আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > শিল্প-সাহিত্য > গল্প ‘শোধ’ (পর্ব-১৪)

গল্প ‘শোধ’ (পর্ব-১৪)

গল্প ‘শোধ’
লুনা নুসরাত

লুনা নুসরাত:

১৩ পর্বের পর…

তখন থেকে শুয়েই আছে লোকটা, কত করে ডাকলো কমলা খেতে, আসলোই না। মন তো কমলার ও অনেক খারাপ হয়েছে কিন্তু তার তো আর বসে থাকলে চলবে না। দুপুরের রান্না খাওয়ার ব্যাপার আছে, ছেলেটা স্কুল থেকে ফিরলে খেতে দিতে হবে। দিনের বেলা এ সময়টা একাই থাকে। আড়াইটার দিকে রতন ফিরলে একসাথে খায়। সাদেকের মনে সত্যিই ভীষণ দাগ কেটেছে ঘটনাটা। নিজের হাতে কাজটা করেছে তাই সহজে ভুলতেও পারছ না। কিন্তু কি করার আছে কমলার? তাকে ভুলে যেতে বলা ছাড়া।

রান্না তেমন আর কি? দুটা ভাত, একটু ভাজা শুকনা মরিচ, পেঁয়াজ আর বেশ খানিকটা সরিষার তেল দিয়ে জাম আলুর ভর্তা, মসুরের ডালের চচ্চড়ি আর হাঁসের ডিম ভুনা। এই তো! আজ সাদেক দুপুরেও যাবে না হয়ত, কমলা জোর করে বের করেই বা কোন প্রানে? থাক, চুপচাপ শুয়ে। খানিকক্ষণ আগেও দেখে এসেছে ঘুমায়নি। নাস্তার পুরাটাই প্রায় পড়ে আছে, খায়নি। খাবে বলেও মনে হয় না। রান্নার কাজ গুছিয়ে কমলা ঘরে ঢুকে পাশে গিয়ে বসলো। মাথায় আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে দিতে কথা শুরু করলো। কথা বললে হয়তো বুকের চাপ আর পাপের তাপ কিছুটা হাল্কা হবে!

: শুনেন, অত ভাবতাছেন ক্যান? পাপ আপনে করছেন আগেও এহনও। আর আপনে কি আর জানতেন নাকি যে মাইয়াটা পোয়াতী, পেটে বাচ্চা?
: জানলে কি আর এই পাপ করি?
: তাইলে? আগে যাগো মারছেন হ্যারাও তো আপনের কুনো ক্ষতি করে নাই তবুও আপনে হ্যাগোরে মারছেন তহন তো ভাবেন নাই। সেই গুলাণ ও তো পাপ আছিলো নাকি?
: তুই জানস না কমলা, যদি জানতি সব কতা, তাইলে বুঝতি ক্যান আমি এমুন অস্থির হইছি। ক্যান আমার ঘুম আহে না। যদি জানতি, বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকিয়ে রইলো সিলিং ফ্যান এর দিকে।
তয় একটা কথা জাইনা রাখ, ঐ সাফিন কুত্তার বাচ্চা সব জানতো আর জাইনাও আমারে জানায় নাই। আমারে দিয়া আকাম টা করাইছে। ওরে আমি ছাড়ুম না। শালার পুতেরে এমন শিক্ষা দিমু যে আমার লগে ট্রিক বাজী ওর জন্মের মতন ঘুচাইয়া দিমু। হারামজাদা সাদেক রে দেখছে সাদেকের চাক্কুর ধার দেহে নাই।
: আল্লা আল্লা, এডি আপনে কি কন? আপনে না কইলেন আর এই কাম করবেন না। চইলা যাইবেন এই শহর ছাইড়া?
: যামু কে কমলা, যামু। এই শহর আমার সব ছিনায়া নিছে, মানুষ থিকা আমারে অমানুষ বানাইছে। দেখিস আমি সত্য কইতাছি তোরে নিয়া চইলা যামু। কমলা তুই যাবি? যাবি আমার লগে? কি হইবো এইহানে থাইকা ক? তারচে আমাগো দুইজনের ই খাইস্টা এই জীবন পিছে ফালাইয়া চইলা যাই। আর ফিরা তাকামু না ইদিকে। যাবি?
: হাচা? আমারে নিবেন আপনের লগে? গত নয় বচ্ছরে এই কতাডা কেউ কুনোদিন কয় নাই। এই বেশ্যা কমলারে কেউ মানুষ ই মনে করে নাই। আপনেরেও ভালো মানুষ কওয়া যাইবো না। কিন্তু এই শেষের খুন টা আপনেরে বদলায়া দিছে। আপনে আর আগের সাদেক নাই গো, আগের সেই গলাকাটা সাদেক নাই।
: হ.. ঠিক ধরছস। আমি আগের সেই সাদেক নাই। আমি নিজেই নিজেরে চিনবার পারতেছি না। কিছু একটা বদলায়া গেছে আমার ভিতরে। অসহ্য লাগতেছে। ঐ হারামী সাফিন টার গলা দু ফাঁক না করা পর্যন্ত মনে হয় আমার শান্তি হবেনা রে কমলা।
: কি কন এইসব? না.. না.. আপনি আর এইসব খুনাখুনীর মইদ্যে আর যাইয়েন না। ছাইড়া দেন এইসব। আল্লায় আপনার মতি ফিরাইছে আর বদ মতলব আইনেন না মনে। আপনের দোহাই লাগে। বড় কপাল আমার যে, এই পচন ধরা পাপের জীবনে আবার নতুন কইরা সব শুরু হইবো। আপনে আমার সেই স্বপন নষ্ট কইরা দিয়েন না।
: কমলা, আমিও তো চাই সব নতুন কইরা শুরু করতে কিন্তুক মনের অশান্তি যতদিন না যাইব, নতুন জীবন শুরু করতে পারুম না। তুই কয়টা দিন সবুর কর। করবি না? আমার লাইগ্যা করবি না কয়টা দিন সবুর ক?
: কি কন আপনে? আপনার লাইগ্যা অপেক্ষা করমু কিন্তু আপনে ঐ কামটা কইরেন না। আপনের দোহাই লাগে।
: কমলা, তোরে শুনামু আরেকদিন, ক্যান আমি ঐ মাইয়াটারে খুন করার পর এত অস্থির হইছি। ক্যান আমি ঐ হারামী সাফিনরে শিক্ষা দিতে চাই। পরে একদিন কমু, আইজ না।
: সাফিন রে শাস্তি দিতে চান মানলাম। হ্যায় আপনেরে সত্য টা কয় নাই বইলা আপনে হ্যারে মারবেন। কিন্তু যে লোকটা মাইয়াটার সব্বনাশ করছে আর পরে ওরে মারতে আপনেরে ভাড়া করছে তার কি করবেন? দোষ করলে হেই ব্যাডায় করছে, আসল শয়তান তো হেই ব্যাডায়। সাফিন তো কামটা খালি আপনেরে দিয়া করাইছে তার হুকুমে।
: কথা ঠিক কইছস রে কমলা। শাস্তিটা আসলে হ্যার ই পাওনা। আমি ছাড়ুম না দুইটার একটারেও। এক জান নিলে যেই পাপ দুইটা নিলেও তাই। আর আমার আগের ই এত পাপ জমাইন্যা আছে যে এই দুইটা করলে আর তার কম বেশী হইবো না। কওন যায় না, আল্লা মিয়া হয়তো আমার পাপ কাটাইতেও পারে এই বান্দীর পুত দুইটারে দোজখের রাস্তায় পাঠাইয়া দিলে।
: আমার ডর লাগতেছে আপনের কথা শুইন্যা। কি যে করবেন আর কি যে হইবো শ্যাষে।
: ডরের কিছু নাই রে কমলা। এই গলাকাটা সাদেকরে অহনতরি কেউ ধরবার পারে নাই। এই শ্যাষ বারেও কেউ পারবো না দেহিস। আর এই কামটা ঠিক মতন শ্যাষ করতে পারলে আর একদিন ও এই শহরে আর থাকুম না। চইলা যামু তোরে লইয়া অন্য কুনো শহরে। চা-বিড়ির দোকান দিমু, আরতো কুনো কাম জানা নাই। তাই কপালে থাকলে হেইডাই করমু।
: আপনে যেইডা ভালা মনে করেন। অহন উডেন, সকাল থিকা মুহে দানাপানি দেন নাই। গোসল কইরা কয়ডা ভাত মুহে দ্যান।
: হ, উডি। কামটা করনের আগে ভালো মতন খোঁজ খবর লইতে হইব। সাফিন হারামজাদা রে পাওয়া সমস্যা হইবো না কিন্তু হ্যার মালিকরে নাগালে পাওয়া কঠিন। বিরাট ব্যাবসায়ী, দ্যাশে আছে না বিদ্যাশে কেডায় জানে। ভালো মত জাইনা কামে নামতে হইবো। এই গলাকাটা সাদেক কুনো কাম আধুরা রাহে না, বুঝলি? একবার যহন কইছি ওই দুইডিরে নিকাশ করমু, তো কইরাই ছাড়মু। যা তুই ভাত বাড় আমি গায়ে পানি দিয়া আহি।
: হ, আহেন।

গামছা কাঁধে ফেলে গোসলখানায় গিয়ে ঢুকলো সাদেক। ডিসিশন টা নেয়ার পর তার মন শান্ত হয়ে আসছে। এখন ঠান্ডা মাথায় প্ল্যান টা চূড়ান্ত করে পরিনতির দিকে নিয়ে যেতে হবে কিভাবে সেই প্ল্যানটা মনে মনে আঁটছে।

ভাত সামনে নিয়ে বসে কমলা ভাবছে দুনিয়াটা আর তার মানুষের মন কত ই না বিচিত্র। একটা খুন পুরো একটা পশুর মত মানুষকে আমূল পাল্টে দিল। কেউ তো বিচার চায়নি, তবু সাদেকের কিসের এত গরজ পড়লো যে সে হঠাৎ তার কাজ আর অর্থের যোগানদাতাকেই সরিয়ে দিতে চাইছে। নাহ্, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আরো কোন গোপন কথা যা কমলার অজানা। থাক, অত ভেবে কাজ কি? সময়েই খোলাসা হবে সব জট পাকানো রহস্যের।

*********

ফোন করেছিল রিসিপশনিস্ট মেয়েটার দেয়া নাম্বারে। দুবার রিং হতেই ওপাশ থেকে রিসিভ করলো কেউ।

: হ্যালো, গুড আফটার নুন, হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?
: আসসালামুআলাইকুম। আমি মাজহারুল ইসলাম বলছি। দুদিন আগে এসেছিলাম আপনাদের এম.ডি র খোঁজে। উনি কি ফিরেছেন?
: জ্বী না স্যার। এখনো এম.ডি স্যার ফেরেননি।
: ওহ, কবে ফিরবেন বলতে পারেন?
: আজ উনার ফ্লাইট। রাতেই এসে পড়বেন কিন্তু কাল অফিস করবেন কিনা বলতে পারছি না, স্যার। আপনি কাল একবার খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।
: অনেক ধন্যবাদ মা। আমি কাল একবার কল করব না হয়। ঠিক আছে রাখছি। আল্লাহ হাফেজ।

ফোনটা রেখে মেয়ের ঘরে গেলেন। না কিছুই বদলায়নি, ফেলতে পারেননি লাবন্যর কিছুই। আলনায় মেয়েটার পরনের কাপড়, টেবিলে বই খাতা ছড়ানো, সারা ঘর জুড়েই মেয়ের স্মৃতি। মনে হচ্ছে যেন কোন কাজে গেছে কিংবা ক্লাসে, এখনি এসে পড়বে। মনের অস্থিরতা দুর হয় না কিছুতেই তার। বিচারের ভার খোদার উপর দিয়েছিলেন কিন্তু মেয়ের ঘরে এলেই মনের ভেতর রাগ আর ক্ষোভ দানা বাঁধে। ইচ্ছে হয় নিজ হাতে শাস্তি দেন ঐ পিশাচ টাকে। তার ফুলের মত মেয়েটাকে সর্বনাশের পথে টেনে নিয়ে গেছে যে। তিনি সাহসী নন কিন্তু কোথেকে এক ক্রোধের ঢেউ এসে তার ভেতরের ভয় ডর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হাত দুটো নিশপিস করে, মনে হয় সর্ব শক্তিতে চেপে ধরেন টুটি ঐ বেজন্মা শয়তান টার। পরিনতির কথা ভাবেন না। স্ত্রী গত হবার পর তো মেয়েকে নিয়েই ছিলেন। এখন সেও রইলো না, বেঁচে থাকা এখন অর্থহীন তার কাছে।

কি শাস্তি দিবেন, কি করে দিবেন? সারাক্ষণ এ ভাবনাই ঘুরপাক খায় মনে। নাহ্ কাল আগে যাবেন, দেখা করবেন ঐ পিশাচ টার সাথে, তারপর যা হয় করবেন। মেয়ের ডায়েরীটা বুকে চেপে চুপচাপ বসে রইলেন খাটের ওপর, শূন্য দৃষ্টিতে।

********

হোটেলের রিসেপশন থেকে চাবি চেয়ে নিয়ে রুমে ঢুকলেন রাহেলা নোয়েলকে সাথে নিয়ে। রুমে এখনও তার ফেলে যাওয়া সুবাসটা স্থির হয়ে আছে। কিন্তু মনের ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠছে ক্রমশ এক অজানা উত্তেজনা আর খানিকটা উৎকন্ঠায়। তার অস্থিরতা চোখ এড়ালো না নোয়েলের। এ প্রফেশনে তার এগুলো দেখা। ইচ্ছে আছে কিন্তু দ্বিধা-দ্বন্দের দোলা চালে হাতে আসা মোটা টাকার অঙ্ক টা না আবার হাত ছাড়া হয়ে যায় তাই নিজেই খেলার প্রথম চাল টা দিবে স্থির করলো।

: রাহেলা ডিয়ার, ডু ইউ নিড আ ড্রিংক?
: ড্রিংক? নট আ ব্যাড আইডিয়া। লেট মি অর্ডার। রুম সার্ভিসের নাম্বার ডায়াল করে স্কটিশ অরিজিনের সিভাস রিগ্যালের 750ml এর 12 yeas পুরনো ব্লেন্ড এর একটা বোতল আর সোডা চেয়ে নিলো। ব্লেন্ডেড স্কচ হুইস্কির দুশো বছর পুরাতন এ ব্রান্ড নামকরা। খোদ ইংল্যান্ডের রানীর ভান্ডারে এর সাপ্লাই আছে তবে তিনি খান কিনা জানা নেই। যা হোক, আজ তার কড়া কিছুই দরকার।

: নোয়েল, ইউ নিড এনিথিং মোর?
: নাথিং ডার্লিং, আই জাস্ট নিড টু বি ফ্রেশ। বলে ওয়াশ রুমের দিকে চলে গেল।
রাহেলার কেমন ভয় ভয় করছে, পার্টি, অল্প স্বল্প মাতলামি আর মেল এসকর্ট দের সাথে দেশেই দেখা হয়েছে। কিন্তু এভাবে এত কাছে থেকে, রুমে আনা যে গোপন উদ্দেশ্যে, তা এই প্রথম। কাজটা করতে যতটা আগ্রহ শুরুতে ছিলো এখন ততটাই দ্বিধা জাঁকিয়ে বসছে। এতটা এসে এখন আর ফিরে যাওয়া টা কি সম্ভব? আচ্ছা, তার কি দোষ? দিনের পর দিন অবহেলা আর মীর সাহেবের চারিত্রিক লাম্পট্য তাকেও ঠেলে দিয়েছে এই খাদে। তবু কোথায় যেন বাধা, একটা না না সুর শুনতে পারছে। দরজায় রুম সার্ভিসের নক এর শব্দে সে ভাবনায় ছেদ পরলো। উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই রুমবয় হেসে নড করে ভেতরে ঢুকে টেবিলে গুছিয়ে দিল সব। বরফের একটা বাকেট ও এনেছে সাথে।

: এনিথিং এলস ম্যাম?
নো থ্যাংকস বলে একটা নোট গুঁজে দিলো ছোকরার হাতে।
: হ্যাভ এ ওয়ান্ডারফুল নাইট বলে হাসিমুখে বিদায় নিলো রুমবয়।

গ্লাসে খানিকটা সোনালী পানীয় ঢেলে তাতে বরফের টুকরা আর সোডা মিশিয়ে চুমুক দিলো রাহেলা। তীব্র ঝাঁঝে গলার ভেতরটা যেন পুড়ে গেল। নাহ্, পুড়ে যাক সব, আজ পুড়ে যাবার ই রাত। স্বেচ্ছায় নিজেকে পোড়াবে আজ রাহেলা, এত দিন ধরে যে অন্তর জ্বালায় জ্বলেছে তার খানিকটা শোধ সে নিতেই পারে। মীর সালাউদ্দীনের ওপরে না হোক নিজেকে নষ্ট করেই আজ সে শোধ তুলবে।

ওয়াশরুমের দরজা খুলে বের হয়ে এলো নোয়েল। পেটানো শরীরের উপর আলো পড়ে যেন পিছলে যাচ্ছে। গাঢ় তামাটে শরীরে কোথাও এক ফোঁটা বাড়তি মেদ নেই। কোঁকড়ানো চুল থেকে পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে চিবুক বেয়ে। কোমরে জড়ানো সাদা খাটো টাওয়েল। সাবলীল পায়ে এগিয়ে এসে সোফায় বসা রাহেলার ঠিক সামনে এসে দাঁড়ালো। টেবিলে রাখা স্কচের গ্লাসটা তুলে একটা ছোট্ট চুমুক দিয়ে তৃপ্তির শব্দ করে জিভ দিয়ে ঠোঁটটা চেটে নিলো। রাহেলার চোখে সরাসরি তাকিয়ে এক টানে কোমরে জড়ানো টাওয়েলটা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিল ঘরের এক কোনে। নেশা নেশা কন্ঠে বলে উঠল,

: আর ইউ রেডি ডার্লিং?

চলবে…

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে