আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > রাশিয়া বিশ্বকাপে যত রেকর্ড

রাশিয়া বিশ্বকাপে যত রেকর্ড

রাশিয়া বিশ্বকাপে যত রেকর্ড

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টস ডেস্ক:

শেষ হয়ে গেছে ২১তম বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। এবারের বিশ্বকাপটা ছিল অন্যসব বিশ্বকাপের চেয়ে আলাদা। শুরুতেই ফেবারিটদের বিদায়, ভিআর পদ্ধতি, গোলবন্যা, আত্মঘাতি গোল, নতুনদের উত্থান; কি ছিল না বিশ্বকাপে। এ কারণেই রাশিয়া বিশ্বকাপটা দাগ কেটে রাখবে অনেকের মনে।

এবারের আসর ছিল ‘মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল। গ্রুপ পর্বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায়। শেষ ষোলতে আর্জেন্টিনা, স্পেন আর কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিদায়ই বোঝাচ্ছে, কতটা আনপ্রেডিক্টেবল ছিল এবারের আসর। অনেকের কাছে তো বিশ্বকাপের আমেজ শেষ প্রিয় দলগুলোর বিদায়ের পরই। এছাড়াও ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নযাত্রা, শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা, সেট পিস থেকে গোল, আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড, ভিএআর সহ অনেক কিছু।

নতুন একটি বিশ্বকাপ মানেই নতুন নতুন রেকর্ড। এবারের বিশ্বকাপেও বেশ কয়েকটি রেকর্ড হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক এবারের বিশ্বকাপের রেকর্ডগুলো।

১. ষষ্ঠ দল হিসেবে একাধিকবার বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড করল ফ্রান্স। আগে যে কীর্তি ছিল ব্রাজিল (৫ বার), জার্মানি (৪ বার), ইতালি (৪ বার), আর্জেন্টিনা (২ বার) ও উরুগুয়ের (২ বার)। একটি করে বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড ও স্পেন। বিশ্বকাপ জিতেছে মাত্র আটটি দেশ।

২. বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পের বয়স ১৯ বছর ২০৭ দিন। এর চেয়ে কম বয়সে ফাইনালে গোল করেছেন কেবল পেলে (১৯৫৮ বিশ্বকাপে, ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে)।

৩. ফাইনালে আত্মঘাতী গোল করা প্রথম ফুটবলার মারিও মানজুকিচ। অবশ্য পরে নিজে গোল করে পাপমোচন করেছেন। চ্যাম্পিয়ন লিগ ও বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় তিনি। আগে এই কীর্তি ছিল ফেরেঙ্ক পুসকাস, জলতান জিবর, জার্ড মুলার ও জিনেদিন জিদানের।

৪. কোচ ও অধিনায়কের ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতা মাত্র দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন দিদিয়ের দেশম। এর আগে যে কীর্তি ছিল জার্মান কিংবদন্তি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের। খেলোয়াড় ও কোচের ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় ব্যক্তি ব্রাজিলের মারিও জাগালো।

৫. তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলেন এমবাপ্পে। পেলে জিতেছিলেন ১৭ বছর বয়সে, ইতালির জিউসেপ্পে বারগমি জিতেছিলেন ১৮ বছর বয়সে। ১৯ বছর বয়সে জিতলেন এমবাপ্পে।

৬. এমানুয়েল পেতিতের (১৯৯৮ বিশ্বকাপ) পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করলেন পল পগবা।

৭. একই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দ্বিতীয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলোয়াড় দেয়ান লভরেন। ২০০৬ সালে এই কীর্তি গড়েছিলেন থিয়েরি অঁরি। একই সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার কীর্তিতে এই দুজন ছাড়াও আছে আরিয়েন রোবেনের নাম। ২০১০ সালে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বায়ার্নের ডাচ তারকার।

৮. সর্বশেষ চার বিশ্বকাপের ফাইনালেই ফরাসি ক্লাব মোনাকোর গোলরক্ষক খেলেছে। এবং হেরেছে! ২০০৬-এ ফাবিয়ান বার্থেজ, ২০১০-এ মার্তেন স্তেকেলেনবার্গ, সার্জিও রোমেরো এবং দানিয়েল সুবাচিচ।

৯. ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ফাইনালে কোনো দল কমপক্ষে ৩টি গোল দিল। আগের কীর্তিটাও ফ্রান্সেরই। ফাইনালে সব মিলিয়ে হয়েছে ৬ গোল। ফাইনালে ৬ গোল দেখা গেছে তিনবার: ১৯৩০, ১৯৩৮ ও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে হয়েছিল ৭ গোল!

১০. ১৯৯৮ সালে ছ’টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল৷ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে সংখ্যাটা ছিল পাঁচ৷ কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ১২টি গোলের পাশে লেখা রইল ‘আত্মঘাতী’৷

১১. ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষবার বিশ্বকাপের ফাইনালের নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল হয়েছিল৷ গোলদাতা ছিলেন জিনেদিন জিদান৷ সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন এক ফরাসি তারকাই। জিদানের উত্তরসূরি হিসেবে এদিন পেনাল্টি থেকে গোল করেন অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান৷

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে