আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > ব্যাংকের সুদের হার কমানোর ঘোষণার প্রভাব পুঁজিবাজারে

ব্যাংকের সুদের হার কমানোর ঘোষণার প্রভাব পুঁজিবাজারে

ডিএসই ও সিএসই

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

ব্যাংকের সুদের হার কমানোর ঘোষণার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। আমানত ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রে বুধবার সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয় ব্যাংকের মালিক পক্ষ। এরপরই বৃহস্পতিবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে শেয়ারবাজার। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৮৫৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ডিএসইর এ লেনদেন গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মূল্যসূচক বেড়েছে ৬৫ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা রয়েছে, আমানতের সুদের হার কমানো হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ে। এ কারণে মুনাফার আশায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আগাম সক্রিয় হয়েছেন।

জানা গেছে, বুধবার ব্যাংক মালিকদের সংগঠন ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) বৈঠকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদ ৬ শতাংশ রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। বর্তমানে ঋণের ১৫ শতাংশের বেশি সুদ রয়েছে। আমানতের সুদের হার ৮ থেকে ১২ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা আমানতের সুদের হার কমানো হলে আমানতকারীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ব্যাংক ছেড়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবে। এতে বাজারে এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে।

এ কারণে ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৩৪০টি কোম্পানির ১৭ কোটি ১২ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৮৫৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ডিএসইর এ লেনদেন গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ডিএসইতে ৯২৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এরপর আর কখনও লেনদেন ৭শ’ কোটি টাকাও অতিক্রম করেনি।

লেনদেনকৃত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবার দাম বেড়েছে ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১১০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারের।

ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪১ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ২৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৮১ দশমিক ৮০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরীয়াহ সূচক ১২ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৬৩ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা শেয়ারবাজারে আসে, এ ধরনের নজির কম। ফলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সিএসই: বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের ৭৮ লাখ ৮২ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ৬২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৮৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসই ৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৬০ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

শীর্ষ দশ কোম্পানি: ডিএসইতে বৃহস্পতিবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- গ্রামীণফোন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, খুলনা পাওয়ার, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইউনাইটেড পাওয়ার, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, বেক্সিমকো লিমিটেড, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ন্যাশনাল টিউবস এবং কুইনসাউথ টেক্সটাইল।

বৃহস্পতিবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- জিকিউ বলপেন, প্রাইম টেক্সটাইল, কুইনসাউথ টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এটলাস বাংলাদেশ, বিডি ফাইন্যান্স, বিডি ল্যাম্পস, বিডি অটোকারস, মুন্নু সিরামিকস এবং প্রিমিয়ার সিমেন্ট।

অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- জনতা ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা পেট, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, সমতা লেদার, মেঘনা কন্ডেন্সড মিল্ক, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, বীচ হ্যাচারি, ইউনাইটেড পাওয়ার, গোল্ডেন সন এবং রেনউইক যজ্ঞেশ্বর।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে