আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > বাড়ছে না রিটার্ন জমার সময়, শেষ দিন ৩০ নভেম্বর

বাড়ছে না রিটার্ন জমার সময়, শেষ দিন ৩০ নভেম্বর

বাড়ছে না রিটার্ন জমার সময়, শেষ দিন ৩০ নভেম্বর

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

চলতি অর্থবছর থেকেই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা নেয়া শুরু হয়েছে। এসময় চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী মাসের মধ্যে যোগ্য করদাতাদের ২০১৭-১৮ বর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করে কোনও করদাতা আবেদন করলে এনবিআর বিশেষ বিবেচনায় ওই করদাতার রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আপনি যে আয় করেছেন, সেটির ওপর ভিত্তি করেই রিটার্ন জমা দিতে হবে।

করযোগ্য আয় থাকলে ন্যূনতম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া মোটরগাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা গৃহসম্পত্তি থাকলে বার্ষিক রিটার্নের সঙ্গে সম্পদ বিবরণী দেয়া বাধ্যতামূলক।

এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই আড়াই লাখ টাকায় বহাল রাখা হয়। এর অর্থ হলো, কোনও ব্যক্তির আয় যদি বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তাঁকে রিটার্ন জমা দিয়ে কর দিতে হবে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত হিসাব করে দেখুন, আপনি কত আয় করলেন। তবে এবার যে পরিবর্তনটি এসেছে, তা হলো করদাতার যদি কোনো প্রতিবন্ধী সন্তান থাকে, তাহলে আরও ৫০ হাজার টাকা আয় করলেও কর দিতে হবে না।

বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেতন যদি ১৮ হাজার টাকার বেশি হয়, তবে রিটার্ন দেয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কোন কোন কর্মী রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তা প্রতিবছর এপ্রিল মাসের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিতে হবে। এমনকি কর্মীদের বেতন-ভাতা থেকে উৎসে কর হিসেবে কত টাকা কেটে রাখা হয়েছে, তা–ও জানাতে হবে। এসব শর্ত না মানলে ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিরীক্ষা করা হবে।

রিটার্ন ফরম পূরণ ও হিসাব–নিকাশ করার সময় মনে রাখতে হবে, এবার পারকুইজিট সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, মোবাইল ফোনের বিলসহ বিভিন্ন ভাতা পান চাকরিজীবীরা। এই ভাতার একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করমুক্ত। আগে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত ছিল। এখন তা সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে চাকরিজীবীরা গত এক বছরে এসব খাতে ভাতা বাবদ আরও পৌনে এক লাখ বেশি পেলেও চিন্তা নেই, কর দিতে হবে না।

সারচার্জের ক্ষেত্রে এবার ধনী করদাতাদের করের হিসাব বদলে গেছে। কোনো করদাতার যদি নিজের নামে দুটি গাড়ি থাকে কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকায় আট হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট বা গৃহসম্পত্তি থাকে, তাহলে সারচার্জ আরোপিত হবে। ওই করদাতা যত কর দেবেন, এর ওপর ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে। উবার, পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দিলে অবশ্যই গাড়ির মালিককে রিটার্ন জমা দিতে হবে। এটি এই বাজেটের নতুন উদ্যোগ।

কোনও চাকরিজীবী বা করদাতার যদি গৃহসম্পত্তি থেকে আয় থাকে, তা–ও করের মধ্যে পড়বে। মূলত বাড়িভাড়ার আয়ই এখানে বেশি প্রযোজ্য। তবে গৃহসম্পত্তির মোট আয় থেকে এনবিআর অনুমোদিত নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বাড়িঘর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, দারোয়ানের বেতন, সিটি করপোরেশন বা পৌরকর বাদ দিতে হবে।

এনবিআর বলছে, অন্যবারের মতো এবারও পুরোনো ফরমে করদাতারা তাদের বার্ষিক আয়করী বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এর ফলে, পুরোনো ও নতুন দুই ধরনের ফরমে আয়কর বিবরণী জমা দিলে তা গ্রহণ করবেন কর কর্মকর্তারা। একইভাবে কোম্পানির ক্ষেত্রেও নতুন ও পুরোনো দুই ফরমেই রিটার্ন দেয়া যাবে।

উল্লেখ্য, জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই পাঁচ মাস রিটার্ন দেওয়ার নির্ধারিত সময়। আগের মতো এখন আর সময় বৃদ্ধির কোনও সুযোগ রাখা হয়নি।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে