আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > জাতিসংঘের অধিবেশনে ট্রাম্প-রুহানি’র যুদ্ধ

জাতিসংঘের অধিবেশনে ট্রাম্প-রুহানি’র যুদ্ধ

trump-ruhani

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিতর্ক পর্বে তুমুল বিবাদে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

মঙ্গলবার ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প  ইরানের নেতৃত্বকে দুর্নীতিবাজ স্বৈরশাসক আখ্যা দেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রুহানি তার ভাষণে তেহরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস আখ্যা দেন।

কয়েক দশকের বৈরিতার ধারাবাহিকতায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত মে থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে। ওই সময় ট্রাম্প ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে করা ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাওয়ার আগে এক মন্তব্যে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইরানিরা তাদের ‘সুর না পাল্টানো’ পর্যন্ত তিনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না।

স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ বার্ষিক সাধারণসভায় বক্তৃতা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বক্তৃতায় তিনি ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অগ্রগতির বিবরণ হাজির করেন। অধিবেশনের বিতর্ক পর্বে দেওয়া ওই বক্তৃতায় ইরানের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন ট্রাম্প। ইরান সরকার ব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ একনায়কতন্ত্র’ উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করেন। সে সময় তিনি বলেন, ইরানের নেতারা বিশৃঙ্খলা, হত্যা ও ধ্বংসের বীজ বপন করছে।

ইরানের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তারা তাদের প্রতিবেশী ও সীমান্ত এবং জাতির সার্বভৌম অধিকারের প্রতি সম্মান করে না। ইরানের নেতারা দেশের সম্পদ লুটে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করছে এবং তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশে দাঙ্গাহাঙ্গামা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জনগণ তাদের নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ তারা কোষাগার থেকে কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করছে এবং জনগণের ধর্মীয় অঙ্গীকার লুট করছে। আর এসব অর্থ দিয়ে প্রক্সি যুদ্ধ পরিচালনা করছে। এটি ভালো নয়। এসময় ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নভেম্বরের ৫ তারিখের মধ্যে ইরানের শক্তিখাতে দ্বিতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান খুব বাজে আচরণ করেছে। আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালো একটি সম্পর্ক গড়ার অপেক্ষায় আছি। কিন্তু সেটি এখন হবে না।’

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে রুহানি তার ভাষণে বলেন, ‘তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একক নিষেধাজ্ঞা আরোপ অর্থনৈতিক সন্ত্রাসের একটি ধরন।’ ট্রাম্পের পরে বক্তৃতা করতে এসে ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দেন। সে সময় ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। তেহরানকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাবেরও তীব্র সমালোচনা করেন রুহানি।

জাতিসংঘে বক্তৃতায় দুই প্রেসিডেন্টের বাকযুদ্ধের পর ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টোন। তিনি বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার কোনো রাষ্ট্রের ক্ষতি করে তাহলে তার কড়া মাশুল দিতে হবে। পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞাসহ সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধের প্রশ্নে বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে যু্ক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘে দুই নেতার পাল্টাপাল্টির আভাস পাওয়া যাচ্ছিল আগে থেকেই।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে