আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ঢাকা > মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং যানজট-দুর্ভোগের প্রধান কারণ

মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং যানজট-দুর্ভোগের প্রধান কারণ

মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং

হাবিবুর রহমান:

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় নিত্য যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ ও অন্যান্য মালবাহী যানবাহনের অবৈধ পার্কিং ও নামে-বেনামে চাঁদাবাজি। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পার্কিংয়ের জন্য নিয়মিত চাঁদাও তোলা হচ্ছে শ্রমিকদের কল্যাণের নাম ভাঙ্গিয়ে। চান্দনা চৌরাস্তার পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক, শ্রমিকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গাজীপুর মহানগরের পণ্যবাহী পরিবহনের কোনো নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর পার্কিং করতে হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন পরিবহনগুলোর চালক ও শ্রমিকেরা। গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কমপক্ষে এক হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ রয়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের ওপর ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ পার্কিং করার প্রচলন আগে থেকেই রয়েছে। তবে সেটিকে একটি মহল টাকার লোভে জায়গা বাড়ানোর জন্য দখল করে নিচ্ছে সড়কের উপর কিছু অংশ। আগে সড়কের পাশে পার্কিং করা হত আর এখন সড়কের ওপর পার্কিং করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ওপর হস্তান্তর করার পর থেকেই মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ পার্কিংয়ের বিষয়টি দৃশ্যমান হয়ে উঠে।

ট্রাক চালক আব্দুল কাদির বলেন, “অনেক আগে থেকেই গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরীর পার্কিংয়ের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু অদ্যবধি আমাদের কোনো জায়গা দেয়া হয়নি তাই বাধ্য হয়েই অনেকটা এমন অবস্থা।”

চালক কবির বলেন, মহানগরের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সড়কের পাশের ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনা তুলে পাশেই ফেলে রাখে। সেগুলো পথচারীদের চলাফেরার মাধ্যমেই সরে যায়। আবর্জনাগুলো বৃষ্টিতে কাদা হয় আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে সয়লাব হয়ে যায়। যে কারণে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকে।

দক্ষিণ সালনা এলাকার শ্যামলী গার্মেন্টস লিমিটেডের কাটিং সুপারভাইজার জামিল আক্তার বলেন, মালামাল বহনকারী পরিবহন রাখার জায়গাতো সড়কের পাশে বা ওপরে নয়। এগুলো সড়কের ওপরে রাখার কারণে ফুটপাত দিয়ে পথচারী চলাচল করতে পারে না।

পথচারী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে দক্ষিণ সালানা এলাকায় যানজটে আটকা পড়েন। সড়কের ঢাকামুখী লেনটিতে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এসেছেন। মহাসড়কের ওপর ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরী পার্কিংয়ের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় খাদ্য বিক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, অনেক সময় উল্টোপথে যানবাহন আসার প্রয়োজন পড়ে। সেসময় সড়কে পার্কিং করা এসব যানবাহনের কারণে সড়কের চাপ পড়ে ফুটপাতের ওপর। ফলে যত দুর্ভোগ হয় পথচারীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন চালক, শ্রমিক বলেন, প্রতি মাসে গাড়ী প্রতি ২’শ টাকা চাঁদা দিতে হয়। মালামাল লোড আনলোডের জন্য গাড়ীর প্রকৃতিভেদে ২০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব টাকা উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরীর জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় আগে থেকেই পরিবহনগুলো এখানে পার্কিং করা হতো। সেই থেকে এখনও পার্কিং করা হচ্ছে। তবে চাঁদা উত্তোলনের কোনো বিষয় এখানে নেই বা আমরা এ বিষয়ে কিছু জানিও না।’

গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি এ কে নাহীন রেজা বলেন, ‘সড়কের ওপর ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরী পার্কিংয়ের কোনো অনুমতি দূরের কথা সুযোগই নেই। তারা মহাসড়কের ওপর এগুলো পার্কিং করে দুর্ভোগতো সৃষ্টি করছেই উপরন্তু সড়কে আবর্জনা ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু পরক্ষণেই আবার পার্কিং করে রাখে।’

 

হাবিবুর রহমান/ইএ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে