আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজনীতি > নির্বাচনকে টার্গেট করে এগোচ্ছে যুবলীগ

নির্বাচনকে টার্গেট করে এগোচ্ছে যুবলীগ

 

Faruk

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জীবনী নতুন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিতে কাজ করছে আওয়ামী যুবলীগ। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দর্শন জনগণের ক্ষমতায়ন প্রতিটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। যুবসমাজকে নিয়ে পরিচালিত এসব গঠনমূলক কাজকর্ম ও চিন্তা-ভাবনার কথা জানান সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টাগের্ট করে ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সুদৃঢ় পরিকল্পনা নিয়েছে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে এবং সরকারের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিচ্ছে সংগঠনটি।

আগামী নির্বাচনে ভোটের লড়াই বিবেচনায় মাঠে নামছে যুবলীগের বেশ কিছু ইউনিট। সারা দেশে গঠন করা হচ্ছে নির্বাচনমুখো সাংগঠনিক টিম। এই টিম স্থানীয়ভাবে গণসংযোগ, ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনী কমিটি গঠন করবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের উদ্যোগে ৬৬টি টিম ও দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে নগরীতে ৬৫টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। টিমগুলো ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সব পর্যায়ে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনার কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই মাঠ গোছানোর উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ।

তিনি আরও বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার কারণে জেলা সম্মেলন আপাতত বন্ধ রাখছি। এই মুহূর্তে আমাদের কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষে কাজ করব। সারা দেশে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। ইতিমধ্যে সে প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে।’

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, যুব জাগরণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুবসমাজকে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। আমরা স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জীবনী, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জীবনী সমাজে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে যুব জাগরণের মাধ্যমে প্রায় ছয় শতাধিক প্রকাশনা প্রকাশিত হয়েছে। যা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যে কোনো সহযোগী সংগঠনসহ দেশের কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেই। যুব সমাজের মধ্যে জ্ঞানচর্চার আগ্রহ সৃষ্টি করতে যুবলীগের যে কোনো সভা, সমাবেশে একটি বইয়ের স্টল থাকে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ধানমন্ডি ৫নং সড়ক এবং কাকরাইলে তিনটি প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিক্রয় কেন্দ্রে যুবলীগের প্রকাশনার পাশাপাশি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের লেখা বিভিন্ন বই, ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ নামমাত্র মূল্যে পাওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় শোকের মাস আগস্টে যুবলীগ সংবাদ চিত্র প্রদর্শনীসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করে।

বর্তমানে রাজনীতিক কর্মদিবসগুলো যাতে তারা পুষ্পার্ঘ অর্পণ বা সভা-সমাবেশ পালনের পাশাপাশি যে কোনো দিবস উপলক্ষে যুবলীগ পৃথক পৃথক বিষয়ভিত্তিক প্রকাশনা প্রকাশ করছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও যুবলীগ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নজর কেড়েছে বলে তিনি জানান।

একইভাবে যুবলীগের বর্তমান কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ‘যুবলীগ যেটা পেরেছে, আমরা সেটা পারিনি’ মন্তব্যটির মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুবলীগের কর্মকান্ডের পার্থক্য দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ১০০ নির্বাচনী টিম : যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ ইতিমধ্যে ১০০ নির্বাচনী টিম গঠন করেছেন।

এই টিমের মূল কাজ হচ্ছে, সংসদ নির্বাচনের আগে নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা এবং নির্বাচনী কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে ওই কমিটিতে।

‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ নিশ্চিতে কাজ করা: ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূল চালিকাশক্তি। আমি যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে যে কাজটি প্রথম শুরু করেছি সেটি হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন জনগণের ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় করা। জনগণের ক্ষমতায়ন হলো উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগণের অংশগ্রহণ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের মতামত প্রদানের সুযোগ। বর্তমান সরকারের সময় বাজেট পাসের পূর্বে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের পূর্বে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মতামত গ্রহণ করা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় জনগণের মতামত গ্রহণ করা হয়। এটাই হলো জনগণের ক্ষমতায়ন।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু কথা বলার অধিকার নাই, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন আবার মানুষের কথা বলার অধিকার দিয়েছেন। সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জনগণের ক্ষমতায়নের কোনো বিকল্প নাই।

ডিডিআর/ইএ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে