আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজশাহী > নওগাঁ জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী নির্বাচিত এম. মাসুদ রানা

নওগাঁ জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী নির্বাচিত এম. মাসুদ রানা

ইউনুস আলী ফাইম:

এম মাসুদ রানা কেবলমাত্র একটি নাম নয়। বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজের মাধ্যমে এখন তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে রুপনিয়েছেন। শিক্ষা সহ সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের অবদানের স্বীকৃতি এখন এলাকায় তিনি স্ব-নামে খ্যাত হয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে অবদানের জন্য জেলা পর্যায়ের মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী (শিক্ষানুরাগী) সমাজকর্মী নির্বাচিত হয়ে সেই সুখ্যাতি আরও সুদৃঢ় করেছেন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৮ জেলা পর্যায়ের মূল্যায়নে সদর উপজেলার ৪৯নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী (শিক্ষানুরাগী) সমাজকর্মী হিসেবে তিনি এই শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সমবায়ী প্রতিষ্ঠান খ্যাত “নওগাঁ মাল্টিপারপাস্ধসঢ়; কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ” এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষারমান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের ঝরেপড়া রোধকল্পে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বইখাতা, কলম, পোষাক এমনকি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

 নিজ বিদ্যালয় ছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র, প্রধান শিক্ষকদের নামের বোর্ড, স্কুলের বাগান তৈরী, বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণ করা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকেন।

তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ অবদান রেখে চলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নওগাঁ জেলার ২০টি, বগুড়া জেলার ২টি, জয়পুরহাট জেলার ২টি এবং রাজশাহী জেলায় ১টি বিদ্যালয়ের স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণিতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান করেন।

এম মাসুদ রানা একই সাথে নওগাঁ সদর ৪৯নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একজন বিদ্যোৎসাহী (শিক্ষানুরাগী) হিসাবে এলাকার জন সাধারণের অনুরোধে তিনি এই দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। শিক্ষানুরাগী এই ব্যক্তিত্ব বিগত একযুগ ধরে মা ও অভিভাবক সমাবেশ, পুরস্কার বিতরন, বার্ষিক বনভোজন, ছাত্রছাত্রীদের লেখা পড়ার প্রতি অনুরক্ত করে তুলতে নিজ অর্থে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন।

একজন শিক্ষানুরাগী হিসাবে তিনি মনে করেন একটি বিদ্যালয় সামাজিক উন্নয়ন কেবলমাত্র রাষ্ট্র বা সরকারের উদ্যোগের উপর নির্ভর করে না। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিত্তশালীদের এগিয়ে আসা উচিত। স্থানীয় উদ্যোমী মানুষের সহযোগিতা নিশ্চিত হবে বিদ্যালয় গুলোর পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার গুনগত মান উন্নত করা সম্ভব।

যেমন স্থানীয় উদ্যোগী ব্যক্তিদের যেসব বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল নাই সেখানে টিউবওয়েল, যেখানে টয়লেট নাই সেখানে টয়লেট আবার যেসব বিদ্যালয়ে আসবাবপত্রের স্বল্পতা রয়েছে সেইসব প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র ইত্যাদি প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

 এছাড়াও তিনি মনে করেন অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। সরকারের পক্ষে একযোগে সকল শিক্ষকের শূণ্যপদ পূরণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে প্যারা শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। একটি স্বপ্নের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে এলাকার সকলকে সংগঠিত করে একটি উন্নয়ন তহবিল গঠন করে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব। জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী (শিক্ষানুরাগী) সমাজকর্মী নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি স্বভাবসূলভ নিরহংকার ভঙ্গিমায় উত্তর দিলেন এটি তার দীর্ঘ দিনের কাজের স্বীকৃতি।

জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন তার লক্ষ্য। এজন্য তিনি তাঁর এরকম কর্মকান্ড অব্যহত রাখার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য নওগাঁ মাল্টিপারপাস কো- অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর সভাপতি ইঞ্জিঃ রেজাউল করিম তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন এম মাসুদ রানা সব ভালো কাজের সম্মুখ ভাবে এসে দাঁড়ান। এই বরমাল্য তাঁরই সাজে। ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোছাঃ দেওয়ান শাহানা তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, পড়াশুনার মান উন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার নিয়ে আন্তরিকতা এবং ত্যাগের কোন তুলনা হয় না।

এ ছাড়া জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী (শিক্ষানুরাগী) সমাজকর্মী নির্বাচিত হওয়ার বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা অব্যাহত রয়েছে।

ইউনুস আলী ফাইম/ইএ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে