আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > স্যুটকেসে বহন করা হয় খাশোগির লাশের টুকরো

স্যুটকেসে বহন করা হয় খাশোগির লাশের টুকরো

jamal

 প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তুর্কি কর্মকর্তারা ডেইলি সাবাহকে জানিয়েছেন, সৌদি থেকে ১৫ সদস্যের যে হিট স্কোয়াড বা ঘাতক দল এসেছিল তাদের মধ্যে মাহের আবদুলআজিজ মুতরেব, সালাহ তুবেইগি ও সায়েরুল হারবি খাশোগির দেহ টুকরো টুকরো করেছে। এরপর তারা স্যুটকেসে করে টুকরোগুলো কনস্যুলেট ভবন থেকে সরিয়ে নেয়।

মাহের আবদুলআজিজ মুতরেব সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি সহকারী, তুবেইগি সৌদি সামরিক বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান। সায়েরুল হারবিকে গত বছর সৌদি রাজকীয় গার্ড বাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত করা হয়। জেদ্দায় যুবরাজের বাসভবনের নিরাপত্তায় পারদর্শিতার পুরস্কারস্বরূপ তাকে এ পদে উন্নীত করা হয়।

২ অক্টোবর ২০১৮ স্থানীয় সময় আনুমানিক বিকাল ৩টার দিকে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকাল ৩টার পর ঘাতক দলের ওই তিন সদস্য একাধিক গাড়িতে করে কনস্যুলেট ভবন থেকে ২০০ মিটার দূরত্বের সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসায় যায়। এর দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সহকারী মুতরেব।

এদিকে খাশোগির দেহ টুকরো টুকরো করার পর তা এসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তুরস্কের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তুর্কি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইয়াসিন আখতায় বলেছেন এটাই ‘একমাত্র যৌক্তিক উপসংহার’। তুরস্কের দৈনিক সংবাদপত্র হুরিয়াতকে তিনি বলেন, যারা খাশোগিকে হত্যা করেছে তারা কোনও প্রমাণ না রাখতেই তার দেহ এসিডে গলিয়ে দিয়েছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ খাশোগিকে হত্যার প্রমাণ থাকার দাবি করে আসলেও তার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটেই খাশোগির মরদেহ নিয়ে এমন আশঙ্কার কথা জানালেন তুর্কি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা।

আখতায় হুরিয়াতকে বলেন, খাশোগির দেহ টুকরো করার কারণ তাতে আরও সহজেই তা এসিডে গলিয়ে ফেলা গেছে। তারা শুধু তার দেহকে টুকরোই করেনি বরং তা ভস্মীভূতও করেছে।

প্রথমে অস্বীকার করলেও ঘটনার প্রায় ১৭ দিন সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে জানায়, ১৫ সদস্যের একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়ে ভুলবশত হত্যা করে ফেলেছে। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত ওই দলটি খাশোগিকে হত্যার পরই বিশেষ বিমানে ইস্তানবুল ছেড়ে যায়।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অবশ্য খাশোগিকে ‘বিপজ্জনক ইসলামপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করার আগেই হোয়াইট হাউসে ফোন করে যুবরাজ এ কথা বলেছিলেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই মন্তব্য করা বা হত্যাকাণ্ডে রাজপরিবারের কারও জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব ঘটনা উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর খাশোগিকে হত্যার পর গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাই ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এসব ফোনে খাশোগিকে বহুজাতিক ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে দাবি করেন তিনি। সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান যুবরাজ। তবে ওই সংবাদপত্রটিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে খাশোগির পরিবার তার মুসলিম ব্রাদারহুডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হত্যার শিকার হওয়া সাংবাদিক বিগত কয়েক বছর নিজেও বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘খাশোগি বিপজ্জনক ব্যক্তি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এই দাবি অবাস্তব’। সূত্র: আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে