আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > নাসরিন ট্রাজেডি : ১৪ বছরেও মোছেনি ভোলাবাসীর ক্ষত

নাসরিন ট্রাজেডি : ১৪ বছরেও মোছেনি ভোলাবাসীর ক্ষত

নাসরিন ট্রাজেডি : ১৪ বছরেও ক্ষত মুছেনি ভোলাবাসীর

রাকিব হোসেন:

আজ ৮ই জুলাই ২০১৭, ভোলাবাসীর জীবনের বিভীষিকাময় একটি দিন। ২০০৩ সালের এই রাতে বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। এম.ভি. নাসরিন লঞ্চ দুর্ঘটনার ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ।

ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনগামী ‘এম.ভি. নাসরিন আনুমানিক দুই হাজার যাত্রী নিয়ে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় প্রচন্ড স্রোতের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই করার কারণে পানির তোড়ে তলা ফেটে ডুবে যায় এম.ভি নাসরিন-১। ধারণা করা হয়, ওই দিন লঞ্চ ডুবিতে কমপক্ষে ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দিনটি ভোলাবাসীর জন্য কষ্টে মোড়ানো যন্ত্রণা।

এই ট্রাজেডিতে জীবিত মৃত সব মিলে ৪০০ যাত্রীর সন্ধান মিললেও প্রায় ৮০০ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটনা  ঘটে। দুর্ঘটনার দুইদিন পর থেকে ভোলার মেঘনা পরিণত হয় লাশের মিছিলে। ওই দিন অনেকেই তার প্রিয়জনদের হারিয়েছেন।

১৯৭০ এর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের পর ভোলাবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় ভয়াবহ সংবাদ ছিল নাসরিন ট্রাজেডি। সেদিনের ভয়াবহ লঞ্চ ডুবির প্রলয়ঙ্কর দৃশ্য মনে করে এখনো শিউরে উঠে ভোলাবাসী। উপকূলীয় জনজীবনের ভয়াবহ শোকাবহ এই দিনটি আজও ভুলতে পারেনি ভোলার মানুষ।

নাসরিন ট্রাজেডি : ১৪ বছরও ক্ষত মুছেনি ভোলাবাসীর

লঞ্চ দুর্ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজনহারাদের এখন আর কেউ খোঁজ রাখে না। আজ নাসরিন ট্রাজেডি দিবসের কথা কেউ কেউ মনে করলেও দিবসটি পালন উপলক্ষে শোকসভা, মিলাদ মাহফিল, মতো কোনো কর্মসূচিও দক্ষিণ ভোলায় আজ আর নেই।

বেসরকারি সেবা সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের হিসাব অনুযায়ী নাসরিন দুর্ঘটনায় ১৭০ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে গেলেও আট শতাধিক যাত্রী নিহত ও নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে চরফ্যাশনের ১৯৮ জন, লালমোহনের ২৬৪ জন এবং তজুমদ্দিনের ১৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে ১১০ জন ছিল নারী। ৯৬ জন শিশু ও বৃদ্ধা।

এই দুর্ঘটনায় ৪০২টি পরিবারের এক বা একাধিক ব্যক্তি মারা যায়। এসব পরিবারের মধ্যে ১২৮টি পরিবারের উপার্জনক্ষম পুরুষ ব্যক্তি মারা যায়।

কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতাসহ প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটার কারণে যথাযথ ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২০০৪ সালে ঢাকার তৃতীয় জেলা জজ আদালতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি-পরিবারের পক্ষে ব্লাস্ট একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ১২১ জন ব্যক্তি বাদী হন। বিবাদী করা হয় সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, লঞ্চ মালিক, সারেং এবং সমিতিসহ মোট ২১ জন/প্রতিষ্ঠানকে।

দুর্ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর বিগত ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত ওই মামলার রায় ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্তদের ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়। রায়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে, নিখোঁজ পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ও আহতদের এক লাখ টাকা করে প্রদানের নির্দেশ দেয়।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএসহ বিবাদীপক্ষ বিগত ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিভিশন আবেদন করে। ২০১৭ সালের ৫ জুন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রুলটি খারিজ করে ব্লাস্ট কর্তৃক দায়েরকৃত বহুল আলোচিত লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ হওয়াসংক্রান্ত মামলা নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

প্রায় সময়েই  লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটছে কিন্ত দেখার যেন কেউ নেই। লঞ্চ মালিকদের অবহেলা ও উদাসীনতা কে দায় করছে অনেকেই। আর বিআইডব্লিউটিএ তো দুর্ঘটনা ঘটলেই নড়ে চরে বসে। তাই এখন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হয়তো রোধ করা যেতে পারে এমনটা আশা করেন ভোলাবাসী।

এআর/আরএইচ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে