আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ফ্যাশন এন্ড বিউটি > রূপসজ্জার ইতিহাস ও নানা কথন

রূপসজ্জার ইতিহাস ও নানা কথন

ancient-egypt-papyrus_zqifqk

নাজমুন নাহার তুলি:

সৃষ্টির উষালগ্ন থেকে সৌন্দর্যের  প্রতি মানুষের আকর্ষন ও আরো সুন্দর হয়ে ওঠার প্রবনতা লক্ষনীয়। সময় বদলেছে, বদলেছে মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি ।প্রযুক্তি ও আধুনিকতা বদলে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। সেই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টেছে রুপচর্চারর ধরণ, মাধ্যম ও উপাদান।

আদিম মানুষ বন্যপ্রাণী থেকে নিজেকে রক্ষা, আর বিরূপ প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলার  জন্য এবং শিকারের সুবিধার্থে ব্যবহার করত মাটি পাথর থেকে আবিষ্কৃত রঞ্জক পদার্থ, যা দিয়ে বর্ণচোরা হতে গায়ে আকতো নানা উল্কি ও নকশা।

নিজেকে রঞ্জিত করার ধারনার উদ্ভব ঘটে সর্বপ্রথম মধ্য আফ্রিকায়। কিন্তু পরবর্তীতে মূলত খ্রিষ্টের জন্মের দশ হাজার বছর পুর্বে মিশরিয়রা সর্বপ্রথম এই সৌন্দর্যচর্চা  ব্যাপারটি, নিজেকে আকর্ষনীয় করে তোলার জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। তখন থেকেই বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান ও শেষকৃত্যে সাজসজ্জার প্রচলন শুরু হয়। মিশরীয়দের মমিগুলো তার প্রকৃষ্ট উদাহরন।

প্রসাধনী (কসমেটিক্স) শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ kosmeticos থেকে ১৭ শতকে, মূলত গ্রীকরাই  এই শিল্পকে দিয়েছে অনন্যমাত্রা । তাদের সৌন্দর্য ও প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি, যার আশির্বাদপ্রাপ্তরাই ছিল রুপ সৌন্দর্যের আধার। তারা মসৃন , সাদাটে, স্বচ্ছ ত্বকের গুনকীর্তন করত।

পরবর্তীতে রোমানরা এই ক্ষেত্রে  অনেক অবদান রাখে। ধীরে ধীরে সভ্যতার ক্রমবিকাশঘটার ফলে মধ্যপ্রাচ্য, চিন, জাপান, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ অন্যান্য দেশে প্রসাধনী শিল্পের বিকাশ ঘটে।

১৯০০ সালের দিকে অভূতপূর্ব স্থান দখল করে নেয় প্রসাধনী শিল্ব। মেকাপ বা ত্বকের যত্ন বিষয়টি রীতিমত বিখ্যাত হকে ওঠে  অভিজাত মহলে।  ত্বকের রঙ সাদাটে রাখার প্রচলনই ছিলো তখনকার রীতি। ১৯১০ সালে  ইউরোপ ও আমেরিকায় ব্যাপক প্রসার ঘটে প্রসাধন  সামগ্রীর। ‘দ্যা ডেইলী মিরর বুক’ এর মতে ‘প্রসাধনী শিক্ষিত ও অভিজাত  শ্রেণীর  ব্যবহারের জন্য’।  ১৯২০   সালের দিকে বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রীতে ব্যাপক সাড়া জাগায় মেকাপের  এর খুঁটিনাটি সবকিছু।  প্রাচীন চীনে সাজগোজ কে, সামাজিক শ্রেণীবৈষম্যের মাপকাঠি হিসেবে গণনা করা হত।

a5510dfdace97796e469314992c437a4

প্রকৃতি থেকে আহোরিত বিভিন্ন মূল্যবান উপাদানই ছিলো মানুষের সৌন্দর্যচর্চার নিত্যসঙ্গী। পশুর চর্বি থেকে তৈরী হত ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার যা বর্তমান যুগের স্কিন কেয়ার রুটিনে অপরিহার্য একটি জিনিস। অলিভওয়েল,নানারকমের খড়িমাটি , রঞ্জক পদার্থ, ফুলের নির্যাস, পশুর চর্বি, পাতার নির্যাস, সামুদ্রিক লবন, ফলের রস, সুগন্ধি, কয়লা, গোলাপজল, মধু, বিভিন্ন রকমের তেল ও মসলা, হেনা, জাফরান, (কথিত আছে রানী ক্লিওপেট্রা জাফরান  মেশানো দুধে গোসল করতেন) ইত্যাদি নানা উপকরন প্রাচীনকাল থেকে এখন পর্যন্ত রুপচর্চার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

যদিও বাজারে নানা রকমের রাসায়নিক উপাদানে তৈরী প্রসাধনী পাওয়া যায়, তবু চাহিদার দিক থেকে প্রাকৃতিক উপাদানের আবেদন এখনো আকাশচুম্বী। বাংলাদেশ এই শিল্পে অনেক পিছিয়ে আছে এখনো, যদিও পর্যাপ্ত কাঁচামালে ভরপুর আমাদের দেশ। আমাদের উচিৎ ভেজাল বা নকল পণ্য না বানিয়ে, নিজেদের মেধা, মনন ও গবেষনার সমন্বয়ে বাংলাদেশের মানুষের ত্বকের ধরন অনুযায়ী আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে পণ্য তৈরী করা উচিত।

দেশ সীমানার গন্ডি পেরিয়ে প্রসাধনী শিল্প বহুল প্রচলিত ও উন্নত শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শুধুমাত্র সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজেকে ভিন্নরুপে আবিষ্কার করা, নিজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে সৌন্দর্যচর্চা এক শক্তিশালী মাধ্যম। শুধু ফর্সা বা সাদাটে নয় বরং যার যার নিজস্ব রঙের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজেকে আত্বপ্রত্যয়ী করে গড়ে তোলার প্রেরণাজোগায় আজকের প্রসাধনী শিল্প।

organic-beauty-products

তথ্যসূত্র ও ছবি:

www.cosmeticinfo.org

www.wickipidea.com

www.youtube.com

www.annmariegianni.com

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে