আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > বাড়ানো হচ্ছে ডিজিএফআই’র সাইবার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা

বাড়ানো হচ্ছে ডিজিএফআই’র সাইবার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি তথা সাইবার জগতের দ্রুত উন্নয়নের ফলে প্রচলিত জাতীয় প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। গুগল, ফেসবুক ইত্যাদি বড় সামাজিক যোগাযোগ পরিসর ব্যবহার করে প্রচারিত সরকারের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষে প্রথাগত কারিগরি সক্ষমতা দিয়ে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র বা সরকারের জন্য হানিকর এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। তাই সাইবার জগতের দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবার আইসিটি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করতে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই)।

জানা গেছে, এক হাজার ২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকার ‘ডিজিএফআই-এর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ এবং কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ টাকার পুরোটাই সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হবে।

প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর বাস্তবায়ন করবে। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় ডিজিএফআই’র আইসিটি সক্ষমতা আধুনিক করতে নিরাপদ ভয়েস ও ডাটা যোগাযোগ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি কেনা হবে তিন হাজার ৬৭০টি। ডিজিএফআই’র সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নজরদারি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হবে ১১ হাজার ১৯৩টি। তথ্য ভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ সক্ষমতা যন্ত্রপাতি কেনা হবে ২৮১টি। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স সোর্স প্লাটফর্ম স্থাপন করা হবে তিনটি। আন্তর্জাতিক সীমারেখা নজরদারি সক্ষমতার জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হবে ৬৯টি। জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের তথ্য সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি কেনা হবে ২০টি। সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি কেনা হবে ৫৩টি। দেশের আটটি বিভাগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) বিদ্যমান ২৩টি ইউনিটের সব স্থাপনায় এসব যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিজিএফআইয়ের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর আওতায় সাইবার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা বাড়বে। এর মাধ্যমে অপরাধ ও জঙ্গি কার্যক্রম শনাক্ত করাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই) এখন দেশের অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। যা দেশের অভ্যন্তর ও বাইরের সম্ভাব্য বিপদ থেকে সরকারকে গোপনে আগাম সতর্কতা দেয়। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে স্বার্থান্বেষী মহলের তৈরি করা বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলার জন্য সংস্থাটির আধুনিকায়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিএফআই-এর বিদ্যমান টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামোগত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

ইএ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে