আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > প্রতিবাদ জানাতে ওয়েবসাইট বন্ধ করল উইকিপিডিয়া

প্রতিবাদ জানাতে ওয়েবসাইট বন্ধ করল উইকিপিডিয়া

Wikipedia

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রস্তাবিত ইইউ কপিরাইট আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতালিতে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে উইকিপিডিয়া। তাদের অভিযোগ, এই আইন ‘ইন্টারনেটের স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলবে।’

উইকিপিডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইতালিয়ান ভার্সনটি দুই দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। ইন্টারনেটে তথ্যের লাইসেন্সের ব্যাপারে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করার চিন্তাভাবনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সমালোচকরা বলছেন, এতে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুলিশের কাছে আরো বেশি জবাবদিহি করতে হবে।

বন্ধ করে দেয়া ওয়েবসাইটে এখন লেখা রয়েছে, ‘হুমকিতে ইন্টারনেটের স্বাধীনতা।’ প্রচলিত শাসনব্যবস্থা বিরোধী ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী লুইজি ডি মাইও জানিয়েছেন, এই প্রতিবাদে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

উইকিপিডিয়া ইতালির মুখপাত্র মাউরিৎসিও কোডোনিও সরকারের এ সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইতালির সংবাদ সংস্থা এএনএসএকে তিনি বলেছেন, “আমরা আশা করি, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দলটির যে প্রতিনিধিরা আছেন, তাঁরাও মাইওর সাথে একমত। ৫ জুলাই ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।”

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অবশ্য বলছে, এনসাইক্লোপিডিয়া ক্যাটাগরিতে পড়ায় এই আইনে উইকিপিডিয়া অন্তর্ভূক্ত হবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান এই আইনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাঁদের সমর্থনেই এই প্রতিবাদ।

কোডোনিও বলছেন, উইকিপিডিয়া ‘‘শুধু নিজেদের বাঁচাতে নয়, বরং মুক্ত ইন্টারনেটের পক্ষে লড়াই করছে। এক প্রতিবাদলিপিতে উইকিপিডিয়া ছাড়াও ৭০ জন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা টিম বার্নার্স লি, ১৬৯ জন শিক্ষাবিদ এবং ১৪৫ জন মানবাধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীও প্রস্তাবিত আইনের নিন্দা জানিয়েছেন।

‘সাংবাদিকতা রক্ষা পাবে’

উইকিপিডিয়ার ঠিক বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন সংবাদপত্রের প্রকাশকরা। ইউরোপিয়ান নিউজপেপার পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্লো পেরোনে উলটো দুষছেন উইকিপিডিয়াকেই। তিনি বলছেন প্রতিষ্ঠানটি তথ্য চুরি এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না।

তিনি বলছেন, “উইকিপিডিয়ার শুধু কপিরাইট নিয়ে প্রশ্ন নয়, বরং তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিষয়ে আরো বড় বিতর্ক তৈরি করতে চাচ্ছে। গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তাদেরকে হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে৷ তাদের এ অবস্থান শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মতো সংস্থাকে প্রভাবিত করতে চাওয়ার অপচেষ্টা।”

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে