আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > সিলেট > বন্যায় হাওর পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

বন্যায় হাওর পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, হাওর পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

প্রতিচ্ছবি মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

সপ্তাহ জুড়ে প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার ৪টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বন্যায় মৌলভীবাজার জেলা সদর উপজেলা সহ কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ৮০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুলাউড়া পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের প্রায় ৯০ভাগ ঘড়-বাড়ি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। পৌরসভা এলাকার বিহালা, সোনাপুর, বিছরাকান্দি এলাকায় মানুষের ঘরে হাটুপানি।unnam

এছাড়াও বরমচাল, ভাটেরা, কাদিপুর ও জয়চন্ডি, ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রয়েছেন পানিববন্দি। জুড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ রয়েছেন পানিবন্দি।

বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর সংলগ্ন বর্ণি, তালিমপুর, সুজানগর ও দাসেরবাজার ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার অন্তত ৪০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কয়েক দিন থেকে প্লাবিত এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে থাকলেও এখনও সরকারি ত্রাণ সাহায্য পাচ্ছেনা সবাই। সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় ও দ্বিতীয়ারদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

বড়লেখার বড়ময়দান গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বন্যার পানিতে ঘর অর্ধেক ডুবি গেছে। বউ-বাচ্চারে শ্বশুর বাড়ি পাঠাই (পাঠিয়েছি) দিছি। নিজে কোনমতে অন্যের বাড়িত আশ্রয় নিছি। মেঘ (বৃষ্টি) আরও দিলে পানি বাড়ব তবে এখন কিছু কমের।’unname

কুলাউড়ার ভুকশিমইল গ্রামের ফয়জুল মিয়া পীর জানান, তার টিন শেডের ঘরের কোমর পানি। তাই এ ঘরে বসবাস করতে না পারায় ঘরের সকল মালামাল রেখেই উঠেছেন আত্মীয়ের বাড়ীতে। একই গ্রামের সোহাগ মিয়া ও জাবেদ আলী জানান, তাদের বাড়িতে হাটু পানি। কারও বাড়িতে কোমর পানি। গ্রামের সকল রাস্তাঘাট ডুবে গেছে তারা খুব দুর্ভোগের মধ্যে পরেছেন।

জুড়ি উপজেলার জায়ফর নগর গ্রামের আব্দুল হেকিম জানান, জানান, কয়েক দিন থেকে পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। ঘরের চুলাও পানিতে ডুবে গেছে। তাই রান্নাবান্না করতে পারছেননা। তাই অনেকটা না খেয়ে আছেন।

এছাড়া বাড়িঘরে পানি উঠায় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই দুর্দিনে কেউই তাদের দেখতে যায়নি। প্রায় সব রাস্তাঘাটে হাটু পানি কোথাও আরো বেশি। রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে কুলাউড়ার পৌর এলাকার বিহালা গ্রামে এবং ভুকশিমইল গ্রামে নৌকার ঘাট স্থাপিত হয়েছে। মানুষজন নৌকাযোগে চলাফেরা করছেন। কিন্তু নৌকা স্বল্পতার কারনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বানভাসী মানুষের।un

ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম ও সায়রুল ইসলাম জানান, ভুকশিমইল ইউনিয়নের শতভাগ মানুষ পানিবন্দি। গরীব মানুষের নৌকা না থাকায় বাড়ি ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। শতাধিক পরিবার বাড়িছাড়া। কোন আশ্রয় কেন্দ্রে নয়তো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, গত এপ্রিলের আকষ্মিক বন্যায় হাকালুকি হাওরে বন্যায় বিশেষ করে ভুকশিমইল ইউনিয়নের হাজার হাজার একর বোরো ধান পচে বিনষ্ট হয়। সে বিপদ কাটতে না কাটতে গত সপ্তাহে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে হাকালুকি হাওরে। আর এ বন্যায় শত শত মানুষের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

হাকালুকি হাওরের সেই বুড়িকিয়ারী বাঁধটি অপসারণ করা হলে বন্যার ভয়াবহতা এতাটা হতোনা। আবা বাঁধটি অপসারণ করা না করেও হাওরের সাথে যে সংযোগ জুড়ী নদীটি খনন ও প্রশস্থ করা হলে দ্রুত পানি কুশিয়ারা নদী দিয়ে চলে যেত। শুধু হাকালুকি পাড়েই নয় জেলার কাউয়াদিঘী, হাইল হাওর, কেওলার হাওরসহ প্রায় প্রতিটি হাওরের পানি বেড়েছে এবং হাওর পাড়ের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্ধী রয়েছেন কয়েকহাজার মানুষ।unn

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত কয়েকদিনের ভারিবৃষ্টিতে হাওরের পানি বাড়ছে। ফলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের বাড়ি-ঘর পানিতে তালিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ৩০টি পরিবার নিরাপদে বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, স্যালাইন, নগদ ৫০০ টাকা ও বিনামূল্যের ১০ কেজি করে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন,বন্যা কবলিত এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৯৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৭ লক্ষ টাকা ত্রান দেয়া হয়েছে। আমরা সবসময় তাদের খোজ-খবর নিচ্ছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে