আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের খোঁজ মিলেছে

বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের খোঁজ মিলেছে

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে জাভা সাগরে চালানো অভিযানে অগ্রগতির খবর মিলেছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, তারা সাগরে বিধ্বস্ত বিমানের মূল কাঠামোর খোঁজ পেয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হাদি যাহযানতো বলেন, আমাদের বিশ্বাস আমরা জেটি-৬১০ বিমানের মূল কাঠামোর বেশকিছু অংশ ইতোমধ্যেই উদ্ধার করেছি।

উদ্ধারকর্মীরা এখন জাভা সাগরে বিধ্বস্ত বিমানটির প্রধান কাঠামো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে ড্রোন ও সোনার ডিভাইস। বিমানটি বিধ্বস্তের ঘটনায় কারও প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছেন না উদ্ধারকারীরা। হদিস মেলেনি বিমানের ব্ল্যাক বক্সেরও।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ায় ১৮৯ জন আরোহী নিয়ে লায়ন এয়ারের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। জে টি-৬১০ ফ্লাইটটি জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ শহর পাঙকাল পিনাঙয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মাথায় সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ওই এলাকার আশেপাশে যারা নৌকায় ছিলেন তারা আকাশ থেকে বিমানটিকে সাগরে পড়তে দেখার দাবি করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিমান যাত্রীদের বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সমুদ্রের ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুতোপো পুরয়ো নুগরোগো টুইটার পোস্টে জানিয়েছেন, বিমানটি খুঁজতে কারাওয়াং এলাকার কাছের সমুদ্র এলাকায় সোনার ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে। কারাওয়াং এলাকাতেই বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়ার ট্রান্সপোর্ট সেফটি প্যানেলের প্রধান, সোয়েরজান্তো তোজাহজোনো ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আশা করি সকালেই আমরা বিমানের মূল কাঠামো পেয়ে যাব।’

বিমানটি ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও জানতে পারেননি তদন্তকারীরা। এর কারণ জানতে বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন তারা।

উদ্ধারকারীরা বেশ কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সিয়াউগি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো বিশেষ ব্যাগে ঢোকানো হচ্ছে। এরইমধ্যে ১০টি ব্যাগ পূর্ণ হয়ে গেছে। সেগুলো শনাক্ত করার জন্য জাকার্তায় নেওয়া হবে। এক টুইটার বার্তায় সংস্থাটি আরও জানায়, যাত্রীদের বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী সাগরে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে। যাত্রীদের মালামাল ও বিমানের ধ্বংসাবশেষগুলোও ব্যাগে ভরা হচ্ছে। এ ধরনের বস্তুতে ১৪টি ব্যাগ ভরেছে বলেও জানানো হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, লায়ন এয়ার ফ্লাইটের ওই বিমানটি প্রায় নতুন ছিলো। বোয়িং কোম্পানির ৭৩৭ ম্যাক্স এইট বিমানটি ২০১৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। গত জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম এ ধরনের বিমান চালু করার কথা জানায় লায়ন এয়ার। তারা একই মডেলের আরও ২১৮টি বিমানের অর্ডার দিয়েছিল। আর সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি গত ১৫ আগস্ট প্রথম যাত্রা শুরু করে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান সোয়েরজান্ত তিজাহজানো জানান, বিমানটি মাত্র ৮০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন করেছে। আর শেষবার উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যে পাইলট জাকার্তার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে ফিরে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন।

লায়ন এয়ারের প্রধান নির্বাহী অ্যাডওয়ার্ড সিরাইটের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে,আগের ফ্লাইটে বিমানটি একটি অনির্দিষ্ট কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়েছিল। কিন্তু পরের ফ্লাইটের আগেই তা নিয়ম মেনে ঠিক করা হয়েছে। সিরাইট বলেন, লায়ন এয়ার বর্তমানে একই মডেলের ১১টি বিমান পরিচালনা করছে। বাকি বিমানগুলো চালানো বন্ধ রাখার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই।

লায়ন এয়ারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলটের ১১ হাজার ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া বিমানটিতে শিক্ষানবিশ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন।

এর আগে ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ১৬২ জন আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরগামী এয়ার এশিয়ার একটি উড়োজাহাজ জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে