আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধ বা আলোচনায় বসবে না ইরান

ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধ বা আলোচনায় বসবে না ইরান

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আয়াতুল্লাহ খামেনি

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে যেমন যুদ্ধ হবে না তেমনি তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও বসবে না তেহরান। সোমবার ইরানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক মানুষের সঙ্গে তেহরানে এক মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এখবর জানিয়েছে।

খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ হবে না, কারণ আমরা অতীতের মতোই কখনও আগে যুদ্ধ শুরু করব না। এ ছাড়া, মার্কিনিরাও আগে হামলা শুরু করবে না। কারণ সেক্ষেত্রে তারা শতভাগ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইরানের জনগণ প্রমাণ করেছে, তারা যেকোনও আগ্রাসী শক্তিকে দাঁতভাঙা জবাব দেয়।

আলোচনার ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন,  নিখুঁত বিশ্লেষণ, অতীত অভিজ্ঞতা এবং একটি প্রতারক ও আধিপত্যকামী শক্তির সঙ্গে আলোচনার ক্ষতির কথা বিবেচনা করে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসব না। যদি কখনও আমরা আলোচনায় বসতে রাজি হই তবে তা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে হবে না।

পরমাণু সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিণতির সুস্পষ্ট নমুনা হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, তাদের সঙ্গে বিশ্বের যে দেশই আলোচনায় বসেছে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যদি আলোচনায় বসা দেশটি আমেরিকার তাঁবেদার হয় তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু মার্কিন সরকার সম্প্রতি ইউরোপীয়দের সঙ্গেও অসদাচরণ করেছে।

উল্লেখ্য, জয়েন্ট কম্প্রিহেন্সিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী তেহরান মধ্য-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরিত্যাগ ও নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমাতে সম্মত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাইরে থেকে জ্বালানি সরবরাহের শর্তে ইরান ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল ইরান। কিন্তু গত মে মাসে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশ ও সংস্থা চুক্তিটি বহাল রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করা অন্য দেশগুলো হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

৭ আগস্ট ইরানের স্বর্ণ ও অন্য মূল্যবান ধাতু বাণিজ্যকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী নভেম্বর থেকে ইরানের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে