আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস বন্ধ

বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস বন্ধ

বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস বন্ধ 2

প্রতিচ্ছবি বেনাপোল প্রতিনিধি:

যশোর বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য মাপার ওয়েং স্কেলে বিজিবি’র দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিসহ খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় দুই দেশের বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক।

বৈধ রুটে আমদানিকৃত পণ্যচালানে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমের বাইরে বিজিবির কাস্টমস আইন বহির্ভূত হস্তক্ষেপের ফলে বেনাপোলের সামগ্রিক বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ও রফতানি টার্মিনালে উপস্থিত হয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই দেশের বন্দর এলাকায় শত শত আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে।

বেনাপোল ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়াডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিলন জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এসআরও এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্দেশনা বিজিবি উপেক্ষা করে বন্দর এবং কাস্টমস ওয়েং স্কেলে বসে আমদানি পণ্যচালানের ওজন পরিমাপ করা শুরু করেছেন। শনিবার থেকে বিজিবির কয়েকজন সদস্য বন্দরের ওয়েং স্কেল এবং কাস্টমস ওয়েং স্কেলে বসে আমদানিকৃত পণ্যচালানের মালামাল ওজন করছেন।

বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস বন্ধ 3

বিজিবি বন্দর এলাকায় আমদানী রফতানী সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় আমদানী রফতানী কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর আমদানি-রফতানি ব্যাহত হলে রাজস্ব আদায়ে ধ্বস নামবে বেনাপোল কাস্টম হাউসে। এরই প্রতিবাদে বেনাপোলের ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট ব্যবসাযীরা আমদানি পণ্য খালাসের বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা বন্ধ করে দেয়ায় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে বিজিবি বলছে, জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০তম সভার কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপেক্ষিতে শুল্ক বন্দর ও চেকপোস্ট সমূহে মালামাল ওজন করার সময় বিজিবির প্রতিনিধি উপস্থিত রাখা হয়েছে।

তবে কাস্টমস আইনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পাদনে উল্লিখিত আইন, প্রজ্ঞাপন ও বিধি বিধান উপেক্ষা করে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমে বিজিবির এহেন কর্মকান্ড সম্পূর্ণভাবে আইন বহির্ভূত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পত্র নথি নম্বর ০৮.০১.০০০০.০৬৩.০১.০০৬.১৫/৭৬, তারিখ: ০২/০৮/২০১৫ খ্রি. পত্রে বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আমদানিকৃত নয় এমন পণ্য পরিবহন তথা চোরাচালান রোধকল্পে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে টাস্কফোর্সের আওতায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ উক্ত পত্রে বিল অব এন্ট্রির পণ্য টাস্কফোর্সের আওতা বহির্ভূত রাখা হয়েছে।

এদিকে, ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান, জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০ তম সভার কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপেক্ষিতে কাস্টমস ও বন্দরের দুটি ওয়েং স্কেলে আমদানিকৃত মালামাল ওজন করার সময় বিজিবির প্রতিনিধি উপস্থিত রাখা হয়েছে।

সাজেদুর রহমান/এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে