আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ফ্যাশন এন্ড বিউটি > দাম পায় না জামদানির কারিগর

দাম পায় না জামদানির কারিগর

19397771_1382196038530111_878968218_nনাজমুন নাহার তুলি:

ঈদে একখানা জামদানি চাই। এই ঈদে যাদের জামদানি পরার ইচ্ছা, তাদের ইচ্ছেপূরণে এবার তাঁতীরা এসেছেন ঢাকায়। ঢাকার ব্যবসায়ীরা তাঁতীদের কাছ থেকে কম দামে কিনে এনে কয়েকগুণ বেশি দামে জামদানি বিক্রি করছে এক একখানা জামদানি। তাঁতীরাও পাচ্ছেন না ন্যায্য দাম, আবার ঠকছেন ক্রেতারাও।

তাইতো এবার ঈদের আগেই বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন ও জাতীয় জাদুঘর ১০ দিনের জামদানি প্রদর্শনী করছে। কালই প্রদর্শণীর শেষ দিন।

জাতীয় জাদুঘরে নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে জামদানি প্রদর্শনী তাঁতীরা এনেছেন শাড়ি, কামিজ, পাঞ্জাবি ও ওড়না।

২৬টি স্টলে হাজারেরও বেশী পণ্যের সমাহার। নানা রঙ আর নকশা নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায়  জামদানিগুলো শোভা পাচ্ছে প্রদর্শনীতে। কাল মেলার শেষদিন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলা চলবে। চাইলে নিজে ঘুড়ে ফিরে, অথবা নিজের পছন্দমত বানিয়ে নিতে পারবেন জামদানির যেকোন পণ্য।

19427706_1382195881863460_1016399792_nনিজের দেশের অন্যতম ঐতিহ্য জামদানি। এই শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে সবার কাছে পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে এই জামদানি প্রদর্শনী। জামদানি শিল্পীদের পৃষ্টপোষকতা করে, তাদের ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম নাগালের মধ্যে রেখে দেশ ও দেশের বাইরে এই শিল্পের বিকাশই বিসিকের লক্ষ্য।

জামদানি ও কুটির শিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে আসা কারিগর ও ব্যবসায়ীরা খুব খুশি জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি আয়োজনের অংশ হতে পেরে। তারা জানালেন তাদের তৈরী করা পণ্যের চাহিদা অনেক। তবে আরো কম খরচে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে তাদের ও ভাল লাগত। রুমা জামদানি হাউজের স্বত্তাধিকারী বলেন, “আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে জামদানির ব্যবসা করছি। এই আয় থেকে আমাদের পরিবার চলে। আমাদের কারখানায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কারিগর কাজ করেন। তবে তাদের কষ্টের তুলনায় তেমন বেতন দিতে পারিনা। আমাদের কাছ থেকে ঢাকার বড় বড় নামকরা প্রতিষ্ঠান নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়ে যায়। অথচ সেই শাড়ি অনেক টাকায় বিক্রি হয়। আমরা কখনোই আমাদের ন্যায্য মূল্য পাইনা। আমাদের সাথেই কাজ করতো অনেকে , জামদানি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গিয়েছে।”

19389831_1382195835196798_1815938158_nতানজিহ জামদানি স্টলের বিক্রেতা লেখাপড়ার পাশাপাশি তার বাবা চাচার ব্যবসায় সাহায্য করেন। তিনি জানালেন, কেউ যদি নিজের পছন্দ মত অর্ডার দেয় তাহলে সেই অন্যুায়ী তারা শাড়ি বানিয়ে দেন। দাম ও কাজ বুঝে একটি শাড়ি বানাতে তাদের দুই সপ্তাহ থেকে শুরু করে ৪/৫ মাস ও লেগে যায়। শাড়ির ভাল মন্দ বুঝার উপায় কি বললে তিনি বলেন, “যে শাড়ি যত কোমল ও কাজ খুব সুনিপুণ সেটার দাম বেশি ও উন্নত, হাত দিয়ে ধরে মসৃণ অনূভত হলে সেটার মান ও দাম দুই ই বেশি হয়”।

বেচাকেনা বেশ ভাল হচ্ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। তবে কলে তৈরী নকল জামদানি দিয়ে বাজার ছেয়ে গেছে, আবার ভারত থেকে কিছু নকল জামদানি আসে যেগুলোর দাম কম। তাই আসল দেশীয় জামদানি শিল্পের পরিপূর্ণ বিকাশ হতে পারছেনা উল্টো জামদানির দূর্নাম হচ্ছে। এরকম অবস্থা নিরসন ও জামদানি শিল্পে সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্টপোষকতা আশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে