আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > গোল উদযাপনের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ জাকা-শাকিরি!

গোল উদযাপনের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ জাকা-শাকিরি!

গোল উদযাপনের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ জাকা-শাকিরি

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টাস ডেস্ক:

সার্বিয়ার বিপক্ষে আপত্তিকর গোল উদযাপন করার দায়ে শুরু থেকেই সমালোচিত হচ্ছিলেন সুইজারল্যান্ডের দুই তারকা ফুটবলার গ্রানিত জাকা এবং জাদরান শাকিরি। বড় কোনো শাস্তির সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছিল। অবশেষে, সেই শাস্তি পেয়েই গেলেন এই দুই সুইস ফুটবলার। দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ৩৮০০ ইউরো করে জরিমানা করা হয়েছে তাদের দু’জনকে।

সার্বিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২-১ এ জয় তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড। আর সে সময় গোলের পর দুই হাত দিয়ে ঈগল পাখির মতো ইঙ্গিত করেন। যা সার্বিয়ানদের প্রতি আলবেনিয়ানদের জবাব হিসেবেই ধরা হয়। আর এই ইঙ্গিতকে খুব ভালোভাবে নেয়নি ফুটবলের অভিভাবক ফিফা। এটিকে তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং জাতিগত দ্বন্দের জের হিসেবেই দেখেছে।

ম্যাচের পরেই ফিফা এই বিজ্ঞপ্তিতে গ্রানিত জাকা ও জাদরান শাকিরির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শুনানির ঘোষণা দেয়। আর এ শুনানিতে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল সুজারল্যান্ডের এই দুই তারকাকে। এর ফলে শেষ ষোলো নিশ্চিতের ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না এই দুই তারকা।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ফিফা জানিয়েছে,সুইজারল্যান্ডের এই দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধে মুক্ত তদন্ত হবে। একই সাথে তারা কেন ওই রকম অঙ্গভঙ্গি করেছিল তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। তবে ফিফার কাঠগড়ায় শুধু শাকা-শাকিরিই নন,আরও আছেন সার্বিয়ার কোচ ম্লাদেন ক্রাস্তায়িচও। ম্যাচ শেষে রেফারিকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করায় কোচ ম্লাদেন ক্রাস্তায়িচের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানায় ফিফা। ম্যাচে কয়েকটা সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় রেফারিকে হেগের যুদ্ধাপরাধ আদালতে তোলার কথা বলেন এই সার্বিয়ার কোচ । তবে দুই ফুটবলার ও কোচ ছাড়াও ফিফা শাস্তির মুখে পড়তে পারে গোটা সার্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনও। কারণ ‘রাজনৈতিক ও নিষিদ্ধ ব্যানার’নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেছিলেন সার্ব সমর্থকরা যা কিনা ফিফার আইনবিরোধী।

তবে গোলের উৎসবের এই অঙ্গভঙ্গির ব্যপারে কারণটা ধরা হচ্ছে ব্যক্তিগত ক্রোধকে। শাকিরির জন্ম কসোভোয়। যা এক সময় সার্বিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০০৮ সালে কসোভো স্বাধীন হলেও সার্বিয়া তা এখনও স্বীকারে অনীহা প্রকাশ করে। যার ফলে দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান নেই। আর শাকার বাবা-মা হচ্ছেন আলবেনিয়ার বংশোদ্ভূত। এমনকি শাকার ভাইও খেলেন আলবেনিয়ার জাতীয় দলের হয়ে। কিন্তু কসোভো যুদ্ধের পর শাকিরি এবং শাকার পরিবারকে আশ্রয় নিতে হয় সুইজারল্যান্ডে।

অন্যদিকে কসোভোর স্বাধীনতাকে সমর্থন করার জন্য শাকার বাবাকে প্রায় সাড়ে তিন বছর রাজনৈতিক বন্দিও থাকতে হয়েছিল তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ায়। এমনকি সেসময় সার্বিয়ান সেনাবাহিনী নিরীহ আলেবনিয়দের নির্বিচারে হত্যা করে। আর তাই বিশ্বকাপে গোল করার পরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বলেই হয়ত তারা এমন ভঙ্গিতে আনন্দ করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে,ম্যাচের আগেই সার্বিয়া এবং আলবেনীয় বংশোদ্ভূত সুইস ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। যার জের ধরেই কিনা এই বিতর্ক।

এমনকি, সার্বিয়ার বিরুদ্ধে গোল করার জন্য দুই গোলদাতারই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্ট। এতে করেই সার্বিয়ার বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে এই ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছে। একই ভাবে দুই ফুটবলারের ইঙ্গিতের সমালোচনা করা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি সংবাদপত্রেও।

এর আগে শাকিরি এই ম্যাচের পর বিতর্কের আঁচ পেয়েই হয়তো ইঙ্গিতপূর্ণ গোল-উৎসব নিয়ে সেভাবে কোন মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘আবেগটাই বেরিয়ে এসেছিল তখন। গোলটা করার পর আমি দারুণ খুশি।’

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে