আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > সুদানের কৃষ্ণকলি নিউ ইয়র্কের সুপার মডেল

সুদানের কৃষ্ণকলি নিউ ইয়র্কের সুপার মডেল

শরণার্থী থেকে সুপার মডেল

প্রতিচ্ছবি বিনোদন ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের বিশ্বখ্যাত বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পণ্যের সুপার মডেল হলেন দক্ষিণ সুদানের কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী মারি মালেক। ল্যানভিন ও ভোগসহ বেশ কয়েকটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ-মডেলও হয়েছেন তিনি।

মারি নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন দক্ষিণ সুদানের একটি শরণার্থী শিবির থেকে। তখন তার বয়স ছিল সাত থেকে আট বছর। মারি এখন নিউইয়র্কভিত্তিক একজন সুপার মডেল। তার বাবা সুদান সরকারের অর্থবিভাগে কাজ করতেন, আর মা ছিলেন সেবিকা। পরিবারের সঙ্গে শিশু মারি দক্ষিণ সুদানে থাকার সময় সেখানে যুদ্ধ শুরু হলে তাদের পরিবারটি প্রথমে আশ্রয় নেয় মিসরে। পরে সেখান থেকে চলে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে। ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক চলে আসেন মারি।

mari-malek

নিউজার্সিতে চার বছর থাকার পর পরিবারটি নিউইয়র্কে চলে আসে। মারি মালেক কিশোরী তখন। এরপর অনেক কিছু করার চেষ্টা করে শেষমেষ র‌্যাম্প মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর আস্তে আস্তে সুপারমডেল হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু ভুলে যাননি পূর্বপরিচয়। তাই নির্যাতিত মানুষের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন মারি।

মারি বলেন, আমি এখনও কমবয়সের স্মৃতি মনে করতে পারি। আরব সেনারা আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। সবকিছু কেড়ে নেয়। আর আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। মারি মালেক ভোলেননি শরণার্থী শিবিরে অসহনীয় যন্ত্রণার দিনগুলোর কথাও। তিনি বলেন, না, আমি স্মৃতি ভুলতে পারিনি। এখনো যুদ্ধ চলছে। মানুষের কষ্ট আমাকে কাঁদায়। আমি সব সময়ই নির্যাতিত মানুষের পক্ষে, মানুষ ও মানবতার পক্ষে।

অনেকদিন ধরেই মারি মালেক জড়িত রয়েছেন বিভিন্ন সেবামূলক কাজের সঙ্গে। তিনি কাজ করছেন জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনেও। তার এই মনোভাবের জন্য অভিনন্দন জানান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দক্ষিণ সুদানের শিশুদের পড়ালেখার জন্য তিনি সেখানে কয়েকটি স্কুল চালু করেছেন। সেখানে শিশুদের পড়াশোনা ছাড়াও বই-পুস্তক ও খাবার দিয়ে সাহায্য করেন তিনি। এই খরচ তিনি যোগাড় করেন মডেলিং পেশা থেকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে