আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > স্বাস্থ্য > চিকুনগুনিয়া- মূর্তিমান আতংক

চিকুনগুনিয়া- মূর্তিমান আতংক

দুই মেয়রকে ‘চিকুনগুনিয়া উত্তর’ ও ‘দক্ষিণ’ বলছে মানুষ

ডা. মোহাম্মদ মামুন ইসলাম:

হঠাৎ করেই ঘরে ঘরে জ্বর। যেনতেন নয় একেবারে high fever. প্যারাসিটামল দিয়ে যা সহজে control হয়না। সাথে প্রচন্ড joint pain যা সহ্যশক্তি সীমা অতিক্রান্ত। বাচ্চা, যুবা কিংবা বৃদ্ধ কেউই এ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পেপার, টেলিভিশন সবখানেই একটাই নিউজ- চিকুনগুনিয়া। যেন এক মূর্তিমান আতংক হয়ে বাংলাদেশে হাজির হয়েছে। চলুন কিছু কথা জেনে নেয়া যাক।

চিকুনগুনিয়া আসলে নতুন কোন রোগ নয়। এর ইতিহাস ৬০ বছরের পুরোনো। আমাদের দেশে আগেও এ রোগে অনেকেই আক্রান্ত হলেও অনেককেই ডেঙ্গু হিসেবেই treatment দেয়া হয়েছে। কারণ এর চিকিৎসা ডেঙ্গুর চিকিৎসার মতই। আর রোগটি শুধু আমাদের দেশেই নয়, ছড়িয়ে আছে বিশ্বের অনেকগুলো দেশেই। আমাদের ইতালি,সৌদি, আমেরিকা,আফ্রিকা প্রবাসী বন্ধু যারা, তারাও কিন্তু সাবধান থেকো। সেখানেও এদের আক্রমণের ইতিহাস আছে।

এই রোগটি মশাবাহিত। অর্থাৎ চিকুনগুনিয়া হলো একটি ভাইরাস, আর এই ভাইরাসটি বহন করে মশকবাহিনী। সব মশা নয়, শুধুমাত্র এডিস জাতীয় মশা, যা কিনা ডেঙ্গু জ্বরেরও কারণ। এরা আবার রাতে কামড়ায় কম। কামড়ানোর সময় খুব সকালে আর শেষ বিকেলে। অর্থাৎ যাদের ভাত ঘুম কিংবা বিকেলে ঘুমের অভ্যাস আছে, দয়া করে মশারিখানা টানিয়ে ঘুমাইয়ো। আক্রান্ত মানুষের থেকে সুস্থ মানুষে ভাইরাসটি transport হয় এই বজ্জাত মশাগুলোর মাধ্যমেই। সুতরাং বাঁচার উপায় একটাই- মশককূল নিধন। এই টাইপের মশাগুলি বংশ বিস্তার করে সাধারণত কয়েকদিনের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে। হতে পারে এসির পানি, বারান্দায় লাগানো গাছের পানি, খালি ক্যানের বোতলে জমে থাকা পানি ইত্যাদি। তো আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ঘরের কোথাও পানি জমে থাকছে নাতো। নিয়মিত পানি বদলাতে হবে। আর যদি এত কস্ট না করতে পারি, তাহলে লাস্ট অপসন তো আছেই- মশারিকেই ঘর বানানো। কারণ প্রতিরোধই তো বাঁচার বেস্ট উপায়। রোগটির প্রাদুর্ভাব কিন্তু এই বর্ষা আর বর্ষা মৌসুম শেষে। বছরের বাকি সময় অন্তত এদের থেকে মুক্ত।

এবার আসি কারো যদি চিকুনগুনিয়া হয়েই যায় তখন কি করব। মনে রাখবেন এতে ভয় পেয়ে ভ্যা করে কেঁদে দিয়েন না। এটা কোন ছোঁয়াচে রোগ নয় যে তাকে আলাদা করে দিবেন। জ্বরটা সাধারণত ২ থেকে ৭ দিন থাকতে পারে। ৬ ঘন্টা পরপর প্যারাসিটামল (Tab Napa/Ace) খেয়ে যান। গাঁ মুছুন, মাথায় পানি দিন। প্রয়োজনে প্যারাসিটামল সাপোজিটোরি দেয়া যেতে পারে। তবে ভুল করেও Voltalin, diclofen, clofenac ব্যবহার করা যাবে না। NSAID বা ব্যথানাশক ঔষধ মারাত্মক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। কেন যেন আমাদের ফার্মেসীগুলান এইগুলাই দিতে বেশি পছন্দ করে আর রোগীর বিপদ বাড়ায়। জ্বরটা একটু বেশিই থাকতে পারে, এমনকি এত কিছু করার পরেও temperature কন্ট্রোলে নাও থাকতে পারে। প্যানিক হবেন না। মনে রাখবেন বিষধর সাপে কাটা মানুষ থেকে নির্বিষ সাপে কাটাতেই মানুষ বেশি মারা যায় – আর কিচ্ছু না, শুধুমাত্র ভয়ে। তো আবারও বলছি ভয় পাবেন কম কিন্তু পানি খাবেন বেশি। এটা খুবই important. বিশেষ করে স্যালাইন, গ্লুকোজ, ডাব একদম বেশি বেশি খাওয়া চাই।

Rash উঠতে পারে। তবে ডেঙ্গুর মত এত বেশি হয় না। এক্ষেত্রে plateletও ডেঙ্গুর মত এত দ্রুত কমে না। সুতরাং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে platelet বা blood দেয়া লাগেনা।
চিকুনগুনিয়াতে মূল যে ঝামেলাটা বাঁধায় তা হচ্ছে joint pain. হাঁটু ব্যথা, কাঁধের জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা। যা সকালের দিকে বেশি হয়। ব্যথার সাথে ফোলাও হতে পারে। হালকা হাঁটাচলা চলবে, উপকারীও বটে কিন্তু কোন অবস্থাতেই এসময় ভারী ব্যায়াম বন্ধ। আর এসময় ব্যথায় হট কম্প্রেশন নয়, বরং কোল্ড কম্প্রেশনে ব্যথা কিছুটা লাঘব হবে। এই ব্যথাটাই সবচেয়ে বেশি ভোগায়। কিন্তু কোন অবস্থাতেই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিরেকে ব্যথার ঔষধ খাওয়া যাবেনা। শুধুমাত্র প্যারাসিটামল চলবে। ডেঙ্গু নয় ১০০% কনফার্ম হবার পর শুধুমাত্র ডাক্তারের পরামর্শ মত ব্যথার ঔষধ খাওয়া যাইতে পারে। তবে নিজে নিজে কোনমতেই ব্যথার ঔষধ শুরু করতে যাবেন না।

কিছু complications হতে পারে। তবে সবার হয়না। আর বন্ধু তালিকায় সবসময় কিছু ডাক্তার বন্ধু রাখুন। বিপদের সময় কাজে দিবে।
শেষ কথা যেহেতু ভ্যাকসিন নাই, তাই মশার কামড় থেকে বাঁচাই একমাত্র প্রতিরোধের উপায়। ঘরে থাকলে মশারির ভিতরে থাকুন, আর কাজে কর্মে থাকলে যদি মশার উপদ্রবের মাঝে থাকেন তবে mosquito repellent cream যেমন- Odomos হাতে পায়ে মাখুন।

মশার কামড় থেকে বাঁচুন। চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে