আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > শুভ জন্মদিন হুমায়ুন ফরীদি

শুভ জন্মদিন হুমায়ুন ফরীদি

প্রতিচ্ছবি বিনোদন ডেস্ক:

বাংলা নাটক ও সিনেমা জগতে যে মানুষটি পার্শ্ব চরিত্র করেও সবসময় মূল আলোচনায় থাকতেন তিনি হুমায়ুন ফরীদি। আজ এই গুণী মানুষের ৬৭তম জন্মদিন।

স্বাধীনতা উত্তরকালে বাঙালির নিজস্ব নাট্য আঙ্গিক গঠনে গ্রাম থিয়েটারের ভূমিকা অসামান্য। এর মূল সঞ্চালক ছিলেন কয়েকজন নাট্য ব্যক্তিত্ব, তাঁরা হলেন-সেলিম আল দীন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, আফজাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, পিযূষ বন্দোপাধ্যায়, সুবর্ণা মোস্তফা এবং হুমায়ুন ফরীদি।

টেলিভিশন নাটকে হুমায়ুন ফরীদির অভিষেক ঘটে আতিকুল হক চৌধুরীর ‘নিখোঁজ সংবাদ’ নাটকের মধ্য দিয়ে। এরপর নীল নকশার সন্ধানে (১৯৮২), দূরবীন দিয়ে দেখুন (১৯৮২), ভাঙ্গনের শব্দ শুনি (১৯৮৩), বকুলপুর কতো দূর (১৯৮৫), দু’ভুবনের দুই বাসিন্দা, একটি লাল শাড়ি, মহূয়ার মন (১৯৮৬), সাত আসমানের সিঁড়ি (১৯৮৬), একদিন হঠাৎ (১৯৮৬), চাঁন মিয়ার নেগিটিভ-পজেটিভ (১৯৮৬), ওযাত্রা (১৯৮৭), সংসপ্তক (১৯৮৭-৮৮), পথের সময় (১৯৮৯), দুই ভাই (১৯৯০), শীতের পাখি (১৯৯১), কোথাও কেউ নেই (১৯৯০), সমুদ্রের গাঙচিল (১৯৯৩), তিনি একজন (২০০৫), চন্দ্রগ্রস্ত (২০০৬), কাছের মানুষ (২০০৬), মোহনা (২০০৬), ভবের হাট (২০০৭), শৃংখল (২০১০), প্রিয়জন নিবাস (২০১১), আরমান ভাই দি জেন্টলম্যান (২০১১) ইত্যাদি নাটকে সফল অভিনয় করেন।

‘সংশপ্তক’ এর ভয়াল কানকাটা রমজান বা ‘কোথাও কেউ নেই’ এর আকারে ছোট উকিল চরিত্রটির তুলনা করলে বোঝা যায় তার অভিনয়ের ব্যাপ্তি। সেই গভীরতার ছাপ চলচ্চিত্রে টেনে নিয়ে এসে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অনেক ধারণাকে বদলে দিয়েছিলেন। খলচরিত্রও যে একটি চলচ্চিত্রের প্রাণ হয়ে উঠতে পারে নান্দনিকতা কিংবা ব্যবসায়িক সাফল্যে তার প্রমাণ রেখেছেন তিনি প্রতি পদে পদে।

তিনি বলেই সম্ভব হয়েছে ‘হুলিয়া’, ‘দহন’, ‘ব্যাচেলর’, ‘আহা’, ‘মাতৃত্ব’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামল ছায়া’ কিংবা ‘একাত্তরের যিশু’র মত সিনেমা করেও ‘রাঙ্গা বউ’, ‘সন্ত্রাস’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘ত্যাগ’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘ভণ্ড’, ‘রিটার্ন টিকেট’, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ প্রভৃতি সিনেমার মত পুরোদস্তর বাণিজ্যিক ঘরাণার সিনেমা করা।

‘মাতৃত্ব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

ভাষা আন্দালনের বছর ১৯৫২ সালের আজকের দিন ২৯ মে জন্ম নিয়েছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। বাবা এ টি এম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। তিনি নিজ গ্রাম কালীগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর মাদারীপুর সরকারি ইউনাইটেড ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় হতে ১৯৬৮ সালে এসএসসি এবং চাঁদপুর কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাস করেন। হুমায়ুন ফরীদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন পাঠদান করেন।

হুমায়ুন ফরীদির প্রিয় একটি উক্তি ছিল ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর ঢাকার বাসায় মারা যান।

স্বাধীনতার পর সহপাঠীর বোন নাজমুন আরা বেগম মিনুকে বেলী ফুলের মালা পরে বিয়ে করেছিলেন ফরীদি। সে ঘরে দেবযানী হুমায়ুন ফরীদির একমাত্র কন্যা। পরে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে দ্বিতীয় সংসার জীবন এবং বিচ্ছেদ। জীবনের শেষ কয়েকটা বছর অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন সবকিছু থেকে। মাঝে মাঝে দুয়েকটি নাটকে অভিনয় ছাড়া সারাদিন বাসাতেই কাটতো এই চির আড্ডাবাজ মানুষটির।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে