আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হেলমেট ও মুখোশধারী এরা কারা?

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হেলমেট ও মুখোশধারী এরা কারা?

এক ফটো সাংবাদিককে মেরে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিচ্ছে হেলমেটধারীরা

আহমেদ এফ রুমী:

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ড পরিহিত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বানচাল করতে গত শুক্রবার থেকে বেশ কিছু বহিরাগত যুবক শিক্ষার্থীদের মাঝে ঢুকে পড়েছে।

নিজেদের চেহারা আড়াল করতে মোটরসাইকেলের হেলমেট ও মুখোশ ব্যবহার করে আন্দোলনের মাঝে গণ্ডগোল সৃষ্টি করছে ইউনিফর্মবিহীন এসব বহিরাগতরা। রাজধানীর ঝিগাতলা, সাইন্সল্যাবসহ বিভিন্ন স্থানে এরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলা করছে। ফলে মারাত্নক আহত হচ্ছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা।

ইউনিফর্মবিহীন হেলমেট ও মুখোশধারী ওরা কারা? 2

এসব মুখোশধারীদের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। শিক্ষার্থীদেরও ছাড় দেয়া হয়নি। শনিবার শিক্ষার্থীদের ওপর গুনিবর্ষণের পাশাপাশি কয়েকজন ছাত্রীকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেছে হেলমেটধারীরা। তবে শ্লীলতাহানির বিষয়ে স্পষ্ট কিছু এখনো জানা যায়নি।

কারা এসব হেলমেটধারী ও মুখোশধারী? আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুখোশধারীরা সবাই ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। অথচ ছাত্রলীগ দাবি করছে, মুখোশধারী হামলাকারীরা সবাই বিএনপি-ছাত্রদল ও শিবিরকর্মী।

ইউনিফর্মবিহীন হেলমেট ও মুখোশধারী ওরা কারা? 3

ছাত্রলীগের এমন দায় সারা জবাবের বিপরীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য- মুখোশধারী বহিরাগতরা যদি ছাত্রলীগের  নেতাকর্মী না হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ কেন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল? উল্লেখ্য, শনিবার রাজধানীর সাইন্সল্যাবে শিক্ষার্থীদের ওপর মুখোশধারীদের মারধরের সময় সেখানে একাধিক পুলিশ সদস্যকে নিরব ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গতঃ ৯ দফা দাবি নিয়ে অষ্টম দিনের মতো রাজধানীসহ সারাদেশে আন্দোলন করছে স্কুল-কলেজের ইউনিফর্মধারী লাখ লাখ শিক্ষার্থী। গত ২৯ জুলাই (রোববার) রাজধানীতে এ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

ইউনিফর্মবিহীন হেলমেট ও মুখোশধারী ওরা কারা? 4

কি হয়েছিল সেদিন? ওইদিন (রোববার, ২৯ জুলাই) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেপরোয়া বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও দিয়া খানম মিম। বিমানবন্দর সড়কে ওই দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেয় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস।

এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নিহতদের সহপাঠীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কয়েকদফা গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গ্রেফতার করা হয় ঘাতক জাবালে নূর বাসের চালক ও হেলপারকে। বাতিল করা হয় বাস দুটির রুট পারমিট।

ইউনিফর্মবিহীন হেলমেট ও মুখোশধারী ওরা কারা? 5

সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেয়া হয় শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবিও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলেন। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান করেন নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজপথ ত্যাগ না করলে গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের উপর হামলা করতে শুরু করে হেলমেট ও মুখোশধারী বহিরাগতরা।

রাজধানীর উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, মিরপুর, রামপুরা, ধানমণ্ডি, শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আসতে থাকে একের পর এক হামলা। এমনকি বাদ যায়নি আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডি কার্যালয়ও।

ইউনিফর্মবিহীন হেলমেট ও মুখোশধারী ওরা কারা? 6

শনিবার সন্ধ্যায় হেলমেট ও মুখোশধারীদের একটি দল গুলি করতে করতে হামলা চালায় শেখ হাসিনার দলীয় কার্যালয়ে। পড়ে বল প্রয়োগ করে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয় বলে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ হামলায় সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে ফেলা হয় বেশ কিছু ক্যামেরাও।

শনিবারের পর রোববারও রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন; মুখোশধারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। সকাল থেকেই সাইন্সল্যাব, ঝিগাতলাসহ, ধানমণ্ডি, শাহবাগ, উত্তরা, রামপুরায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদেরকে হুমকি দেয়ার পাশাপাশি একাধিকবার হামলাও চালায় হেলমেটধারী বহিরাগতরা।

ইউনিফর্মবিহীন হেলমেট ও মুখোশধারী ওরা কারা? 7

এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা এবং ছাত্রীদের অপহরণ ও ধর্ষণ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে আটক করে র‍্যাব। পড়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়েরের পর থানায় সোপর্দ করে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নওশাবা জানান, ঝিগাতলা থেকে তার পরিচিত এক শিক্ষার্থী ফোনে তাকে হামলা ও ধর্ষণের কথা জানানোর পরই তিনি ফেসবুক লাইভে তা শেয়ার করেন।

একইদিনে সম্পূর্ণ বিপরীত কাজটি করেন মডেল ও উপস্থাপিকা ইসরাত পায়েল। ফেসবুক লাইভে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডি কার্যালয়ে মুখোশধারীদের হামলার ঘটনাটি সত্য হলেও ঝিগাতলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোনো ছাত্রীকে অপহরণ কিংবা ধর্ষণ করেনি।

ইউনিফর্মবিহীন হেলমেট ও মুখোশধারী ওরা কারা? 8

এদিকে, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও হেলমেটধারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

এআর/ইএ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে