আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

অভিজিৎ ঘোষ : ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঈদকে কেন্দ্র করে ফিটনেসবিহীন পরিবহন ও খন্ড খন্ড যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। ঈদ উপলক্ষে দেশের অন্য মহাসড়কের মতোই ঢাকা- টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঈদের আগেই মহাসড়কটিতে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। ঈদযাত্রায় তাই ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছেন তারা।

সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে এই মহাসড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের। ফলে স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের।

রোববার রাত থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত টাঙ্গাইলের মির্জাপুর অংশে খন্ড খন্ড যানজট থাকলেও টাঙ্গাইল হতে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত কোন যানজট নেই। তবে মহাসড়কে পরিবহনের চাপ ও খানাখন্দ থাকায় পরিবহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।

যানজটের কারণ: গাজীপুরের চন্দ্রা, কোনাবাড়ি ও চৌরাস্তায় তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ, বেশ কয়েকটি ভাঙ্গাচোরা ব্রিজ, সড়কে ছোট-বড় গর্ত, সড়কের দুই পাশে কাদা, ঈদ উপলক্ষে সড়কে ফিটনেসবিহীন পরিবহন ও চন্দ্রা হতে বঙ্গবন্ধু সেতু-পূর্ব মহাসড়কে একাধিক লিঙ্ক সড়কে গাড়ি প্রবেশে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়ক দেখা-শোনার কাজে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ চারলেন কাজে নিয়োজিত দুই কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব।

এছাড়াও মহাসড়কের পাশে দিয়ে হাট-বাজার, অর্ধশতাধিক সিএনজি ও পেট্রোল পাম্প এর কারনেও যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে যাত্রী সাধারনের।

অপরদিকে মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলক্রসিং হয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী প্রায় ১৬টি ট্রেন প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে। এতে রেলক্রসিংটি পাড় হতে মুহুর্তেই যানজটের কবলে পড়ে পরিবহনগুলো।

dhk-tgl-jam2মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইন উদ্দিন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদফতরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও চার লেনের কাজে নিয়োজিত দুইটি কোম্পানি ঠিকমত কাজ না করলে ঈদের আগে এ যানজট আরো বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

জানা গেছে, রবিবার থেকে এই মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ রয়েছে। তবে বাসের চেয়ে ট্রাকের সংখ্যা বেশি। স্বাভাবিকের চেয়ে ধীর গতিতে চলছে গাড়ি। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানি আর গাড়ির চাকার আঘাতে সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের কাছে এসে চালকরা বাধ্য হয়েই গাড়ির গতি কমিয়ে দিচ্ছেন।

কালিহাতির এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে টাঙ্গাইলের নগরজলফৈ পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দে ভরপুর।

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সড়ক পাড় হওয়ার জন্য যাত্রী সাধারন ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছেন। এ সময় পুলিশও বাধ্য হয়ে মহাসড়কের উভয় পাশের যানবাহন থামিয়ে দিচ্ছে।

মির্জাপুরের ধেরুয়া রেল ক্রসিংয়ে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিনাঞ্চলের ১৬টি ট্রেন দিন-রাত ৩২ বার যাতায়াত করে থাকে। এতে সারা দিনে গড়ে কমপক্ষে প্রতিটি ট্রেনের জন্য রেলক্রসিংয়ে ৫-১০ মিনিট দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এ ছাড়া সরু রাস্তা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, সড়কের উপর হাট-বাজার ও সড়কের পাশে শতাধিক ফিলিং স্টেশন থাকায় যানজটের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়মিত আসা-যাওয়া করা বাস-চালকরা বলেন, যানজটের কারণে প্রায় সময়ই আমাদের ঢাকা যেতে তিন ঘন্টার জায়গায় সময় লাগে প্রায় ৯ ঘণ্টা। এতে যেমন যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে অন্যদিকে জ্বালানির খরচ বাড়ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল- বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ৯২ রুটের বেশি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ৩০টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। এতে প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে এ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের গন্তব্য পৌঁছতে সময় লাগে নির্ধারিত সময়ের কয়েক গুণ বেশি।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর লুৎফর রহমান লালজু জানান, সড়কের খারাপ অবস্থার কারনে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে ঈদের সময় লাগবে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা।

গোড়াই থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খলিলুর রহমান পাটোয়ারি জানান, যানজট নিরসনের জন্য ঈদের সাত দিন আগেই চার লেনের কাজ বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া পচনশীল দ্রব্যের ট্রাক ছাড়া অন্য সব ধরনের ট্রাক চলাচল বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে চালকেরা সচেতন হলে যানজট কমে যাবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো: মাহবুব আলম জানান, যানজট নিরসনে নতুন কিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর আগে মহাসড়কে সাড়ে সাত শ’ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছে। এবার মহাসড়কে নিয়োজিত থাকবে এক হাজার পুলিশ সদস্য। প্রতি এক কিলোমিটারে একজন করে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। সড়কের অবস্থা খুব ভালো নয়। তবে সব মিলিয়ে ঈদে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পারব বলে আশা করছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে