয়ে তারা ফায়ার করতে করতে এগিয়ে যান। আটকে পড়াদের কেউ কেউ বেরিয়েও আসেন। তবে তারা ফেরার ফেরার সময় বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ হয়। আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, বিস্ফোরণের পর তিনি পড়ে যান। পরে তিনি তাঁর সহকর্মীদেও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেন।

হলি আর্টিজানের জিম্মি সংকটের অবসান হয় ঘটনার পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অপারেশন থান্ডার বোল্টে। ১২ মিনিটের ওই অভিযানের আগে ১২ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধ পরিস্থিতি আর যেন কখনই ফিরে না আসে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে