আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রি করবেনা যুক্তরাষ্ট্র

তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রি করবেনা যুক্তরাষ্ট্র

war plane

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তুরস্কের কাছে সামরিক বিমান বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন ধর্মযাজককে গ্রেফতার করা নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার এই ঘোষণা দেয় দেশটি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক বাজেটে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাজেট ঘোষণায় তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিরক্ষা বিভাগকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর আগে তুরস্কের কাছে কমপক্ষে ৯০ দিনের জন্য বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর আগে জানিয়েছে, মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মযাজক ব্রানসনকে তুরস্কের আদালতে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরই দেশটির ওপর অবরোধের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান হাতে পাওয়ার আশায় ছিল তুরস্ক। জুন মাসের শেষের দিকে তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজদাগ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহ করা হবে।‘  তিনি আরও বলেন, বিমানগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে মুক্তির শর্ত বেঁধে দেওয়া হলে তা হবে ‘হুমকি’র শামিল।

সোমবার স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেটে বলা হয়েছে কমপক্ষে ৯০ দিনের জন্য তুরস্কের কাছে এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান বিক্রি বন্ধ রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কংগ্রেসের কাছে প্রতিবেদন দিতে প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন জমা না হওয়া পর্যন্ত তুরস্কের কাছে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করা যাবে না।

মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে গ্রেফতার করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে টানাপোড়েন অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তুরস্কের ওপর বেশ কিছু বিধি-নিষেধও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ব্রুনসনর মুক্তি দাবি করছে আর তুরস্ক বলছে সে ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলে আসছেন, ব্রানসনকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত চায় তুরস্ক। ফেতুল্লাহ গুলেনকে ওই অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিহিত করে থাকে তুরস্ক।

২২ বছর ধরে তুরস্কে বসবাস করা মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু ব্রুনসন পেশায় ধর্মযাজক। তার আইনজীবী বলেছেন, ব্রানসনকে একটি ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ ব্রেসলেট পরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য না হয়েও তাদের পক্ষে অপরাধ সংঘটিত করার’ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণ হলে আরও ২০ বছরের দণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। তবে এসব অভিযোগ জোরালোভাবেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

এদিকে ব্রুনসনের মুক্তির  ব্যাপারে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সোমবার সেদেশে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্রুনসনের গ্রেফতারের বিষয়ে আলোচনা করেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, তুর্কি রাষ্ট্রদূত সেরদার কিলিকের অনুরোধে জন বোল্টন হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। তারা অ্যান্ড্রু ব্রুনসনের আটক ও যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্কে নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে ব্রুনসনকে মুক্তি দিতে সময় সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ’কে সহায়তা করায় ক্ষুব্ধ হয় তুরস্ক। আইএস বিরোধী লড়াইয়ে এসডিএফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। এজন্য তাদের অস্ত্র ও বিমান সুবিধাও দিয়েছে দেশটি। এমনকি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু তুরস্ক এসডিএফ’কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। তারা গোষ্ঠীটিকে তুরস্কের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে মনে করে থাকে।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে