আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > লুসি অ্যাওয়ার্ড জিতলেন কারাব‌ন্দি শ‌হিদুল আলম

লুসি অ্যাওয়ার্ড জিতলেন কারাব‌ন্দি শ‌হিদুল আলম

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আলোকচিত্র জগতে সারা বিশ্বের অন্যতম সন্মাননাসূচক পুরস্কার লুসি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন কারাবন্দি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই আলোকচিত্রী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কারাগারে বন্দি থাকায় তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী গায়ত্রী স্পিভাক। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রবিবার রাতে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের খ্যাতিমান আলোকচিত্রীরা ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে।

২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আলোকচিত্রের জন্য সম্মাননা দিয়ে আসছে লুসি ফাউন্ডেশন। প্রাথমিক মনোনয়নের পর যাচাইবাছাই শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় আলোকচিত্রীদের। সম্মাননা দেওয়ার বেশকিছু সময় আগেই তা ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরের জুন মাসে শহিদুল আলমকে ১৬তম লুসি অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল সংস্থাটি।

গত ৫ আগস্ট গ্রেফতারের পর থেকে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি আছেন শহীদুল আলম। তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ভঙের অভিযোগ আনা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস এবং ইনডেক্স অন সেন্সরশিপের মতো অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তার কারান্তরীণ অবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। শহিদুলের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন বরেণ্য নোবেল বিজয়ীসহ বিজ্ঞানী-অ্যাকাডেমিশিয়ানরাও। এবার দ্য লুইস ফাউন্ডেশনও সেই দাবিতে শামিল হলো।

২৮ অক্টোবর শহিদুল আলমের জন্য এই পুরস্কার প্রদানের ছবি প্রকাশ করে লুসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘শহিদুল আলমকে সন্মাননাসূচক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড-এ ভূষিত করা হয়েছে। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই গুণী আলোকচিত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সমাজকর্মী ছবি তুলছেন। তার ছবি বিশ্বের অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।’ লুসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘এই বছর বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা অন্যায়, মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে এবং বিপজ্জনক উদাহরণ তৈরি করেছে। সারা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায়ও এটা সাংবাদিকদের জন্য হুমকি। আমরা শুধু শহিদুল আলমের মুক্তিই দাবি করছি না সেই সঙ্গে এই ধরনের কাজের প্রতিবাদ জানাই।’

ব্রিটিশ জার্নাল অব ফটোগ্রাফি’র ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম পুরস্কারজয়ী দৃক পিকচার এজেন্সি, দ্য ছবি মেলা ফেস্টিভ্যাল এবং দ্য সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।  ফটোগ্রাফি ও অ্যাক্টিভিজমের সুবাদে ১৯৮৪ সালে তাকে দেখা যায় সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদকে অপসারণের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে। রচনা করেন তার বই ‘মাই জার্নি অ্যাজ আ উইটনেস’। ২০০৯ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার শেষ অফিসিয়াল পোট্রেট তুলেছিলেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, গত ৭ অক্টোবর তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সবশেষ সোমবার (২৯ অক্টোবর) শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ আল-জাজিরাতে দেওয়া আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের সাক্ষাৎকার ও তার লাইভের ভিডিও ফুটেজ দেখতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের তা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। শহিদুলের আইনজীবীদের অভিযোগ, তার জামিন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা চলছে।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে