আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > আসছে নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

আসছে নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

আসছে নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিচ্ছবি ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সব রাজনৈতিক দল এতে অংশ গ্রহন করবে বলে তিনি আশা করেন৷ বিশ্লেষকরাও মনে করেন এবারের নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে৷

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা, বাসস-এর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট-এর সঙ্গে সোমবার সকালে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন৷ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেরেমি হান্ট -এর সাক্ষাত হয়৷ পরে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের বৈঠক সম্পর্কে জানান৷

জেরেমি হান্ট প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য৷’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরাও চাই আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেবে৷”

বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন আর সংশয় নেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও৷ তাঁরা এ-ও মনে করেন যে, এবার ৫ জানুয়ারির মতো পরিস্থিতিও হবে৷ কিন্তু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কোন মাত্রায় হবে তা নিয়ে নানা আশঙ্কা আছে৷

রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘একটা বিষয় নিশ্চিত যে, এবার সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে৷ আর সরকারি দল নির্বাচনের যে কঠামো তৈরি করেছে, সেই কাঠামোর মধ্যেই নির্বাচন হবে৷ সেটার খুব একটা পরিবর্তন হবে না৷ এই দুটো জিনিস মোটামুটি স্পষ্ট৷ এখন নমিনেশনের বিষয়টি বড় হয়ে আসবে৷ কারণ, বড় দু’টি দল বা জোটে প্রত্যেক আসনেই একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছে৷ সরকারি দলেও আছে৷ এখন যাঁরা দল বা জোট থেকে মনোনয়ন পাবেন না, তাঁদেরও বড় একটি অংশ প্রার্থী হবেন৷ নজর এখন সেদিকেই যাবে৷ এটা নিয়ে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে আশঙ্কা আছে৷’

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বা বিরোধী জোট নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে নানা ধরনের দাবি করতেই পারে৷ আর এটা দাবি করাই স্বাভাবিক৷ এটার একটা কারণ থাকে দলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করা৷ অন্যদিকে আমরা দেখি, বড় ধরনের কোনো আন্দোলন ছাড়া নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে না৷ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস আছে৷ তাই বড় কোনো আন্দোলনের সুযোগ নেই৷ দাবি থাকবে আর সরকার যে খুব একটা মেনে নেবে তা-ও নয়৷ এর মধ্য দিয়েই আমি মনে করি সব দল নির্বাচনে যাবে এবং তারা জনগণের ওপর ছেড়ে দেবে যে, তারা নির্বাচনের দিন কী করে৷ সব দল যখন নির্বাচনে নামে, তখন মোটামুটি একটা ব্যালেন্স তৈরি হয়৷ সেই ব্যালেন্সের দিকে সবার নজর থাকবে, সেটা হয় কিনা৷’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এবার ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না৷ কারণ, বিরোধী দল বুঝতে পেরেছে যে, সেই ধরনের যদি কর্মকাণ্ড হয়, তাহলে সরকারি দলেরই সুবিধা হয়৷ তারা ধরপাকড় করতে পারে৷ তাদের অবস্থা আন্তর্জাকিভাবে খারাপ হয়ে যায়৷ কারণ, জঙ্গিবাদের সঙ্গে এর একটা সম্পর্ক করা হয়৷ আমার মনে হয়, বিরোধী দলও তাদের অভিজ্ঞতায় এটা বুঝতে পেরেছে যে, এই ধরনের সহিংসতা জনগণও পছন্দ করে না এবং অনেক ধরনের ফোর্স সুবিধা নেয়৷ সেই ফোর্সগুলো দলের বাইরেও আছে৷ সে কারণে ৫ জানুয়ারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না৷ তবে হয়ত দলের মধ্যেই সংঘর্ষ হবে৷ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে৷ আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখছি৷ দলের মধ্যেই এবার হট্টগোল হওয়ার আশঙ্কা আছে৷ তবে বিরোধী দল নির্বাচনে যাবে৷ তারা এরই মধ্যে জাতিসংঘে যাওয়া-আসা করছে৷ জোট গঠন করছে৷

সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনে সব দল অংশ নিতে পারে, কিন্তু যদি সমসুযোগ না থাকে, সমতল ক্ষেত্র যদি না থাকে, তাহলে তো অসম প্রতিযোগিতা হবে৷ তাহলে তো এই নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, নিপেক্ষ হবে না৷ অসম হওয়ার কারণ, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করনের কারণে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে গেছে৷ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এমনকি কিছু আইনকে অস্ত্রে পরিণত করা হয়েছে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করে দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি, হবেও না৷ ডিজিটাল আইনকে পুলিশের হাতে অস্ত্র হিসেবে তুলে দেয়া হয়েছে৷’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি৷ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা দেখেছি, নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার, মামলা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন৷ এখন তো আবার শুরু হয়ে গেছে৷ মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, অনুপস্থিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা তো শুরু হয়ে গেছে৷’

এদিবে বাসস আরো জানায়, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে৷ মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে৷ তবে, তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে না৷

প্রধা্নমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমরা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারি এবং তাদের দেশে ফেরার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরবে৷ তবে তেমনটি ঘটছে না৷’

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নামে একটি দ্বীপে স্থানান্তরে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন৷

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে