আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > চাকরির ভয় দেখিয়ে চিকিৎসকদের বেতন দিচ্ছে না রেড ক্রিসেন্ট

চাকরির ভয় দেখিয়ে চিকিৎসকদের বেতন দিচ্ছে না রেড ক্রিসেন্ট

চাকরির ভয় দেখিয়ে চিকিৎসকদের বেতন দিচ্ছে না রেড ক্রিসেন্ট [2]

ইদ্রিস আলম:

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা তাদের সার্বিক উন্নয়নে নানাভাবে কাজ করে আসছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, দিনরাত টানা পরিশ্রম করেও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না এসব সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মীরা।

এমনকি একটি সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। শরনার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন সংস্থাটির চিকিৎসকরা। তবে যারা গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগে কাজ করছেন তাদের বেতন নিয়েই গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।

গত বছরের অক্টোবর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি অ্যান্ড নরওয়েন রেড বোর্ড। সেখানে তাদের চিকিৎসায় পদবী অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মাসিক বেতন হিসাবে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে কোনো চুক্তিপত্র ছাড়াই দেয়া হয়েছে এ নিয়োগ।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকদের দাবি, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করার মনোভাবের কারণেই চুক্তিপত্র নিয়ে এই লুকোচুরি। নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন ওই সব অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা ও নার্সরা। দিন রাত নিরলসভাবে রোহিঙ্গাদের সেবা করে যাচ্ছেন মৌখিক চুক্তিতেই।

এখানে যেসব চিকিৎসকরা আছেন সবাই নিজ নিজ বিভাগে অভিজ্ঞ। শুধু তাই নয়, যেসব নার্সরা আছেন প্রত্যেকে সরকারি নার্সিং কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করা। তাদের দাবি, ৮ মার্চ থেকে বাংলাদেশি ১০ জন চিকিৎসক এ কাজে যোগদান করেছেন। তিন মাসেও তারা কোনো বেতন পাননি। এমনকি কবে পাবেন সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত নন।

এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে প্রাপ্য অধিকার আদায়ে তারা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) কক্সবাজার জেলা সভাপতি বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফিল্ড হসপিটালে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর চলমান নির্যাতন ও প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করে উদ্ভূত পরিস্থিতি অবহিতকরণ ও সমাধান চান ওই ১০ চিকিৎসক।

তারা লিখিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য নিয়ম অনুযায়ী যে চুক্তিপত্র প্রদান করার কথা, সেই যথাযথ চুক্তিপত্র এখন পর্যন্ত অত্র হাসপাতালে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষরিত হয়নি। এমতাবস্থায় আমি আমাদের ঢাকার স্থায়িত্ব এবং আইনগত ভিত্তি নিয়ে সন্দিহান ও চিন্তিত।

চাকরির ভয় দেখিয়ে চিকিৎসকদের বেতন দিচ্ছে না রেড ক্রিসেন্ট [3]

উপযুক্ত বেতন ও চুক্তিনামা সংক্রান্ত বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও তাতে কোনো ফল হয়নি। প্রজেক্ট ডিরেক্টর জনাব একরাম এলাহী চৌধুরী কিছুটা নিশ্চয়তা দিলে তাতেও কোনো আশার আলো দেখছেন না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এমনকি তাদেরকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

তারা ন্যায্য অধিকার আদায় ও চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সার্বিক সাহায্য কামনা করেন।

চিকিৎসকরা হলেন- ডা. সামিউল ইসলাম (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), ডা. মাহমুদুল ইসলাম সিদ্দিকী (বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ), ডা. মুমিনুল হক (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ), ডা. সাইফুন নবী ইভান (হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ), ডা. জুবায়ের হোসেন (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ), ডা. মো. ফরহাদ হোসেন (ডায়বেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর), ডা. আনিসুল হক জুয়েল (ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ), ডা. মো. আমজাদ হোসেন (কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ), ডা. মো. মাইনুল ইসলাম (হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ) ও ডা. রামিমা আফরিন (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ)।

অভিযোগের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হয় সেখানে কর্মরত ভুক্তভোগী ডা. মো. মাইনুল ইসলামের সঙ্গে। মুঠোফোনে তিনি প্রতিচ্ছবিকে বলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি অ্যান্ড নরওয়েন রেড বোর্ড যৌথভাবে অক্টোবর মাস থেকে পরিচালনা করে আসছে। এখানে অক্টোবর থেকে চিকিৎসক আর নার্স ছিল হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্ন করা।

তিনি বলেন, এখানে ডাক্তার ১-২ মাস পড় পড় বাদ দেয়া হত বা চলে যেত বেতনের কারণে। তারা বাদ দিত কারণ বেশি দিন থাকলে তাদের অপকর্মগুলো জেনে যেত তাই। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন নিয়ে ৩ মাস, ৬ মাস পর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দিত। তাদের তেমন চিন্তা ছিলো না, কারণ তারা শিক্ষানবিশে ছিল। পরে আমাদের নিয়ে আসা হয়।

‘আমরা সবাই প্রফেশনাল, আমাদের তো বেতন ছাড়া চলবে না। গত ৮ মার্চ ১০ জন বাংলাদেশি চিকিৎসক হিসেবে কাজে যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত শুধু মার্চের বেতন পেয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, বাকি বেতন চাইতে গেলে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়, বলে চাকরি থাকবে না। প্রতিবাদ করতে গিয়ে চাকরি হারাতে হয়েছে কয়েকজনকে। তারা আমাদের সঙ্গে চালাকি করে কোনো লিখিত চুক্তিপত্র করেনি। শান্তিপূর্ণভাবে বেতন চাইতে গেলে আমাদের হুমকি দেয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ জানাই। সরাসরি না দেখলে বুঝতে পারবেন না তাদের অপকর্মের বিষয়।

চাকরির ভয় দেখিয়ে চিকিৎসকদের বেতন দিচ্ছে না রেড ক্রিসেন্ট [4]

সেখানকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক নার্স প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘আমি অনেক মাস যাবত এখানে সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমাদের বেতন তেমন দেয়া হয় না। চাইতে গেলে চাকরির ভয় দেখিয়ে হুমকি দেয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে চুপ থাকি। আমাদের পরিবারে সংসার খরচ পাঠাতে হয়। সেখানে উল্টো বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে চলতে হচ্ছে। এবার স্যারদের (চিকিৎসক) সঙ্গে মিলে লিখিত অভিযোগ করেছি। এবার যদি আশার আলো দেখতে পাই…!

তিনি আরো বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে তাবুতে থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের বেতন নিয়ে কেন এমন হয়?

ভুক্তভোগী ডাক্তার-নার্সদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একাধিকবার চেষ্টা করেও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ইএ/এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে