আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > ‘পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে প্রশ্ন ফাঁস করত ডিজিটাল চক্র’

‘পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে প্রশ্ন ফাঁস করত ডিজিটাল চক্র’

প্রশ্ন ফাঁসের ডিজিটাল চক্র

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

‘পরীক্ষা শুরুর ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তারা সমাধানও করে দেয় তারা।’ এমনটাই জানিয়েছেন সিআইডি অর্গানইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার এসএস মোল্লা নজরুল ইসলাম।

সিআইডির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ওই চক্রের সদস্যরা বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটালভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে। পরে ওই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে সিআইডির একটি টিম। টানা পাঁচ দিনের অভিযানে ওই চক্রের নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রশ্ন ফাঁসের ডিজিটাল চক্র ২

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ ইব্রাহিম, মোঃ আইয়ুব আলী ওরফে বাধন, মোঃ মোস্তফা কামাল, মোঃ মনোয়ার হোসেন, মোঃ নরুল ইসলাম, মোঃ হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মোহাম্মদ বাবুল ও অলিপ কুমার বিশ্বাস। তাদের মধ্যে হোসনে আরা বেগম ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ও গোলাম মোহাম্মদ বাবুল অগ্রণী স্কুল ও কলেজের সহকারী শিক্ষক।

নজরুল ইসলাম বলেন, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় মূলত দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করত। আরেকটি চক্র পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত।

তিনি বলেন, গত বছর ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াত চক্র ধরতে অভিযান চালানো হয়। পরে ২০ অক্টোবর শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। এরপর মাস্টার মাইন্ড নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানসহ এই চক্রের ২৮ জনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎপাটন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নফাঁস চক্রের পুরো চক্র চিহ্নিত করা গেলেও ডিভাইস চক্রটি বাকি ছিলো। আমরা আপনাদের কথা দিয়েছিলাম এ মামলায় কাউকেই আমরা ছাড় দেব না। ফলে আমরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছি। ডিভাইস চক্রের প্রধান বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস গণমাধ্যমে নাম প্রকাশের পর গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে অত্যন্ত সুকৌশল, ধৈর্য এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে লাখো তরুণের স্বপ্নের চাকরি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করে আসছে। পরে গত পাঁচ দিনের এক সাড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডিজিটাল ডিভাইস চক্রের মাস্টার মাইন্ড অলিপ কুমার, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে ননক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আইয়ুব আলী বাঁধনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

তিনি বলেন, এছাড়াও পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রনী স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেন মজুমদার ও নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়াও একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভ.বয়েজ স্কুলের পিওন হাসমত আলী শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার গ্রেফতারের সময় হাসমতের কাছে ওই দিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে