আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রংপুর > কুড়িগ্রামে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ উদ্বোধন

কুড়িগ্রামে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ উদ্বোধন

কুড়িগ্রামে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ উদ্বোধন

প্রতিচ্ছবি কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ আগামীকাল রোববার উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় গণভবণ থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার আছিয়ার বাজার এলাকায় ব্রীজের পূর্ব অংশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্রীজটি’র শুভ উদ্বোধন করবেন।

ব্রীজ উদ্বোধন উপলক্ষে শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব রইচ উদ্দিন ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল আলম, তত্বাবধায়ক হারুন অর রশীদ, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, ডিডিএলজি রফিকুল ইসলাম সেলিম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: জাফর আলী, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. আহসান হাবীব নীলু প্রমুখ।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সর্বসাধারণের সুবিধার্তে সেতুটি চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে খুলে দেয়া হয়। রোববার সেতুটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বলে জানান জেলা

প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর উপর ৯৫০মিটার দীর্ঘ সেতুটির নামকরণ ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর উপর ৯৫০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার মধ্যবর্তী কুলাঘাট নামক স্থানে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। পরে সেটি একনেকে অনুমোদন হয়। শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণে ২০১৪ সলে এলজিইডি সিমপ্লেক্স ও নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে । এটি নির্মাণে এলজিইডি ১৩ একর জমি অধিগ্রহন করে। নির্মাণে ব্যয় হয় ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ডাবল লেন সেতুর প্রস্থ ৯ দশমিক ৮০ মিটার,ক্যারেজওয়ে ৭ দশমিক ৩০ মিটার ও সেতুর উভয় পাশের ১ মিটার চওড়া ফুটপাত রয়েছে। পিসি গার্ডার নির্মিত সেতুটিতে মোট স্প্যান রয়েছে ১৯টি। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার। ১৮টি পিয়ার ও ২৪০টি পাইল রয়েছে সেতুটিতে। নৌ-চলাচলের জন্য নূন্যতম নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে ৭ দশমিক ৬২ মিটার। রাতে নিরাপদে চলাচলের জন্য সেতুটিতে বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। ২ হাজার ৯১৯ সংযোগ সড়কের মধ্যে কুড়িগ্রাম প্রান্তে ৮৯২ মিটার এবং লালমনিরহাট জেলা প্রান্তে ২ হাজার ২৭ মিটার। এছাড়াও

 উভয় জেলায় নদী শাসনের জন্য ফুলবাড়ী অংশে ১ হাজার ২৫৬ মিটার এবং লালমনিরহাট অংশে ২ হাজার ২৩৮ মিটার নদী শাসনের আওতায় আনা হয়েছে। সেতুটি নির্মানের জন্য ১৩ হাজার ৮৫৬ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। এতে ফুলবাড়ী অংশে ১০ হাজার ৫৬৮ একর এবং লালমনিরহাট অংশে ৩ হাজার ৮৮ একর। এই সেতু নির্মাণের ফলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

 স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, মূল সেতুতে নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি ৫৮ লাখ, সংযোগ সড়ক তৈরিতে ১৩ কোটি ৯ লাখ, নদী শাসনে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ এবং ভূমি অধিগ্রহনে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সিমপ্লেক্স ও নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপ গত ডিসেম্বর মাসেই ব্রীজের কাজ সম্পন্ন করে। এই সেতটিু নির্মাণের ফলে জেলার কৃষি ভিত্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, এতদিন ধরলা নদীর কারণে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলা থেকে ফুলবাড়ী উপজেলা বিচ্ছিন্ন ছিল। সেতুটি নির্মাণের ফলে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, নাগেশরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ স্বল্প সময়ে বিভাগীয় শহর রংপুর যাতায়াত করতে পারবে।

মমিনুল ইসলাম বাবু/ইএ

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে