আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > আরাফাত ময়দানে দুর্যোগ

আরাফাত ময়দানে দুর্যোগ

sand storm in arafat

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়েছেন হজ পালনে সৌদি আরবে যাওয়া ২০ লাখ মুসল্লি। গতকাল রবিবার রাতে মুসল্লিরা যে সময় মিনায় অবস্থান করছিলেন, সে সময় সেখানে তীব্র ঝড়ো বাতাস হয়েছে বলে জানিয়েছে, সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলো।

হজযাত্রীরা আজ মিনা থেকে আরাফাত ময়দানে জড়ো হচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদফতরকে উদ্ধৃত করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবারও বিরূপ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে এদিন তীব্র গরম আর ধূলিঝড়ের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আরব নিউজ আর সৌদি গেজেটের খবর থেকে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় মিনায় ধূলিঝড় হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে আজ হজের দিনও আরাফার ময়দানে তীব্র তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতার আশঙ্কা করা হচ্ছে । এছাড়া ধূলিঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। দেশটির আবহাওয়া ও পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মক্কায় ধূলিঝড় ও বৃষ্টি হতে পারে।

রবিবার ধুলিঝড় শুরু হলে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন। সেসময় হালকা বৃষ্টিপাতও হয়। ফলে তাপমাত্রা কমে যায়।  আরব নিউজ জানায়, মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার সময় হাজিরা বৈরী আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। একটু পরপরই আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলো। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি শুরু হয়। তবে তা একঘণ্টাও স্থায়ী হয়নি। এরপর আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মিনায় যান মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালেদ আল ফয়সাল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হওয়ায় হজ ব্যবস্থানা কমিটির চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সৌদকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট জানায়, সোমবার তীব্র গরম ও আর্দ্রতা থাকবে। তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি হতে পারে এবং আর্দ্রতার ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া সোমবার ধূলিঝড়েরও আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির আবহাওয়া ও পরিবেশ রক্ষা কর্তৃপক্ষের তরফে মুখপাত্র হুসেইন আল কাহতানি জানান, আজকের (রবিবার) বিরূপ আবহাওয়া আগামীকাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে আরাফাত ময়দানে অংশগ্রহণ। সোমবার সকাল থেকেই ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা। মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এখানে যেতে হয়, থাকতে হয় সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

আরাফাতের ময়দান থেকে মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন তারা। এখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন তারা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। বুধবার (২২ আগস্ট) সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা।

এবছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৬ জন হজ পালন করছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস ঢাকার পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বাংলাদেশ মিশনসহ প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা হজ পালনের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন থাকবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই সৌদি আরব গিয়েছেন বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সহযোগিতা ও জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য। জেদ্দা, মক্কা ও মদিনাতে তিনটি মেডিক্যাল স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে ৩০ জন চিকিৎসক ও নার্স হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবা দেবেন। একেবারে জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে স্থানীয় হাসপাতালে হজযাত্রীদের পাঠানোর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে