আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিজ্ঞান প্রযুক্তি > বিশ্বের প্রথম এসএমএস

বিশ্বের প্রথম এসএমএস

 

5sms

প্রতিচ্ছবি ডেস্ক: ডাক বাক্সে লিখা চিঠি শর্ট মেসেজ সার্ভিস আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা বিলীনের পথে। মোবাইল প্রযুক্তি আসা মাত্রই হাতে লিখা চিঠি তেমন আর কাজে পড়েনা। মুহূর্তে বার্তা পৌঁছানো যেখানে যায় সেখানে কি আর হাতে কলমে লিখে তারপর ডাকবাক্সে ফেলে আবার পৌছতে কতদিন লাগবে তার অপেক্ষা করতে কেউ সময় নষ্ট করতে চায়? অবশ্যই চাইবেওনা। সেজন্য বিশ্বে শর্ট মেসেজ সার্ভিস বা এস এম এস খুব বেশি জনপ্রিয়।

শর্ট মেসেজ সার্ভিস (এসএমএস) যার বাংলা নামকরণ করা হয়েছে খুদে বার্তা। আবার সময়ের সাথে সাথে এসএমএসের আধুনিক সংস্করণ হয়ে রুপ নিয়েছে ম্যাসেজিং বা চ্যাটিং এ । তবে জানেন কি পৃথিবীর প্রথম এসএমএসে কী লেখা হয়েছিল?

আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ইডিএন নেটওয়ার্ক জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশল সংস্থা ‘সেমা গ্রুপ’-এর ২২ বছর বয়সী প্রকৌশলী নেইল পাপওয়ার্থ বিশ্বের প্রথম এসএমএস পাঠান। না তাঁর প্রেমিকার কাছে নয়। তিনি তাঁর বার্তাটি পাঠান বন্ধু রিচার্ড জারভিসের মোবাইল ফোনে। তবে এই বার্তাটি পাঠানোর জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করেননি নেইল। কম্পিউটার থেকে তিনি এই বার্তাটি পাঠান। তাঁর এই বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল ১৯৯২ সালের ৩ ডিসেম্বর।

প্রশ্ন হচ্ছে কী লেখা হয়েছিল সেই বার্তায়? তারিখটা যেহেতু ছিল ৩ ডিসেম্বর তাই ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে নেইল লিখেছিলেন, ‘মেরি ক্রিসমাস’ অর্থাৎ শুভ বড়দিন। ভোডাফোন মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নেইলের বার্তাটি পৌঁছে যায় তার বন্ধুর কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের জিএসএম ক্যারিয়ার ওমনিপয়েন্ট কমিউনিকেশনস সে দেশে প্রথম টেক্সট ম্যাসেজিংয়ের কাঠামো তৈরি করে। কিছুদিনের মধ্যে তা মার্কিন মুলুক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় ১৬০ শব্দের বেশি এসএমএস পাঠানোর সুযোগ ছিল না।

 

প্রথম দিকে অবশ্য এসএমএস প্রযুক্তি মুখ থুবড়ে পড়ে। এটি ব্যবহারকারীদের মাঝে অতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। পরিসংখ্যান জানায়, ১৯৯৫ সালে জিএসএম সার্ভিস ব্যবহারকারীরা প্রতিমাসে গড়ে মাত্র ০.৪ টি টেক্সট মেসেজ পাঠাত। অনেক ব্যবহারকারী অতিরিক্ত বিল ওঠার ভয়ে মেসেজ বা বার্তা পাঠাতে চাইত না।

তবে বর্তমান সময়ে এসএমএস যোগাযোগের অন্যতম একটি মাধ্যম। এসএমএসের মূলনীতিকে আধুনিকভাবে ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে ভাইবার, মেসেঞ্জার, ইমোর মতো যোগাযোগের অ্যাপসগুলো। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটর শুধু এসএমএস সার্ভিস থেকে আয় করেছে প্রায় ৫৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে যে শুধু আয় বেড়েছে তাই নয়। এসএমএসের মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে অক্সফোর্ড ডিকশনারি তাদের তালিকায় ‘লল’ (লাফিং আউট লাউড অথবা লাফ আউট লাউড) শব্দটি যুক্ত করেছে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে