আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > রাশিয়া বিশ্বকাপই মেসির শেষ সুযোগ

রাশিয়া বিশ্বকাপই মেসির শেষ সুযোগ

Leonel messi

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টস ডেস্ক:

ম্যারাডোনা যখন বিশ্বকাপ জিতলেন, তখন তার বয়স ছিল ২৫। ২৬ বছর বয়সে মেসিও জিততে পারতেন বিশ্বকাপ। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ মুহূর্তে মারিও গোটশের হূদয় বিদীর্ণ করা গোল তা হতে দেয়নি। এরপর সময়ও থেমে থাকেনি। মেসির বয়স বেড়ে এখন ৩০। ২৪ জুনের পর তা পা দেবে ৩১-এ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৩৫। তখন মেসি আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে থাকবেন কি না, তা নিয়ে থাকছে ঘোর সংশয়। বিশ্বজয়ের স্মারক সোনালি ট্রফি জেতার জন্য এবারই মেসির শেষ সুযোগ। ব্যাপারটি এমন, ‘হলে এবার, না হলে কখনোই না।’

একটি শিরোপার জন্য বুভুক্ষা লিওনেল মেসি, সঙ্গে টিম আর্জেন্টিনাও। মেসি কিংবদন্তি ফুটবলার, কিন্তু ম্যারাডোনা-পেলেদের মতো নয়। এমন আলোচনা নিত্যই হচ্ছে। যা হূদয় চুরমার করে ভক্তদের। তার মূল কারণ, মেসির নামের পাশে নেই একটি বিশ্বকাপ ট্রফি। অথচ এই মেসিই ৩২টি শিরোপা জিতেছেন বার্সেলোনার হয়ে। নামের পাশে আছে পাঁচটি ফিফা ব্যালন ডিঅর। আর বা পায়ের জাদুতে রাজ্যের রেকর্ড।

কিন্তু টিম আর্জেন্টিনার নাম এলেই মেসির খেরোখাতায় হতাশা উঁকি দেয়। একটি মাত্র অলিম্পিক স্বর্ণই যেখানে অবলম্বন। বাদ বাকি ইতিহাস কান্নার। তিনবার কোপার ফাইনালে উঠেও শিরোপা ধরা দেয়নি মেসির হাতে। ২০০৬ মেসির অভিষেক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিদায় কোয়ার্টার ফাইনালে। তুখোড় ফর্ম নিয়ে মেসি ফ্লপ ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। যেখানে জার্মানির কাছে পর্যুদস্ত হয়ে বিদায়। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও পূর্ণতা পায়নি মেসির স্বপ্ন। এখানেও জার্মানির উল্লাস, মেসিদের চোখে জল; মারাকানায় উৎসব-বিষণ্নতার দুই ভিন্ন চিত্র।

২০১৬ কোপার ফাইনাল না জিততে পেরে অভিমানে বিদায়ই বলে দিয়েছিলেন মেসি। যদিও সে সিদ্ধান্ত টেকেনি মাসখানেকও। ফিরে এসেছেন শেষ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেই দেখালেন ঝলক। শেষ ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে। যে ম্যাচে না জিতলে রাশিয়া বিশ্বকাপে আসা হতো না। শুরুর দিকে ইকুয়েডরের একটি গোলে লিড বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টাইনদের। কিন্তু পরের চিত্র ইতিহাস। মেসির হ্যাটট্রিক, রাশিয়ার মূল মঞ্চে ম্যারাডোনার উত্তর সূরিরা।

৩২ বছর বিশ্বকাপের শিরোপা জেতেনি আর্জেন্টিনা। তার চেয়ে বড় কথা গত ২৫ বছর কোনো ট্রফিই জেতেনি ম্যারাডোনার দেশটি। ১৯৯৩ সালে কোপায় জেতা শেষ শিরোপা যেন উল্টো পরিহাস করছে মেসিদের।

রাশিয়া বিশ্বকাপ মেসিদের হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ফাইনাল মিশন হিসেবে মেসি নামছেন, তা অনুমেয়। পেছনে রসদ জোগাচ্ছে গেল মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুরন্ত ফর্ম। লা লিগার হয়ে মেসি ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা, জিতেছেন পিচিচি ট্রফি, সঙ্গে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটও। এমন ফর্ম মেসির ছিল না ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগে। ভক্তদের আশার পালে বাড়তি স্বস্তি যেন এমন পরিসংখ্যান।

ফুটবল দলগত খেলা। শিরোপা জিততে দরকার সমন্বিত পারফরম্যান্স। এক মেসিতে সব সম্ভব নয়। দরকার তার পাশে দক্ষসম্পন্ন খেলোয়াড়। আর্জেন্টিনার তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগে মেসিসহ আছেন আগুয়েরো, পাওলো দিবালা ও হিগুয়েন। তবে বরাবরের মতো দুর্বলতা সেই রক্ষণে। এর ওপর চোট বাড়িয়েছে দুশ্চিন্তা। ছিটকে গেছেন বিশ্বস্ত গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। কয়েকদিন পর সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন মিডফিল্ডার মানুয়েল লানসিনি। আবার চোট শঙ্কায় রয়েছেন এভার বানেগাও।

তবে যাকে নিয়ে এত কথা, সেই মেসি অবশ্য রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে ফুটছেন টগবগে আত্মবিশ্বাসে। নিজেদের ফেভারিট মানছেন না। মেসির ভরসা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা। ইতোমধ্যে রাশিয়ায় পৌঁছেছে মেসির নেতৃত্বধীন আর্জেন্টিনা। দেশ ছাড়ার আগে মেসির কথায় শিরোপা জয়ের মানস স্পষ্ট, ‘আমরা দারুণ উদ্দীপনা ও তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যাচ্ছি। অনুশীলন ক্যাম্পের পুরোটা আমরা খুব ভালোভাবে প্রস্তুত হচ্ছি। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিচারে আমাদের দারুণ সব খেলোয়াড় আছে এবং আমরা যেকোনো দলের সঙ্গে সমানে সমান লড়ব, যদিও আমরা ফেভারিট না।’

ফেভারিট দাবি না করে মেসি কি অগোচরে চাপ কমাতে চাচ্ছেন বিশ্বকাপে। হতে পারে কৌশল। কিন্তু নামটা তো লিওনেল মেসি। যার ভক্ত অগণিত। আর্জেন্টিনা তো বটেই বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তার ভক্ত। সবাই মেসির দিকে পাখির চোখ করে আছেন। যে চাপ দেখা যায় না, অনুভব করা যায়। মেসি কী পারবেন, সব চাপ সামলে শেষ সুযোগটা লুফে নিয়ে সোনালি ট্রফিতে চুমু আঁকতে?

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে