আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টস ডেস্ক:

৫২ বছর পর ফের বিশ্বকাপ জিততে চলেছে ইংল্যান্ড! শুরুটা ছিল ঠিক এমনই দুর্দান্ত; কিন্তু দুর্দান্ত সেই শুরুটা ধরে রাখতে পারেনি কেইনরা। হাড়ভাঙা লড়াই শেষে ক্রোয়েশিয়া ছন্দে ফিরতেই চুপসে গেল ব্রিটিশদের জয়গানে মুখরিত গ্যালারি। ১-১ গোলেই শেষ হয় অল ইউরোপিয়ান এই সেমিফাইনালের প্রথম ৯০ মিনিট।

কিন্তু কে জানতো, এরপর অতিরিক্ত সময়ে ঝড় তুলবে ক্রোয়েশিয়া? বুধবার রাতে রাশিয়ার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ১০৯ মিনিটে ইংলিশ দুর্গে চূড়ান্ত আঘাত হানেন মারিও মানজুকিচ। তার গোলেই খুলে যায় ক্রোয়াটদের সোনালী প্রজন্মের স্বপ্নের দরজা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া!

১-২ গোলের হারের আক্ষেপ নিয়েই ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভাঙল ইংল্যান্ডের। আর ক্রোয়েশিয়া উঠে গেল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে! তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। এই বেলজিয়ামই গ্রুপ পর্বের দেখায় ১-০ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে।

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া 2

১৫ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতার হাতছানি লুকা মডরিচদের সামনে! সঙ্গে আকাশ ছোঁয়া আত্মবিশ্বাস।

বিশ্বকাপের সেমিতে প্রথমে গোল করে হারের সবশেষ রেকর্ড ইতালির। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে গিয়ে তারা হেরেছিল টাইব্রেকারে। এবার সেই দলে যোগ দিলেন হ্যারি কেইনরাও।

বুধবার ম্যাচের শুরুতে উড়ন্ত সূচনা হয় থ্রি লায়ন্সদের। সেমিফাইনালের পঞ্চম মিনিটেই গোল! কিয়েরন ট্রিপারের অসাধারণ ফিনিশিং! জেস লিনগার্ডের ফ্লিকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান ডেল আলি। তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন লুকা মডরিচ। ব্যস, বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড।

২০ গজ দূর থেকে নেয়া বাঁকানো ফ্রি কিকে গোলকিপার দানিয়েল সুবাসিচকে পরাস্ত করে ২০০৬ সালে ডেভিড বেকহামের সেই গোলের কথা মনে করিয়ে দিলেন ট্রিপার। ফ্রি কিক থেকে বেকহ্যামের পর এটাই সরাসরি প্রথম গোল ইংলিশদের।

১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু ফিরেই দাপুটে ফুটবল খেলতে থাকে ক্রোয়াটরা। তবে ৬৮ মিনিটে ঠিকই সমতায় ফেরে দলটি। সিমে ভারসালকোর ক্রসে লাফিয়ে উঠে পা ছুঁইয়ে দেন ইভান পেরিসিচ (১-১)।

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া 3

একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ সমতায়ই শেষ হয় ৯০ মিনিটের ম্যাচ। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এরপর মারিও মানজুকিচের সেই মহামূল্যবান গোল। যা ৪৫ লাখ মানুষের দেশটিকে নিয়ে গেল রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে। ১০৯ মিনিটে ইভান পেরিসিচের হেডে বাড়ানো বল পেয়ে বাঁ-পায়ে শট মানজুকিচের, বল চলে যায় ইংল্যান্ডের জালে।

১৯৯৮-এর বিশ্বকাপে ডেভর সুকাররা দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। আর এবার সোনালী প্রজন্মের ফুটবলারদের হাত ধরে দল উঠে গেল ফাইনালে! অন্যপ্রান্তে ৫২ বছর আবারো ট্রফি জয়ের কাছাকাছি এসেও ফিরে যেতে হল ইংল্যান্ডকে। আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়েন হ্যারি কেইনরা।

কেইন অবশ্য ৬ গোল করে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে গোল্ডেন বুটেরর দৌড়ে এগিয়ে আছেন। কিন্তু আক্ষেপ নিয়েই দেশে ফিরবেন তিনি। ট্রফি যে সোনার হরিণ হয়েই থাকল!

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে