আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > ধাক্কা দেয়ার পর ব্যাক গিয়ার দিয়ে সেলিমকে চাপা দেন এমপিপুত্র

ধাক্কা দেয়ার পর ব্যাক গিয়ার দিয়ে সেলিমকে চাপা দেন এমপিপুত্র

ধাক্কা দেয়ার পর ব্যাক গিয়ার দিয়ে সেলিমকে চাপা দেন এমপিপুত্র

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রাজধানীর বনানী ফ্লাইওভারে গাড়িচালক সেলিম ব্যাপারীকে (৪৫) প্রথমে দ্রুতগতিতে প্রাইভেটকার দিয়ে ধাক্কা দেয় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে সাবাব চৌধুরী। এরপর ব্যাক গিয়ার দিয়ে আবারও সেলিমকে গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

বনানীতে এমপিপুত্রের গাড়ি চাপায় সেলিম ব্যাপারী নিহতের ঘটনায় তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা রেকর্ড করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বুধবার কাফরুল থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন।

ঘটনাস্থলে গাড়িটির (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৩-৭৬৫৫) নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। ওই নম্বর নিয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ) গেলে সেখানকার একজন কর্মকর্তা জানান, ‘অডি’ ব্র্যান্ডের গাড়িটি নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলির নামে রেজিস্ট্রেশন করা। কামরুন্নাহার শিউলি কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

নিহতের মেয়ের জামাই আরিফুল ইসলাম বলেন, রাতে বাসায় আসার জন্য আমার শ্বশুর সেলিম ব্যাপারী মহাখালী ফ্লাইওভারের ঢালে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় তার দুই পায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন সাবাব চৌধুরী। এ সময় চাপা খেয়ে গাড়ির বাম্পার চেপে ধরেন সেলিম ব্যাপারী। তখন গাড়ি ব্যাক গিয়ারে দিয়ে আবারও সেলিমকে চাপা দেওয়া হয়। সাবাব চৌধুরী গাড়ি ব্যাক গিয়ারে নিলে সেলিম ব্যাপারী ফ্লাইওভারের গার্ডারে ধাক্কা খান। তখন মাথা ফেটে মগজ বের হয়ে মারা যান তিনি। এরপর গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান এমপিপুত্র সাবাব চৌধুরী।

আরিফ জানান, ঘটনার পর ফ্লাইওভার থেকে তার শ্বশুরের লাশ ও সেখান পড়ে থাকা গাড়ির নম্বর প্লেট উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে থানায় গিয়ে গাড়ির নম্বর উল্লেখ করে তিনি মামলা করেন।

নিহত সেলিম ব্যাপারী

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। এ সময় গাড়িকে ধাওয়া করে এক মোটরসাইকেল আরোহী। পরে গাড়িটি মানিক মিয়া এভিনিউয়েতে এমপি হোস্টেলে প্রবেশ করে। ওই মোটরসাইকেল আরোহী সেখানে গেলে গাড়ির ভেতরে চালকের আসনে থাকা সাবাব চৌধুরী নিজেকে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে পরিচয় দেন।

ওই মোটর সাইকেল আরোহী বলেন, ঘটনার পর পরই আমি গাড়িটির পেছনে ছুটতে থাকি। গাড়িটি এমপি হোস্টেলে গিয়ে থামার পরই আমি গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াই। এরপর গাড়ির ভেতরে চালকের আসনে থাকা সাবাব চৌধুরী আমাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে চায়। যখন আমি তাকে ছাড়তে রাজি হচ্ছিলাম না তখন সেই আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি প্রাণভয়ে সেখানে থেকে চলে আসি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, ঘটনার সময় সাবাব চৌধুরী একাই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার পরনে এক কালারের শার্ট ও কালো প্যান্ট ছিল।

সেলিম ব্যাপারীর মেয়ে সাদিয়া আক্তার তামান্না বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে সবশেষ বাবার সঙ্গে কথা হয়। বাসায় রাতে খেতে যাওয়ার কথা ছিল। বাবা বলেন, ডিউটি শেষ করে গাড়ি জমা দিয়েছি। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি, তোমার বাসায় যাব। এরপর মাকেও ফোন করে জানিয়েছে, তোমরা ঘুমিয়ে পড়। আমি তামান্নার বাসায় যাব। এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে আমার শ্বশুরের ফোনে কল করে কে যেন জানিয়েছে, বাবা অ্যাকসিডেন্ট করেছে, যেতে হবে।

মেয়ে তামান্না বলেন, ‘আমার বাবা নাওয়ার প্রপার্টিস নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানিতে এমডির গাড়ি চালক ছিলেন। ওই এমডি রাজধানীর নাখালপাড়ায় থাকেন।’

তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বরিশালে নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, গাড়িটি আমাদেরই। কিন্তু তবে আমার ছেলে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিল না। আমাদের পাঁচজন গাড়িচালক আছেন। তাদের মধ্যে কেউ একজন গাড়িটি চালাচ্ছিল। আমি এখন নোয়াখালীতে অবস্থান করছি, তাই বলতে পারছি না গাড়িটি কে চালাচ্ছিল।

কাফরুল থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।  মামলা নম্বর-১৮, ২০/০৬/২০১৮ইং। আমরা গাড়ির নম্বর পেয়েছি। বিআরটিএতে এই নম্বর পাঠিয়ে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য পাব, এর পর আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।

ওসি জানান, নিহত সেলিম ভূঁইয়ার লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে কাফরুল থানায় আনা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে