আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > শিল্প-সাহিত্য > গল্প ‘শোধ’ (পর্ব-১৯)

গল্প ‘শোধ’ (পর্ব-১৯)

গল্প ‘শোধ’

লুনা নুসরাত:

১৮ পর্বের পর…

কুয়াশামাখা শীতের দিনে খুব ভোরে মায়াবী আলোয় যেমন একটা অদ্ভুত ভালোলাগা মিশে থাকে ঠিক তেমনি অন্যরকম খানিকটা অচেনা মিঠে স্বাদ যেন মিথিলার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে। এতদিনের পরিচয়, চেনা মুখ, হুট করে তবু কেমন অচেনা হয়ে যায়, একটু অসংযত আচরনে। ভয় পেয়ে গিয়েছিলো কেমন! বোকা মেয়ে ভালোবাসায় বিশ্বাস নেই? তবে কেমন করে ভালোবাসলি তাকে? নিজেকে কষে ঝাড়ি দিতে দিতে নাক ঘষছিল সীমান্তের কাঁধে। দুহাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরা সীমান্ত ওর ব্যান্ড দিয়ে জড়ো করা চুল খুলে দিতেই কেমন শিউরে উঠলো অজানা ভালোলাগায়। খোলা চুলে সীমান্তর আঙুল বুকের ভেতরের ধুকপুকানিটা বাড়িয়ে দিচ্ছে জোর। এমন আর কিছুক্ষণ চললে, মিথিলাই হয়তো নিজের ওপর থেকে নিজের কন্ট্রোল হারাবে। ভালোবাসার মানুষের প্রেম স্পর্শ পেয়ে নিজেকে ধরে রাখা যেন জোর করে পাহাড়ী ছুটে চলা কোন ঝর্ণাকে আটকে রাখার অপচেষ্টাই…

: মিথি, মিথি সোনা কাঁদে না.. অমন করে কাঁদতে নেই। আমিতো তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। শুধু তোমার মুখ একটুখানি হাসি দেখতে চেয়েছি। তুমি ভয় পেয়েছো খুব, না?
: সীমান্ত, আমি.. আমি সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম। তোমাকে না শুধু নিজেকেও চিনতে ভুল করেছি। ভুল ভেবেছি সীমান্ত। তুমি.. তুমি আমাকে ভুল বুঝো না প্লীজ।
: যাহ্ বোকা মেয়ে, ভুল বুঝবো কেন? তোমার ভয় পাওয়া খুব স্বাভাবিক। এমনটা আজকাল হচ্ছে অহরহ। আমাকে তুমি কতটাই বা চেন? আর পাশাপাশি বছরের পর বছর থেকেও কি চেনা যায় একে অপরকে? এখন তুমি কান্না থামাও তো প্লীজ… নাকের পানি চোখের পানিতে আমার কাঁধ ভিজে গেল তো!
: সরি.. সরি.. নাও গেলাম সরে। বলে মাথাটা সরিয়ে নিল কিন্তু সীমান্ত ওকে জড়িয়ে ধরেই রইলো। কাঁধের বদলে মাথার ঠাঁই হলো বুকে।
: মিথি তুমি বাসায় ফিরবে কখন? তাড়া নেইতো?
: উহু.. বাসায় তো বলিনি কিছু.. বলবো কাকে বল? সবতো তোমার জানা সীমান্ত।
: হুম.. তবে আজ আর যেও না এখনি। বিকেল পর্যন্ত থাকো। আমি দিয়ে আসবো পরে।
: হুমম…

বিকেল হতে আরো ঢের দেরী। এতটা সময় একসাথে একাকী দুজন চারদেয়ালের নিরালায় থাকাটা একটু বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সেতো সকলেই জানে। তবু একটু আগের ঘটনা মিথিলার মনে নতুন এক অগাধ বিশ্বাসের চারা পুঁতে দিয়ে গেছে গোপনে। সে বিশ্বাসে ভর করেই আজ দিনটা থাকবে এখানে সীমান্তর সাথে। কত কিছুই তো ঘটতে পারে! একটা ভুল, আচমকা বদলে দিতে পারে সব। এই হৈ চৈ দামাল নিরুপদ্রব জীবন হয়তো সে ভুলের মাশুল গুনবে চিরটাকাল। তবু দুজন দুজনকে পাশাপাশি এতটা কাছাকাছি পাবার লোভ এড়াতে পারে না। পরিনতি হয়ত সুখকর কিছুতে নাও গড়াতে পারে, তবুও।

: মিথি, তুমি খিচুড়ী রাঁধতে পারো?
: যাহ্.. এটা একটা কথা বললে তুমি? খিচুড়ী রাঁধতে পারে না এমন কেউ আছে নাকি? চাল-ডাল-তেল-মশলা একসাথে মিশালেই তো হয়ে গেল।
: উহু… হলো না। আজ তোমাকে আমি শিখাবো খিচুড়ী কেমন করে রাঁধে। চল কিচেনে, আমার পিছে পিছে। আজ আমি হেড কুক, তুমি এসিসট্যান্ট।
: হুহ্.. খুব আসছে হেড কুক! দেখা যাবে কি স্পেশাল হয় তোমার খিচুড়ী!
: আগে তো চল, রেজাল্ট পরে।

দুজনে কিচেনে ঢুকে শুরু করে দিলো রান্নার যজ্ঞ। মিথিলা চাল-ডাল ধুয়ে নিয়ে পাতিলে বসিয়ে দিলো। হেড কুক ব্যস্ত কাটাকুটিতে। পেঁয়াজ কাটতে নাকের পানি চোখের পানিতে একাকার। মিথি দেখছে আর মিটিমিটি হাসছে। কি দারুণ লাগছে সীমান্তকে। ছেলেরা কিচেনে বেমানান বলেই দেখে আর শুনে এসেছে সবসময়। আজ তার মনে হলো ভুল। কিচেনে ছেলেদের সামান্য উপস্থিতি গরমে রান্নার কষ্টকর কাজটাকে মুহূর্তে করে দেয় অনেক আনন্দময়। সত্যি আগে এমনটা হয়নি কখনো। সীমান্তর সাথে পরিচয় তো আজ বহুদিনের কিন্তু আজ যেন নতুন করে দেখা হলো, চেনা হলো, জানা হলো এক নতুন সীমান্তকে। এতটা আন্তরিক, এতোটা সীমার বাঁধনে বাঁধা সীমান্তকে আরো নতুন করে, আরো নিজের করে পাওয়া। মনের ভেতরে অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি পাখনা মেলে উড়তে লাগলো মিথির সারাটা আকাশ জুড়ে।

: এই যে দেখ, সব মশলা-পেঁয়াজ-তেল, টুকরো করা আলু আর ফুলকপি দিলাম, কাঁচামরিচ এখন দেব না। নামানোর আগে দিয়ে দেব, তাহলে একটা কাঁচামরিচের ঘ্রাণ আসবে, বুঝলে সোনা? আর সবশেষে কি দেব বলতো?
: উমম… ঘি..
: উহু হয়নি, ডাব্বা মেরেছো। গরীবের ঘরে ঘি থাকে না ম্যাডাম.. হা হা হা… হাসলো সীমান্ত, যেন খুব মজার কিছু বলেছে।
: তাহলে?
: ওকে, এখন না বলি। যখন দেব তখন দেখো… এখন আপাতত কাজ শেষ। খিচুড়ী হয়ে গেলে বেগুন ভাজব আর বেশী করে পেঁয়াজ কাঁচামরিচ দিয়ে ডিম ভাজি। তো মিথি ম্যাডাম আমরা এখন কি করবো বলেন?
: হুমম.. চলো মুভি দেখি।
: মুভি? এত সুন্দর সময়টা, তোমাকে এত কাছে পেয়ে সময়টা মুভি দেখে নষ্ট করবো? নো ওয়ে.. চল তোমাকে একটু আদর করে দিই… দুষ্টু হাসি খেলে গেল সীমান্তর চোখে..
: আবার… প্লীজ আবার শুরু করোনা। আমার ভয় হয় সীমান্ত। এই আসা, তোমার সাথে একলা কাটানো সময় এটুকু পর্যন্ত ঠিক আছে কিন্তু এর বেশী চেয়ো না। আমি পারবো না। আমার ভেতরে যে আমি তাকে অপমানিত করতে পারবো না। আর তুমি জানো আমার বাসার অবস্থা। দাদা যদি টের পায় কোনরকমে, তো আস্ত রাখবে না আমাকে। আর শুধু আমাকে হলেও কথা ছিলো, তোমার যে কি হাল করবে সে তুমি ভাবতেও পারবে না সীমান্ত।
: আর তোমার দাদা! এই লোকটার জন্য ঠিকঠাক মত প্রেমটাও করতে পারলাম না। এটা করা যাবে না, ওদিকে যাওয়া যাবে না, ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হাজারো ফ্যাকরা। শহরের বাইরে যেতে কত ছলচাতুরী। এই মিথি তোমার দাদা আসলে করে কি বলতো? গুন্ডা নাকি?

কি বলবে সীমান্তকে তার দাদার কথা! দাদা তো ছোট বেলায় কত আদর করতো মিথিকে। তাকে নিয়ে খেলতে যেত মাঠে, কেউ যদি বাধ সাধতো খেলায় নিতে প্লাস্টিকের পা লাগানো খোঁড়া মিথিকে, তো তাকে মেরে ধরে চলে আসতো বাসায় ফিরে, আর সে কি কান্না তার। তখন মাকেই উল্টো বুঝাতে হতো দাদাকে, মিথির কান্না থামানোর বদলে। দাদা পড়ালেখায় ভালো ছিল। কিন্তু কলেজে উঠে কেন যেন বদলে গেল। বাসায় থাকতো না, রাতেও অনেক সময় ফিরতো না। এ নিয়ে বাবার চ্যাঁচামেচি, মায়ের কান্না, মিথিলার ভেতরটাকে অস্থিরতায় ভরে রাখতো। কৈশোরের মিষ্টি কোন স্মৃতি নেই তার। শুধু একটা শূন্যতা ঘিরে ছিলো তাকে সবসময়। তার দাদা বদলে গেল কেন এমন হুট করে? ছোট বেলায় খুব ক্ষেপাতো তাকে। মনে হয় এক যুগের ও বেশি কেউ তাকে দেখে সুর করে ছড়া কাটেনা….

মিথিলা.. পিথিলা…
আর কটা দিন থাক…
যাস না চলে বরের সাথে…
ঐ বরের মাথায় আছে কিন্তু এত্ত বড় টাক…

সত্যি কি তার ভাইয়া গুন্ডা? বখে তো গিয়েছিলো আগেই। পরপর দুদিন দুরাত বাসায় ফেরেনি, মিথিলাই খোঁজ নিতে গিয়েছিলো দাদার বন্ধুর বাসায়, এক পাড়াতেই বাড়ি। ওকে দেখে চোখে লোভ আর ঠোঁটে মিষ্টি হেসে বলেছিলো, ওর খোঁজ করে সময় নষ্ট না করতে। তারচে বরং নিজের জন্য বর খুঁজতে।
কারন জানতে চায়নি মিথিলা, মুখটা নামিয়ে নিয়েছিলো শুধু, অপমানে। তার মধ্যবিত্ত বাবা আর বখে যাওয়া ভাই তার মতো পঙ্গু মেয়েকে হয়তো একটা ভালো ঘর-বর দিতে পারবে না এরকম ইশারা ছিলো সে কথায়। তবু আরেকবার জানতে চেয়েছিল দ্বিধাভরে,

: আমার দাদা কোথায়?
: তোর দাদা? জানিস না? পাড়ার সবাই জানে আর তুই জানিসনা? কাল সন্ধ্যায় তুলে নিয়ে গেছে টহল পুলিশ। তেজ দেখিয়েছিল হয়ত, তাই দিয়েছে ঠ্যাঙানী। সরকারী হাসপাতালে ফেলে রেখে গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখ, আছে বেঁচে না মরেছে শালা।

আর কথা বাড়ায়নি মিথিলা, চলে এসেছিলো সোজা বাসায়। কেঁদেকেটে পাঠিয়েছিলো বাবাকে দাদার খোঁজ নিতে। মুখভার করে গিয়েছিলো বাবা, শুধু মিথিলার জন্য। দাদাকে ফিরিয়ে এনেছিলো মাসখানেক পর। কিন্তু দাদা কি বদলেছিলো নিজেকে, এত কিছুর পরও?

: কি ভাবতে বসলে মিথি? ওহ্ দাদাকে গুন্ডা বলায় রাগ হয়েছে বুঝি? সরি আর বলবো না কখনো। এখন চলতো তুমি না মুভি দেখবে। একটা মুভি ডাউনলোড করে রেখেছি তোমার সাথে দেখব বলে, সেই কবে থেকে। চলো ওটাই দেখি।
: হুম চলো। সীমান্তর হাত ধরে সিটিং রুমের সোফায় গিয়ে বসলো। কিন্তু মন জুড়ে কেবলি পুরনো স্মৃতিগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। পুরনো শ্যাওলা জমা দিঘীর জলে বর্ষীয়ান কাতলার মতে ঘাই মারছে থেকে থেকে। উফ্! কেন সব আগের মতো হয়ে যায় না? কেন তাদের সুন্দর সাজানো গোছানো সংসারটা শিকড় কাটা গাছের মত একটু একটু করে শুকিয়ে যাচ্ছে? যদি মিথিলার হাতে থাকতো একটা জাদুর প্রদীপ, তবে তাতে ঘষা মেরে ঠিক বের করে আনতো জিনিকে। আর হুকুম করতো; জিনি, দাও তো সব আগের মত সুন্দর করে, তোমার একটা জাদুর ফুঁ মেরে।

আর সেই নীল রঙা বিশাল দৈত্য ছুঁচালো দাঁড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে বলত, “যো হুকুম আমার আকা”।

সত্যি যদি রূপকথার গল্পগুলো বাস্তবে থাকতো তবে কি দারুণ ব্যাপার হতো।

: এই মিথি.. এই.. আরে বাবা হলোটা কি বলতো? মুভি দেখবে নাকি অন্য কিছু চাও? বলে হাতটা তুলে গালটা ছুঁয়ে দিলো মিথিলার।
: আহ্ সীমান্ত, বড্ড দুষ্টু তুমি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খালি ওদিকেই যাও কেন বলতো? নাও.. কি ছাই দেখাবে বলে, দেখাও।
: হুমম… রোমান্টিক ছবি.. তবে তোমার সাথে দেখে পোষাবে না মনে হচ্ছে, যে আনরোমান্টিক তুমি!
: কি.. আমি আনরোমান্টিক? যাও.. দেখবো না, থাকবোও না। কপট রাগে উঠে দাঁড়াতে গেল মিথিলা।
: আরে.. আরে.. কই চললে.. বাব্বাহ্ তোমার সাথে মজাও করা যায় না। এখনো তুমি খুকিই রয়ে গেলে!
: আমি খুকি? আবার? যাও..
: আচ্ছা হয়েছে তুমি খুকি নও… তুমি বুড়ি.. আমার রোমান্টিক বুড়ি। এবার হয়েছে? এখন বসো তো চুপচাপ, মুভিটা দেখ মন দিয়ে। জটিল স্টোরি, আমি আগে একবার দেখেছি। এবার তোমার সাথে দেখবো।
: মুভির নাম কি.. দ্যা ভো! মানে শপথ? কিসের শপথ? শপথ তো নিতাম স্কুলে, আমি ওয়াদা করিতেছি যে…
: কি শুরু করলা, থামো.. থামো। এইটা ঐ শপথ না। বিদেশে বিয়ের সময় নেয় তো ওরা… আজব দেখনি কোনদিন মুভিতে?
: হি হি… মজা করলাম একটু। চল দেখি।

পাশাপাশি বসে সোফায় হেলান দিয়ে দেখতে শুরু করলো দুজনে রোমান্টিক মুভি।

*********

কফি শেষ করে দুজনে আবার বের হলো, এবারে গন্তব্য আর অনিশ্চিত নয়। অন্তত রাতুলের খুব চেনা ডেস্টিনেশন। আগেও বহুবার এসেছে তবে প্রতিবারই নতুন করে এনজয় করেছে। লাইফ তো একটাই বাট ওয়ান ক্যান মেক সেভারেল ডাইমেনশন অফ ইট। হোয়াট ইউ নিড, ইজ উইল পাওয়ার। ইচ্ছেটাই জরুরী, দ্যা রেস্ট উইল কাম ইন টাইম। রাতুল জীবনটাকে খুব করে দেখতে চায়, কাছে থেকে ছুঁতে চায়। উল্টে পাল্টে, খোলসের ভেতরে থাকা মানুষগুলোকে বুঝতে চায়। কষ্ট, আনন্দ বা তীব্র ব্যাথার অনুভূতি তার নেই। মে বি হি কান্ট রিলেট টু এনি ইন্সটিংকটস। টু হিম লাইফ ইজ আ গেম.. আ বিউটিফুল গেম এন্ড হি ট্রাইস টু টেস্ট অল অফ ইট। নো ম্যাটার হি উইনস অর ল্যুজ!

গাড়িতে মিউজিক বেজে চলেছে, আর তার তালে তালে পা নাচাচ্ছে রাতুল, হি ইজ ফ্রি নাউ। স্টিয়ারিং হুইল এখন সামারার হাতে এন্ড ইয়েস, শি ড্রাইভস্ টু রাফ! দ্যুমদাম করে ওভারটেক করছে, সিলেট হাইওয়েতে কম্পারেটিভলি রাশ কম। তাই ড্রাইভিং সীটে বসতে দিয়েছে সামারাকে। নইলে রাতুল কান্ট রিস্ক হিজ লাইফ! কজ হিজ সার্চ ফর লাইফ ইজ স্টীল অন!

: সামারা, কান্ট ইউ ড্রাইভ আ বিট স্মুথ?
: হোয়াট স্মুথ? নো.. আই লাইক ইট ইন দিস ওয়ে। পুতুপুতু করে গাড়ি ড্রাইভ করে কোন সুখ আছে?
: হেল বেবি… ইন কেস যদি কোন আ্যাকসিডেন্ট করে বস, তখন?
: ওহ্ মাই মাই… রাতুল! তুমি ভয় পাচ্ছ! শেম অন য়্যু!
: ওহ্ গড.. নো.. নো… আই ডোন্ট ফিল ফিয়ার, জাস্ট ইন কেস যদি কিছু হয় তো আই উইল মিস য়্যু… তাই বলছিলাম।
: ওহ্ বেবি… আমাকেই মারতে চাও! উহু সে হচ্ছে না… স্টিয়ারিং হাতে থাকলে আমি একটু রাফ হয়ে যাই.. এই আরকি.. দ্যাট ডাজন্ট মিন আমার গ্রীপ ভালো না অর সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করতে পারবো না। হুহ্..

এগিয়ে এসে ফুঁসতে থাকা সামারার মাথার পনিটেইলটা খুলে দিলো। এলোমেলো ছড়িয়ে পড়া স্থির কার্লি চুলের ভেতর হাত গলিয়ে একটু টেনে নিলো নিজের দিকে। সামারার চোখ সামনের কালো পথের উপর স্থির। কানের কাছে মুখটা এনে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো রাতুল,

: লেট মি সী, হাউ গুড ইউ আর ইন ড্রাইভিং… এন্ড হাউ স্মুথলি ইউ ক্যান হ্যান্ডেল দিস সিচুয়েশন!

গলার কাছটায় রাতুলের গরম শ্বাস আর ঠোঁটের ছোঁয়ায় স্টিয়ারিংয়ে রাখা হাত দুটো কেঁপে যাচ্ছে। কিন্ত মগজে ঠিক চলছে লড়াই… বাঁচার লড়াই… এর মাঝেও ভালোলাগার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে শরীর জুড়ে। রক্তে তীব্র নাচন, শিরায় উপশিরায় তুমুল বেগে ছুটতে শুরু করেছে। রাতুলের হাত শার্টের টপ বাটনটা টুক করে খুলতেই গাড়িটা সাইড রোডে ধাম করে ঢুকিয়ে স্টার্ট বন্ধ করে দিল সামারা। গ্রীপ… কন্ট্রোল… হু মেড দিজ সিলি ওয়ার্ডস! দে লুক পারফেক্ট অনলি ইন বুকস্ বেবি…

চলবে….

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে