আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজনীতি > সরকার বিএনপি আতঙ্কে ভুগছে: ফখরুল

সরকার বিএনপি আতঙ্কে ভুগছে: ফখরুল

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি আতঙ্কে ভুগছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে পেশিশক্তি দিয়ে দমন করার অপকৌশল হিসাবে বিএনপিসহ আন্দোলনকে সমর্থনকারী রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এমনকি সচেতন ব্যক্তিবর্গদের ফ্যাসিষ্ট কায়দায় নিপীড়ন চালিয়েছে।

শুক্রবার (১০ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই সরকারি দল ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অমানবিক ও বর্বোরোচিত হামলা চালিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করেছে। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হোস্টেলে ও আবাসস্থলে গিয়ে ছাত্রদের মারপিট করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এ সব কিছুই ঘটেছে পুলিশের চোখের সামনে এবং তাদের সহযোগীতায় ঘটেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংঠগন এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীগণ ও পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এই শিশু কিশোরদের ৯ দফা দাবি আন্দোলন ও কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমরাও বিএনপির পক্ষ থেকে এবং ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য ও জরুরি এসব দাবি দাওয়ার প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে জনগণের জানমাল রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকার প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উস্কানি আবিস্কারের অপচেষ্টা চালাতে শুরু করে।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনেই এই সরকার একই কাজ করেছে এবং এই সুযোগে বিরোধী দলের ও মতের নেতাকর্মী ও আন্দোলনে সক্রিয়দের বিরুদ্ধে হায়েনার মত আক্রমন চালিয়েছে। তাদের আক্রমনে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা গুম হয়েছে, আহত হয়েছে, মিথ্যা মামলায় হয়রানি হয়েছে। প্রবীন রাজনীতিবিদ ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাদের কটুক্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন যে, এসব আক্রমন নাকি বিএনপি-জামায়ত কর্মীরা করেছে। এদেশের এমন কোন পাগলও নেই যে তারা বিশ্বাস করবে যে পুলিশের সহায়তায় এবং তাদের সামনে বিএনপি-জামায়ত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করবে, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমন করবে আর তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে না। হেলমেট পরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারী ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী ছিল এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বলার পরেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়। তারাই পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সেই পুলিশ তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোসধারীদের মানুষ কোপানোর এবং অতঃপর নির্বিঘ্নে সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পর হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে