আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ক্যাম্পাস > ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে ইচ্ছা মাফিক ভর্তি ফি ও বেতন আদায়

ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে ইচ্ছা মাফিক ভর্তি ফি ও বেতন আদায়

ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে ইচ্ছা মাফিক ভর্তি ফি ও বেতন আদায়

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আবারও স্বেচ্ছাচারিতার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এবার অভিযোগ সমন্বয়হীনতার। পরীক্ষা ফি গ্রহণ, ভর্তি বা অন্যান্য বিষয়ে কলেজগুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো নিদের্শনা না থাকায় বিভিন্ন কলেজ তাদের সুবিধামতো ফি আদায় করছে।

আর এ সব সমন্বয়হীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আবারও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি অধিভুক্ত কলেজগুলোর তৃতীয় বষের্র শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা জমা দেয়ার আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ থাকাকালে ফরম পূরণ করতে ও ভর্তি হতে যে টাকা জমা দিতে হতো এখন তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ টাকা দিতে হচ্ছে।

এরচেয়েও বড় বিষয় হলো, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হলেও সাত কলেজের কোনোটিরই ভর্তি ও ফরম পূরণের ফি-এর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। ফলে প্রত্যেক কলেজ তাদের ইচ্ছাধীন ফরম পূরণ ও ভর্তি ফি আদায় করছে।

বাড়তি ফি-এর বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও তাকে যথার্থ গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন মনে করছে না বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছেন, বিষয়টিতে কোনো ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তারা তা দেখবেন। তবে একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সাত কলেজ ইস্যুতে তাদের নিজেদের মধ্যেও মতানৈক্য রয়েছে। আর কারণ হিসেবে তারা বাস্তবতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামর্থ্যের মধ্যকার সমন্বয়হীনতাকে উল্লেখ করেছেন।

আর কলেজগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো নিদের্শনা নেই। ফলে তারা নিজেদের মতো করে ফি-এর বিষয়টি নিধার্রণ করেছেন।

১২ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে কলেজগুলোর তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং ভর্তি বাবদ যে টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে তা একেক কলেজে একেক রকম। এ সব কলেজের ভর্তির টাকার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট নোটিশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফরম পূরণ ও ভর্তি বাবদ কোনো কলেজে টাকা জমা দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা আবার কোনো কলেজে আট হাজার টাকা। বড় ধরনের ব্যবধান থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বলছে, বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

আবার এসব কলেজের একেকটির কতৃর্পক্ষের সঙ্গে কথা বলেও পাওয়া গেছে একেক রকমের বক্তব্য। কেউ বলছেন, তারা নীতিমালা মেনে এ ফি নিধার্রণ করেছেন। আবার কেউ বলছেন, তারা নিজেদের মতো করেই এটি দিয়েছেন।

তবে এ সব কলেজের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ বলছে তারা এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা বা নিদের্শনা দেয়নি।

ফরম পূরণ ও ভর্তির যে নোটিশ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা কলেজের নোটিশ ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি এর শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ফি ও বেতন ২৮০৬ টাকা নিধার্রণ করেছে। আর পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ২২০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সবমিলে খরচ পড়ছে ৫ হাজার ছয় টাকা।

তবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ অন্য একটি কলেজ সরকারি বাংলা কলেজের নোটিশ ঘেঁটে দেখা গেছে, এখানে ভর্তি ও বেতন মিলে ধরা হয়েছে ৪০৩৫ টাকা। আর ফরম পূরণ বাবদ সর্বোচ্চ ৩০২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মোট খরচ পড়ছে, ৭ হাজার ৬০ টাকা।

আবার তিতুমীর কলেজে ভর্তি ও বেতম মিলে ৩২১৬ টাকা এবং পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ ২৪০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। সবমিলে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫৬১৬ টাকা। বাকি কলেজগুলোরও ফরম পূরণ ও অন্যান্য ফি’তে এমন বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে দেশের কোনো সরকারি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকোর্স পরীক্ষার জন্য ফি গ্রহণ করা না হলেও এবার সাত কলেজের কয়েকটি ইনকোর্স বাবদও ফি আদায় করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃর্পক্ষ জানিয়েছে তারা নিজেরা ইনকোর্সের কোনো ধরনের ফি গ্রহণ করে না। এমনকি সাত কলেজকেও এ ধরনের কোন নিদের্শনা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। এ বিষয়ে আমার কাছে সঠিক তথ্য নেই। তবে আমাদের এখানে ফরম পূরণের ফি অনেক কম। বিষয়গুলো ওই সব কলেজের কর্তৃপক্ষই নিধার্রণ করেছেন। আমরা এ বিষয়ে কোনো নিদের্শনা দেইনি।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে একবারে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী উপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে আমাদের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা নিয়ে নানা ধরনের রাজনীতি হচ্ছে। ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রশাসনকে যদি হঠাৎ করে আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব দিয়ে দেয়া হয় তবে ওই প্রশাসন আর সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। কলেজগুলোকে আমাদের মতো করে গুছিয়ে নিতে আমাদের আরও সময় প্রয়োজন। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। আমরা কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের সমস্যা বুঝি। কিন্তু আমরাতো আমাদের সামর্থ্যের বাইরে যেতে পারছি না। এটা কেউ বুঝতে চায় না।’

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন মোল্লাহ বলেন, ‘এগুলো আমরা সরকারি নীতিমালা অনুসারে করেছি। অন্য কোনো কলেজের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে আমার কলেজ নিয়ম মেনেই এটা করেছে।’

বিষয়টি নিয়ে সরকারি বাংলা কলেজে যোগাযোগ করলে এখানকার কর্তৃপক্ষ কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তিতুমির কলেজের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে