আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

ইদ্রিস আলম:

গাজীপুরে অবস্থিত প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজী আজিমউদ্দিন কলেজে এইচএসসির ভূগোল ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভূগোল ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ও বেশি নম্বর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ টাকা আদায় করেছেন কলেজটির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ আমিনুর রহমান।

সরেজমিনে, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের ১৬০ জন শিক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি ভূগোল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা কেন্দ্র কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ। ভূগোল বিষয়ে ব্যবহারিকের জন্য শিক্ষার্থীদের নিকট হতে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়।

গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উপস্থিতি স্বাক্ষর নেয়া হয় শনিবার। উপস্থিতি স্বাক্ষর নেয়া কালে ছাত্রীদেরকে আমিন শাসিয়ে বলেন, “তোমরা কী আমার চাকরিটা খেয়ে ফেলতে চাও? আমি কী তোমাদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নিয়েছি? এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলবা না।”

এ নিয়ে কথা হয় কলেজের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা জানান, “আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে ভূগোল ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অভিনব কায়দায় ৩০০ টাকা করে  আদায় করেছেন আমাদের কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগীয় প্রধান আমিন স্যার।”

তারা আরও বলেন, “ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিকট হতে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণের টাকা আদায় করেছেন রমজানের প্রথম দিনে। দিনটি ছিল শুক্রবার। এর দু-একদিন আগে পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তিনজনকে ক্যাপ্টেন করেন ওই শিক্ষক। তিনজন ক্যাপ্টেন প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে ৩০০ টাকা করে আদায় করে শিক্ষকের হাতে তুলে দেন। ক্যাপ্টেনরা খুব সর্তক ও গোপনীয়ভাবে একাজটি সম্পন্ন করেছেন।”

তারা  আরও জানান, “ফরম পূরণের সময় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করার পরই চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষায় বহিঃপরীক্ষক থাকেন। শুক্রবার দিন বলে বহিঃপরীক্ষক আসেননি। কলেজের অধ্যক্ষও আসেননি।

বিজ্ঞান গ্রুপের চালাকচতুর ওই শিক্ষক বন্ধের দিনে কলেজের অধ্যক্ষকে না জানিয়ে বহিঃপরীক্ষক টঙ্গী গার্লস পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফারুকের অনুপস্থিতিতে অন্যায়ভাবে একা নিজেই পরীক্ষা নিয়ে নেন।

কলেজের ভূগোল বিষয়ের তিনজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ঐ একজন শিক্ষকই এককক্ষে ১৬০ জন বসিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেন। বিষয় একটি কিন্তু পত্র দুটি । বাকি দু’জন শিক্ষককে খবরও দেননি। ১৬০ জনের জন্য একটি কক্ষ! মাত্র একজন শিক্ষক! এটা কোন ধরনের ব্যবহারিক পরীক্ষা! আবার মাত্র ২ ঘন্টায় ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ!”

কলেজের একাধিক সিনিয়র শিক্ষক জানান, এ বছর এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে আমিনুর রহমান ওরফে আমিনকে অপসারণ করা হয়। পরে তিনি ভুল স্বীকার করে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।

“তিনি ভবিষ্যতে এ ধরণের আচরণ থেকে বিরত থাকবেন শর্তে ২০১৯ সালের পরীক্ষায় সুযোগ দেয়ার” পত্র দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।

“তারপরও ঐ শিক্ষক একক ক্ষমতা বলে ১৬০ জনের পরীক্ষা একাই পরিচালনা করে দুই ঘন্টার মধ্যে পরীক্ষা নামে প্রহসন, কি করে করলো?

প্রশাসনের কাছে আমরা ছাত্রছাত্রী জিজ্ঞাসা করতেই পারি আমাদেরকে কি দেবেন এ ধরনের শিক্ষকের মাধ্যমে। যে আলো দেবেন তা দিয়ে সমাজ আলোকিত করতে পারবো কিনা?” জানতে চান কলেজের ছাত্রলীগ নেতারা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ।

এ ব্যাপারে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ আমিনুর রহমান ওরফে আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। আমাকে চাকরিচ্যূত করতে ষড়যন্ত্র করছে সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষক।”

ওই সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, “আমরা যদি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রই  করব কিংবা তাঁর শত্রুই হব তাহলে তিনি আমাদের প্রায়ই ফোন দেন কেন? ফোন দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেন কেন? তিনি ফোনে যা বলেছেন তা রেকর্ড হয়ে রয়েছে।”

কাজী আজিমউদ্দিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন-অর-রশিদ হওলাদার বলেন, “ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিকট হতে কোনো টাকা আদায় না করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি কড়া নির্দেশনা রয়েছে। আমার আদেশ ভঙ্গ করে আমিন কোনো শিক্ষার্থীর নিকট হতে টাকা গ্রহণ করে থাকলে তা গভর্ণিং বডির সভায় উপস্থাপন করব।”

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার  বলেন, “ব্যবহারিক পরীক্ষায় কোনো অতিরিক্ত ফি নেয়ার বিধান নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইএ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে