আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

১৭ আগস্ট, ২০০৫। ঠিক ১৩ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আজকের দিনে দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালায় জেএমবি’র (জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) জঙ্গিরা।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে একযোগে রাজধানীসহ দেশের ৩০০টি স্থানে ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এ সিরিজ বোমা হামলায় দু’জন নিহত হন, আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। ৬৪ জেলার মধ্যে শুধু মুন্সিগঞ্জ জেলায় কোনো বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি সেদিন।

হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা-সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেছে বেছে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা।

হামলার জায়গাগুলোতে জেএমবির লিফলেট ছড়িয়ে দেয় জঙ্গিরা। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয় লিফলেটগুলোতে। ‘দ্রুত এদেশে ইসলামী হুকুম কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি।’ বিচারকদের বিশেষ বার্তা লিফলেটে লেখা ছিল এ ধরনের কথা। ইসলামী আইন বাস্তবায়ন না হলে আবারও হামলার হুমকিও দেয় জেএমবি।

সিরিজ বোমা হামলায় সারাদেশের বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। এর কিছুদিন পর আবারও ধারাবাহিক হামলা করে জেএমবি। ওই বছরই ৩ অক্টোবর চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের জেলা আদালতে বিচার কাজ চলাকালে দুপুর ১২টায় আবার একযোগে বোমা হামলা চালানো হয়। এজলাসে ঢুকে বিচারককে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মারা হয়। তিন জেলা আদালতে ৩টি করে মোট ৯টি বোমা ছোড়া হয়। এ ঘটনায় চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে দায়েরকৃত মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এসব মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, জাভেদ ইকবাল, আবু জহর, জাহেদুল ইসলাম সুমন, শাহাদাত হোসেন ও লাল্টুকে আসামি করা হয়। এর ১৫ দিন পর ১৯ অক্টোবর সিলেটের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীকে হত্যা করতে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বোমার আঘাতে মারাত্মক আহত হন।

মাসখানেক পরেই ১৫ নভেম্বর বহুল আলোচিত ঝালকাঠি শহরের অফিসার পাড়ায় জাজেস কোয়ার্টারের সামনে বিচারকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে শক্তিশালী বোমা হামলা চালানো হয়। বোমা বিস্ফোরণে ঝালকাঠি জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও জগন্নাথ পাড়ে নিহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পান আরেক বিচারক আব্দুল আউয়াল। এ ঘটনায় ২টি পৃথক মামলা করা হয়।

এরপর ৩০ নভেম্বর গাজীপুর ও চট্টগ্রাম আদালতে পৌনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে আত্মঘাতী জঙ্গিরা গায়ে বোমা বেঁধে হামলা চালায়। এতে ২ জঙ্গিসহ ৯ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা আদালতে আবারও চায়ের ফ্ল্যাক্সে করে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৭ জন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়।

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর

এদিকে, বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকার সূর্য দীঘল বাড়ি থেকে, জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইকে ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার চেচুয়া বাজারের রামপুরা গ্রাম থেকে, হুজি প্রধান মুফতি হান্নানকে ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বানিয়াচালা মসজিদ থেকে, আব্দুল আউয়াল ওরফে আদিলকে ২০০৫ সালের ১৮ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য আতাউর রহমান ওরফে সানিকে ২০০৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য হাফেজ রাকিব হাসান ওরফে মাহমুদকে ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে এবং জেএমবির সূরা সদস্য মো. সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে তৌহিদকে ২০০৬ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিডিএ এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলাটি পরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০০৬ সালের ৩০ মে মামলার রায়ে শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, মাসুম, খালিদ, সাইফুল্লাহসহ মোট ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ এদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

অদ্যাবধী বিভিন্ন সময় জেএমবির জঙ্গি কার্যক্রমের ঘটনায় পুরনো মামলার সঙ্গে নতুন নতুন ঘটনায় মামলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সাজাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পায় অপরাধীরা। কিছু মামলা এখনও চলমান।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে