আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস

refugee3

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আজ বুধবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস। শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রতি বছরের ২০ জুন দিবসটি পালন করে। এ বিষয়ে সংস্থাটি কিছু কর্মসূচিও পালন করবে।

সারা পৃথিবীর অন্তত ৬ কোটি মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত। এর মধ্যে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ। পৃথিবীর তিনটি মাত্র দেশ থেকে আসছেন বিশ্বের ৫৪ ভাগ শরণার্থী। দেশগুলো হলো সোমালিয়া, আফগানিস্তান ও সিরিয়া। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৫৫/৭৬ ভোটে অনুমোদিত হয় যে, ২০০১ সালে থেকে জুন মাসের ২০ তারিখ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এ কারণে এ দিনটি বাছাই করা হয় যে, ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত শরণার্থীদের অবস্থান নির্ণয় বিষয়ক একটি কনভেনশনের ৫০ বছর পূর্তি হয় ২০০১ সালে।

২০০০ সাল পর্যন্ত আফ্রিকান শরণার্থী দিবস নামে একটি দিবস বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছিলো। জাতিসংঘ পরবর্তীকালে নিশ্চিত করে যে, অর্গানাইজেশন অফ আফ্রিকান ইউনিটি বা ওএইউ পরবর্তীকালে ২০ জুনকে আফ্রিকান শরণার্থী দিবস-এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে শরণার্থী দিবস হিসেবে ২০ জুনকে পালন করতে সম্মত হয়েছে।

refugee5

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। যা শরণার্থী সংখ্যার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম। আশ্রয়দাতা দেশের মধ্যে তুরস্ক নতুন শরণার্থী নিবন্ধনের সংখ্যায় সবচেয়ে বৃহত্তম। দেশটি সিরিয়ার ছয় লাখ ৮১ হাজার অধিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করেছিল।

প্রতিবেদন অনুসারে কক্সবাজার জেলায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্পদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

২০ জুন আন্তর্জাতিক শরণার্থী  দিবসকে সামনে রেখে প্রতি বছর ইউএনএইচসিআর-এর গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হয়  এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ওপর ইউএনএইচসিআর, সরকার ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থা কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরা হয়।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বাৎসরিক গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাষ্ট্রহীন এবং উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন। গত আগস্টে মিয়ানমারে নৃশংস সহিংসতা চলাকালে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ শরণার্থী বাংলাদেশে আসে। সে সময় থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে, যা গত দুই দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় এবং দ্রুততম শরণার্থী প্রবাহ ছিল। কক্সবাজারের কুতুপালং, বালুখালি এখন বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী আশ্রয়স্থল। ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্যোগময়। আবহাওয়ার সময় বিশেষ করে মে ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালে ২৭ লাখের অধিক শরণার্থী তাদের বাড়ি থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যায়, যাদের অধিকাংশ (৮৮ শতাংশ) মাত্র তিনটি দেশ (দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, মিয়ানমার) থেকে পালিয়ে গেছে।

refugee4

আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনে বলা আছে, শরণার্থীরা শুধু আশ্রয় প্রদানকারী দেশেরই বোঝা নয় বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও বোঝা। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে থাকলে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের মাধ্যমে সেই বোঝা লাঘব করার প্রয়াস করে থাকে। আমরা যেটা করছি তা মানবিক। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় আমরা সই করলেও মূল ভিত্তি যে কনভেনশন সেখানে সই করিনি। এমনকি প্রটোকলেও না। তার মানে এত শরণার্থী আসলে তাদের আমরা কিভাবে পরিচালিত করবো তার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

বাংলাদেশের সীমানায় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের বলপূর্বক প্রত্যাবর্তন করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে কারণ তাদের পুশব্যাক করা মানে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। তাদের আশ্রয় লাভের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে এ বিশাল বাস্তুহারা লোকজনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করতে হবে। যাতে তারা সুরক্ষা পায় এবং বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা, পরিবেশ ইত্যাদি সংকট সৃষ্টি না হয়। এতে শরণার্থীদের উপযুক্ত আইনগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেয়া যাবে এবং এদেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধ হবে। এতে শরণার্থীদের আচরণ বিধি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনসহ তাদের তৃতীয় কোন রাষ্ট্রে আশ্রয় প্রদানেও সহায়তা করা যায়। সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে অথবা ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে এবং তাদের শরণার্থী পরিচয় ঘোচানোর চেষ্টা চালাতে হবে।

refugee2

সাধারণ ক্ষমার আওতায় তারা প্রত্যাবাসন করতে চাইলে দ্রুত তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা, শরণার্থী পরিবারগুলোকে একত্রীকরণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় থেকে তাদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। বিপুল শরণার্থীর ঢল নেমে এলেও স্থানীয় জনগণ ও বাংলাদেশের মানবাধিকার চেতনাধারী মানুষ পরিস্থিতির মোকাবিলার মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা ঘটায়।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত এগিয়ে আসেনি এবং মায়ানমারের মানবতা বিরোধী অপরাধ বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেয়নি। এখনও পর্যন্ত খাদ্য, পানি, পয়ঃনিস্কাশন, আশ্রয় ও চিকিৎসা সুবিধাদি নিশ্চিত হয়নি। শরণার্থীদের অধিকাংশ নারী এবং শিশু ও অশীতিপর বৃদ্ধ। রোহিঙ্গা শিবিরে সহস্রাধিক শিশু অভিভাবকহীন। এদের অনেকের মা-বাবা আরাকানে সহিংসতায় নির্মম হত্যার শিকার, নয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘ বিপদ সংকুল পথ পেরিয়ে আসার সময় হারিয়ে গেছে। এদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশেষ দৃষ্টি আবশ্যক।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে