আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > চার প্রতিষ্ঠান পেয়েছে বিটিআরসি’র শেয়ারিং লাইসেন্স

চার প্রতিষ্ঠান পেয়েছে বিটিআরসি’র শেয়ারিং লাইসেন্স

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

চারটি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) টাওয়ার শেয়ারিং ব্যবসার লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে । গত ৫ আগস্ট বিটিআরসির একটি সভায় ওই চার প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 চার প্রতিষ্ঠান হলো-  ইডটকো বাংলাদেশ, টিএএসসি সামিট টাওয়ার, আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড।

এর আগে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিতে জানুয়ারি মাসে গাইডলাইন জারি ও  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিটিআরসি। টাওয়ার শেয়ারিং ব্যবসার লাইসেন্স নিতে ১১ জুলাই আবেদনের শেষ তারিখ ছিল। সেদিন পর্যন্ত কমিশনের কাছে আটটি প্রতিষ্ঠান টাওয়ার শেয়ারিং সেবার লাইসেন্স নিতে আবেদন জমা দেয়।

এরপর ১৫ সদস্যের একটি কমিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নম্বর দেয়। দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরে সেগুলো চূড়ান্ত করা হয়।

আট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯১ নম্বর পেয়ে যোগ্যতাক্রমে প্রথম হয় ইডটকো বাংলাদেশ। ৮৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টিএএসসি সামিট টাওয়ার, ৮৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ৮২ নম্বর পেয়ে ৪র্থ হয়েছে।

এছাড়া ৮০ নম্বর পেয়ে যমুনা টাওয়ার লিমিটেড পঞ্চম, এফটিএ বাংলাদেশ লিমিটেড ৭৫, বিডি টাওয়ার বিজনেস কো লিমিটেড ৬৯ সপ্তম হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি অংশীদার না পাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিকমিউকেশন কোম্পানি লিমিটেড কোন নম্বরই পায়নি।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোনো একটি কোম্পনির নূন্যতম পাঁচ হাজার সাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হলে তখন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে। তবে নিজেরা আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না।

যে চারটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাচ্ছে তাদের ফি হিসেবে ২৫ কোটি ও বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা দিতে হবে। রাখতে হবে ২০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি।

প্রতিটি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ৭০ শতাংশ। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথম বছর কোম্পানিটিকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।

দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার নিতে হবে।

নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক জনবল লাগছে টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষেণ। এ ছাড়া টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব রয়েছে। এসব কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে আনছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেবা নিয়ে থাকে তারা।

ফলে একই অবকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে তা থেকে সেবা পেতে পারে একাধিক অপারেটর। দেশেও তা অনুসরণ করা হবে এবার।

নীতিমালা অনুসারে, লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানিকে আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হবে। অন্যদিকে ১ শতাংশ দিতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে। দেশে এখন ৩০ হাজারের বেশি টাওয়ার রয়েছে।

এএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে