আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজশাহী > পাঠকের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে আনন্দ পান সাবের আলী মাস্টার

পাঠকের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে আনন্দ পান সাবের আলী মাস্টার

প্রতিচ্ছবি নওগাঁ প্রতিনিধি:

শখের বশেই পুরাতন এক সাইকেল নিয়ে কাক ডাকা ভোর থেকে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, বাদলকে উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে পায়ে হেটে উপজেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাঠকের কাছে প্রতিদিন বিভিন্ন নামের আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকা পৌছে দেয় তিনি।

শারীরিক শক্তি না থাকলেও পায় হেঁটে সাইকেল ঠেলিয়ে প্রতিদিন যাওয়া-আসা মিলে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আনন্দের সঙ্গে পত্রিকা বিক্রির কাজের মধ্য নিজকে জড়িয়ে রাখে।

প্রতিদিন দুপুরে একটু আরাম-আয়েশ করার পর আবার সেই সাইকেলের সঙ্গে ব্যাগে পত্রিকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন বাজারে। প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে পত্রিকা বিক্রি করে আসছেন তিনি। জীবনের শেষ দিনগুলোতে প্রতিদিন প্রিয় পাঠকের মাঝে পত্রিকা পৌঁছে দিতে পারাটাকেই তার বড় আনন্দ। তিনি হলেন আলহাজ মো. সাবের আলী মাস্টার। রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চকমনু গ্রামের মৃত ওহির উদ্দিন শেখের বড় ছেলে তিনি।

জানাযায়, মো. সাবের আলী মাস্টাররা ছিলেন তিন ভাই ও দুই বোন, সবার বড় তিনি। বাবা-মার অভাবের সংসার পড়া-শুনার পাশাপাশি দিন মজুরির কাজ করে ১৯৬২ সালে এসএসসি পাশ করেন। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ার কারণে ছাত্র জীবনেই সংসারের দ্বায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে। এক পর্যায়ে লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৭৪ সালে উপজেলার বিজয়কান্দি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অল্প বেতনের চাকরি হওয়ায় সংসারে সচ্ছলতা আনার লক্ষ্যে তার এক বাল্য বন্ধুর পরামর্শে ওই বছরেই ঢাকায় গিয়ে দৈনিক বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার রাণীনগরে এজেন্ট নিয়ে পত্রিকা বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। তৎকালীন সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ডাকযোগে তার নামে ঢাকা থেকে পত্রিকা আসতো। তখন সময় লাগতো চার দিন।

দৈনিক পত্রিকা হলেও সেই সময় পাঠকের কাছে কয়েক দিন পরে পৌঁছালেও পত্রিকা পেয়ে পাঠকেরা বেজায় খুশি হয়ে পত্রিকা কিনতো। বর্তমান সময় মুহূর্তের মধ্যে পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দিয়েও বাঁকি বয়কার কারণে এই ব্যবসার অবস্থা ভালো যায় না।

তবুও লেগে থাকেন তিনি। ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ পত্রিকার এজেনন্ট তার নামেই ছিল। বয়সের কারণে বেশি দৌড়-ঝাঁপ না করতে পারাই তার ভাতিজারা এই ব্যবসা বর্তমানে পরিচালনা করে আসছেন।দাম্পত্য জীবনে তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। বর্তমানে বড় দুই ছেলে প্রায় ১০ বছর ধরে অ্যামেরিকা প্রবাসী। ছোট ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজে আইন বিভাগে লেখাপড়া করছে।

তিন মেয়ের মধ্যে ইতোমধ্যেই এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। আর দুই মেয়ে ঢাকায় পড়াশুনা করছে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ২০১৪ সালে হজব্রত পালন করেন। পরে ছেলেদের ইচ্ছায় স্বামী-স্ত্রী দুই জনেই আমরিকায় বসবাসের জন্য যান।

সেখানে গেলেও আগের সেই পত্রিকা বিপণনের পেশার টানে স্ত্রী-ছেলেকে রেখে সপ্তাহ খানেক পরেই তিনি চলে আসেন নিজ জন্মভূমি রাণীনগরে। এসে আবার পত্রিকা বিপণনের সঙ্গে আবার জড়িয়ে পড়েন।

বর্তমানে সাবের আলী মাস্টার প্রতিদিন খুব বেশি পত্রিকা বিক্রি করতে না পারলেও তার নির্ধারিত প্রিয় গ্রাহকেরা তাকে ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে পত্রিকা কিনে নেন না। প্রতিদিন সব মিলে তার আয় হয় মাত্র ৩০-৪০ টাকা। যা একটি সংসার চালানোর জন্য কিছুই না। তবুও তিনি ছাড়তে চান না তার এই আনন্দের পেশা।

তরিকুল ইসলাম জেন্টু/ইএ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে