আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > অঘোষিত ধর্মঘট পেট্রোল পাম্পেও!

অঘোষিত ধর্মঘট পেট্রোল পাম্পেও!

অঘোষিত ধর্মঘট পেট্রোল পাম্পেও!

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আটদফা দাবিতে চলমান পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও দুর্ভোগে নগরবাসী। এবার রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলো কোনো ঘোষণা ছাড়াই তেল, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে, নতুন আরেকটি দুর্ভোগের সামনে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা।

অভিযোগ আছে, পরিবহন ধর্মঘটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গাড়ির জ্বলানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। তবে কতৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ না থাকায় তারা জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছেন না।

এখন প্রশ্ন উঠছে,  শুধুমাত্র রোববারের ধর্মঘটের কারণে কীভাবে পাম্পগুলোর জোগান শেষ হয়ে গেল?

সোমবার রাজধানীর বাড্ডা, গুলশান, মহাখালী ও বাংলামটোর এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়েল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে তেল-গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। যারা তেল-গ্যাস কিনতে আসছেন তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাক্তিগত গাড়ির মালিক, চালক, রাইড শেয়ারিংয়ে কর্মরতরা অভিযোগ করছেন, পরিবহন ধর্মঘটে ব্যক্তিগত গাড়ি বন্ধ রাখতে তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ পরিবহন ফেডারেশনের সঙ্গে আঁতাত করে এ কাজটি করছেন। ফলে তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাইড শেয়ারিংয়ের রাইডাররা বলছেন তারা আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পে দুই থেকে তিন দিনের মজুদ থাকে। কিন্তু ধর্মঘটের মাত্র একদিন গেল। এছাড়া গতকাল কোনো বাস বা ট্রাক পাম্প থেকে ফুয়েল ক্রয় করেনি। ফলে নিয়মিত বিক্রি থেকে তাদের গতকাল কমই হয়েছে। সুতরাং তাদের মজুদ আরো বেশি দিন থাকার কথা।

অঘোষিত ধর্মঘট পেট্রোল পাম্পেও!

সরেজমিনে কয়েকটি পাম্পে দেখা গেছে, পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনের সকাল প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের সামন ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রাহকরা তেল বা গ্যাসের জন্য আসলে না করে দিচ্ছেন। গ্রাহকরা কারণ জানতে চাইলে কেউ কেউ বলছেন তেল ও গ্যাস মজুদ নেই। আবার অনেকে বলছে কারণ জানি না মালিক বলেছে, তাই বন্ধ।

মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশনে অকটেন কিনতে আসা বাইকার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কাল রাত থেকেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আমি বেশ কয়েকটি পাম্পে তেলের জন্য গিয়েছি সেখানেও একই অবস্থা। মোটরসাইকেলে বেশি তেল আর নেই। এখন যদি তেল ধর্মঘটও চলে তাহলেতো আর বের হতে পারব না।

রাজধানীর বাংলামোটর ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন উবার চালক সুলেমান। তিনি বলেন, সকাল থেকে ৪টি ফিলিং স্টেশনে গিয়েছি কিন্তু কেউ তেলে দিচ্ছে না। তারা চায় শহরে যেন একটি গাড়িও না চলুক এবং যাত্রী যাতায়াত বন্ধ হোক। যাতে করে সরকার মানুষের ভোগান্তির দেখে তাদের দাবি মেনে নেয়।

গুলশান সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জুয়েল রহমান বলেন, কেন তেল গ্যাস নেই এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না। কিন্তু মালিক নির্দেশ দিয়েছে বন্ধ রাখার, তাই বন্ধ।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাম্পে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক বলছেন, বেশিরভাগ পাম্প গাড়ির মালিকদের। যেহেতু তারাই ধর্মঘট ডেকেছেন সেহেতু পাম্পও বন্ধ রেখেছেন।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে