আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > মসলার বাজার গরম

মসলার বাজার গরম

আসছে ঈদ: মসলার বাজার গরম

আহমেদ এফ রুমী:

রোজার ঈদ সামনে রেখে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের মসলার দাম। ঈদ আসন্ন হলেই দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এরই অংশ হিসেবে এ বছর এরইমধ্যে বেড়েছে এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, রসুন, আদা, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা ও তেজপাতার দাম। তবে পেঁয়াজের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারী ও খুচরা মসলা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

উৎসব মৌসুমের অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ।

এছাড়া, দাম বেড়েছে মুরগি ও গরুর মাংসের। তবে কমেছে ডিমের দাম। দেখা গেছে, ওজনে আড়াই কেজির ওপরে এমন মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা, আড়াই কেজির নিচে এমন মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি মুরগির কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০, সোনালি মুরগির কেজি ২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অথচ রোজার শুরুতে সব ধরনের ব্রয়লার মুরগি ১৩০ থেকে ১৪০, দেশি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৮০, লেয়ার মুরগি ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর ডিমের দাম ৮৫-৯০ টাকা থেকে কমে ৭৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গরুর মাংস কেজিতে ৪৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫২৫-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

19441524_1983454525222566_1820416257_nমসলার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু থেকে আমদানি করা এলপ্পি গ্রিন এলাচ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। সেই এলাচই খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। গুয়াতেমালার এলাচ প্রতিকেজি এক হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে।

চীন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা দারুচিনি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৭৫ থেকে ৩১০ টাকায়। বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় গোল মরিচ ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিকোচ্ছে। আমদানি করা বিভিন্ন মানের জিরা মিলছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। আর প্রতিকেজি দেশি আদা ৮০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে শুক্রবার।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা রসুনের চাহিদাই বেশি। বর্তমানে এ ধরনের রসুন ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা আর দেশি রসুন ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গুঁড়ো মসলার মধ্যে হলুদ প্রতি কেজি ২০০-২২০, মরিচ ১৫০-২০০, ধনে ১৮০-২২০ টাকা এবং তেজপাতা ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ ও ভোজ্য তেলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল।

গত সপ্তাহে রসুন, গুঁড়া হলুদ ও গুঁড়া মরিচ কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। আগে থেকেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। একই সঙ্গে সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে মসুর ডাল ও মাছের দাম।

19458044_1983454521889233_1387580056_nমসলা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম আগের বছরের তুলনায় এবার বেড়েছে সর্বনিম্ন ২০ থেকে ঊর্ধ্বে প্রায় ১৬৫ ভাগ পর্যন্ত। ছোটোখাটো ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ঢাকা, কুমিল্লা, বগুড়া, ফেনী, নওগাঁ প্রভৃতি স্থানের প্রায় ৮-১০ জন বড় ব্যবসায়ী। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও না কমে বেড়েই চলেছে মসলার দাম।

এদিকে, বিদেশ থেকে আসা এসবের দাম একটু কম। কারণ, বিদেশি পণ্যের চেয়ে দেশি এসব পণ্যের মান ভাল। বিদেশি প্রতি কেজি আদার দাম যেখানে প্রায় ৫০ টাকা, সেখানে একই পরিমাণে দেশি আদার দাম প্রায় ৬০-৬৫ টাকা। তাছাড়া মানুষ দেশি মসলার চেয়ে বিদেশি মসলাই বেশি কিনে সাশ্রয়ের জন্য।

তবে বিদেশি মসলা মোটেই সাশ্রয় নয় বলে জানিয়েছেন অনেকেই। কেননা রান্নার ক্ষেত্রে বিদেশি মসলা দেশি মসলার তুলনায় বেশি লাগে। এছাড়া আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের সুনাম বিশ্বজুড়ে। বিদেশে আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার জিরার দাম বেড়েছে গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ। প্রতিকেজি জিরা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২৮০ টাকায় প্রায়। তেজপাতার কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

তবে মসলার দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন মসলা ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। তারা জানান, মসলার বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। বরং অনেক ক্ষত্রে দাম কমেছে। সরকার এসব পণ্য আমদানির শুল্ক কমালে দাম আরও কমে যেত।

একনজরে দেখে নিন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ করা মসলার মূল্য তালিকা:19458158_1983454575222561_541472528_n

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে