আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > সরবরাহ বাড়লেও কমেনি টমেটো-মরিচের দাম

সরবরাহ বাড়লেও কমেনি টমেটো-মরিচের দাম

সরবরাহ বাড়লেও কমেনি টমেটো-মরিচের দাম 2

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

গত সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়ে যাওয়া টমেটো ও কাঁচা মরিচের দাম চলতি সপ্তাহেও একই রয়েছে। টমেটো, কাঁচা মরিচের মতো অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সব ধরণের সবজির সরবরাহ বাজারে বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, কাঁঠালবাগান এবং রজনীগন্ধা সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়তে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম, যে কারণে দাম বেড়েছে। আর টমেটোর মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এখন যে টমেটো বিক্রি হচ্ছে তা মজুত করে রাখা তা। ফলে বাজারে সীমিত আকারে আসছে টমেটো। তাই দাম বেশি।

তবে অধিকাংশ সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিংগা, বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে ভরপুর। যে কারণে বেশির ভাগ সবজিই ৪০-৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দখা গেছে, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে। আর এক পোয়ার (২৫০ গ্রাম) হিসাবে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। গত সপ্তাহেও কাঁচা মরিচ একই দামে বিক্রি হয়েছে।

টমেটোর দাম বেড়ে গত সপ্তাহে হয় ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। তবে আজ (শুক্রবার) এ সবজিটির দাম কিছুটা কমে ১০০-১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজিতে ভরপুর বাজার, দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচ-টমেটোর

কাঁচা মরিচের দাম বাড়ার বিষয়ে রজনীগন্ধা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, কাঁচা মরিচের দাম সহসা কমার সম্ভাবনা কম। কারণ বৃষ্টিতে অনেকের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যার প্রভাবে বাজারে সরবরাহ কমেছে। সামনে বৃষ্টি কমলেও কাঁচা মরিচের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম।

টমেটোর দামের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন যে টমেটো বিক্রি হচ্ছে তা কোল্ড স্টোরের। আগামী শীতে আবার বাজারে নতুন টমেটো আসবে। নতুন টমেটো আসার আগে বাজারে এর কেজি ১০০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা কম।

এদিকে বাজার ও মান ভেদে প্রতিকেজি চিচিংগা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহেও একই ছিল। বেগুনও আগের সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে ঝিঙা, ধুন্দল, পটল, কাঁকরোল ও করলা। ঝিঙা ও ধুন্দল আগের সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স ও করলা।

এদিকে রোজার মধ্যে বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হওয়া কাঁকরোল ও পেঁপের দাম গত সপ্তাহে বেশ কমে যায়। রোজার সময় ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁকরোলের দাম কমে দাঁড়ায় ৪০-৪৫ টাকায়। আর ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম কমে দাঁড়ায় ২৫-৩০ টাকায়। চলতি সপ্তাহেও এ সবজি দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে কিছুটা দাম কমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বরবটি। গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বরবটির দাম কমে ৪০-৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সবজির পাশাপাশি স্থিতিশীল রয়েছে শাকের দাম। লাল শাক, সবুজ ডাটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক আগের সপ্তাহের মতো ১০-১৫ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। পুইশাক ও লাউ শাকের আটি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা করে।

দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে পেঁয়াজও। দেশি পেঁয়াজ বাজার ও মান ভেদে ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহেও পেঁয়াজের দাম এমনই ছিল।

কাওরানবাজারের সবজির আড়ৎদার আলমগীর হোসেন বলেন, সবজির দাম এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। হুটহাট করে দাম বাড়ছেও না, আবার কমছেও না। এখন যে দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে আগামী কয়েক মাস একই থাকবে। বাজারে শীতের সবজি আসা শুরু হলে তখন কিছুটা দাম কমবে।

এদিকে, সবজির চড়া দামের বিষয়ে ক্রেতাদের অভিমত, কয়েক বছর ধরেই সবজির দাম চড়া। এখন এটা অনেকটাই সয়ে গেছে। বাজারে যেকোনো সবজি ৪০-৫০ টাকা কেজির নিচে পাওয়া যায় না। সুতরাং ৪০-৫০ টাকা সবজির কেজি এটা এখন আর বেশি মনে হয় না।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে