আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ঢাকা > পাঠাও’র বিরুদ্ধে প্রমো কোডের নামে প্রতারণার অভিযোগ

পাঠাও’র বিরুদ্ধে প্রমো কোডের নামে প্রতারণার অভিযোগ

পাঠাও

প্রতিচ্ছবি প্রযুক্তি প্রতিবেদক:

ছাড়ের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি দিচ্ছে স্মার্টফোনের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’। বিভিন্ন সময় ‘প্রমোশন কোডের’ মাধ্যমে ছাড় দেয়া হলেও এর সুফল পাচ্ছে না যাত্রীরা। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) করে দেওয়া রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালাতেও ভাড়া নির্ধারণের কোনো নির্দেশনা নেই। যে কারণে ভাড়া আদায়ে অব্যবস্থাপনা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সকালে পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল সেবা নেওয়া একজন যাত্রী ছাড়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। ওই যাত্রী জানান, সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তিনি গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে ইস্কাটন গার্ডেন রোডে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ লোকেশনে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল রাইডের জন্য অনুরোধ পাঠান। তার অনুরোধটি সিদ্দিক নামে একজন রাইডার গ্রহণ করেন। ট্রিপ নম্বর- ৫২কউঔউ।

অভিযোগকারী জানান, যখন রাইডের জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন তখন ছাড়ে তার আনুমানিক ভাড়া দেখিয়েছিল ১৩৪ টাকা। ছাড় ছাড়া ভাড়া ছিল ১৬৮ টাকা। কিন্তু নির্দিষ্ট গন্তব্যে এসে রাইড শেষ করার পর রাইডার (চালক) জানান, তার ভাড়া এসেছে ১৬৮ টাকা। যাত্রী কারণ জানতে চাইলে চালক জানান, তিনি কোনো ছাড় পাননি।

পাঠাও [২]
ছবি- সংগৃহিত

যাত্রী বিষয়টি নিয়ে ০৯৬৭৮১০০৮০০ নম্বরে পাঠাও কল সেন্টারে কথা বলতে চাইলে আফরিন নামে একজন কাস্টমার এক্সিকিউটিভ কলটি রিসিভ করেন। তিনি সমস্যার কথা বিস্তারিত বললে আফরিন জানান, তার ছাড়ের প্রমোশনটি ৯ জুলাই সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল। দশটার পর রাইড শেষ হওয়ায় ছাড়ের প্রমো কোডটি অকার্যকর হয়েছে।

ফাহাদ কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে জানান, তিনি ১০টা বাজার ৪০ মিনিট আগে ৯ টা ২০ মিনিটে রাইড নিয়েছেন। রাইডার কল রিসিভ করার আনুমানিক ১০/১২ মিনিট পর পিক পয়েন্ট থেকে তাকে  মোটরসাইকেলে তুলেছেন। ইস্কাটন গার্ডেনে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লেগেছে ৩৫ মিনিট। দূরত্ব ছিল ১০.০৯ কিলোমিটার। ১০টার আগে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারার দায় কি যাত্রীর?

জবাবে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি আফরিন বলেন, এটাই পাঠাওয়ের নীতিমালা। এখানে তাদের কিছু করার নেই।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময় তাদের অব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। অথচ এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। বরং সরকারের সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে তারা যাচ্ছে তাইভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা করে দিয়েছে। নীতিমালার ১১টি শর্তের কোথাও ভাড়া নির্ধারণ এবং ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি।

পাঠাও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাইডারদের বকেয়া টাকা ও বোনাস পরিশোধের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে রাইডাররা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে। গত ১৭ এপ্রিল সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় পাঠাও অফিসে তালা দিয়েছে রাইডাররা। বকেয়া টাকা ও বোনাস পরিশোধ না করার অভিযোগে দুদিন ধরে তারা পাঠাও কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে।

ভোক্তাদের সঙ্গে পাঠাওয়ের প্রতারণার বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পাঠাওয়ের এমন প্রতারণার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগুলো ভোক্তা অধিকার অধিপ্তরে পাঠাই। তারা ব্যবস্থা নেয়।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভোক্তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে এখানো খুব সচেতন নয়। যে কারণে পাঠাওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান তাদের হয়রানি করে। ভোক্তা অধিকার আইনটি বেশ শক্তিশালী। কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

এ ব্যাপারে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হুসেইন এম ইলিয়াসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে